/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-1-2025-11-29-19-01-00.jpg)
Skipping Breakfast: ব্রেকফাস্ট এড়ালে হয় নানা ক্ষতি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-2-2025-11-29-19-01-16.jpg)
প্রতিদিন খান ব্রেকফাস্ট
Skipping Breakfast: নিয়মিত সকালে ব্রেকফাস্ট না খাওয়া অনেকের কাছেই আজ একটি সাধারণ অভ্যাস। ব্যস্ত জীবন, তাড়াহুড়ো করে বের হওয়া বা ওজন কমানোর ভুল ধারণার জন্য অনেকেই মনে করেন ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া কোনও বড় সমস্যা নয়। কিন্তু গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের প্রথম খাবার বাদ দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শরীরে শক্তির জোগান, হরমোনের ভারসাম্য, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, মেটাবলিজম—এ সবই ব্রেকফাস্টের ওপর নির্ভর করে। তাই নিয়মিত ব্রেকফাস্ট না খেলে যে ক্ষতিগুলি ঘটে, তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-3-2025-11-29-19-01-43.jpg)
ব্রেকফাস্টের উপকারিতা
দিনের শুরুতে আমাদের শরীর রাতভর উপবাসে থাকে। ঘুমের সময় শরীর শক্তি ব্যবহার করে, কিন্তু বাইরের কোনও খাবার পায় না। সকালে ব্রেকফাস্ট সেই শক্তির ঘাটতি পূরণ করে এবং শরীরকে দিনের জন্য প্রস্তুত করে। তাই ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে সবার আগে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয়। গ্লুকোজ কমে গেলে মাথা ঝিমঝিম করা, দুর্বল লাগে, মেজাজ খারাপ হয়, একাগ্রতা কমে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয়। এমনকী দুপুরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। শরীর যখন দীর্ঘ সময় খাবার পায় না, তখন ক্ষুধাজনিত হরমোন গ্রেলিন অত্যধিক বেড়ে যায় এবং মানুষ চটজলদি বেশি খাবার খেয়ে ফেলে। এতে ওজন কমার বদলে উলটে বাড়তে থাকে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-4-2025-11-29-19-02-10.jpg)
ব্রেকফাস্ট না খাওয়ার অপকারিতা
ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে মেটাবলিজমেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। আমাদের শরীর খাবার থেকে শক্তি পায় এবং সেই শক্তি ব্যবহারের হারকে বলা হয় মেটাবলিজম। সকালে খাবার না পেলে শরীর ‘এনার্জি কনজারভেশন মোড’-এ চলে যায়। অর্থাৎ শরীর শক্তি খরচ কমিয়ে দেয় যেন কম খেয়ে টিকে থাকতে পারে। ফলে দিনের বাকি সময়ে ক্যালোরি পোড়ার হার কমে যায়। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা অনেকে মনে করেন ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে ভালো ফল পাবেন। কিন্তু, আসলে এতে ওজন আরও ধীরে কমে, পেটের মেদ বাড়তে থাকে এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-5-2025-11-29-19-02-36.jpg)
মস্তিষ্কের ভূমিকা
মস্তিষ্কের কাজেও ব্রেকফাস্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাত্রির দীর্ঘ বিরতির পরে সকালের খাবার না পেলে ব্রেন পর্যাপ্ত গ্লুকোজ পায় না, যা নিউরন বা মস্তিষ্ক কোষের প্রধান জ্বালানি। ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সমস্যা, এমনকী সারাদিন ক্লান্ত লাগার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষত যাঁরা পড়াশোনা করেন বা মস্তিষ্কনির্ভর কোনও কাজ করেন, তাঁদের জন্য ব্রেকফাস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-6-2025-11-29-19-03-05.jpg)
হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে
ব্রেকফাস্ট বাদ পড়লে হৃদরোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্রেকফাস্ট না করা লোকেদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা বেশি দেখা যায়। এসবই হৃদরোগের মূল কারণগুলোর একটি। শরীরের হরমোনগুলি একসঙ্গে কাজ করে হৃদয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখে। কিন্তু খাবার না খেলে সেই হরমোনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/breakfast-7-2025-11-29-19-03-59.jpg)
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং ব্রেকফাস্ট
রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও ব্রেকফাস্টের সঙ্গে জড়িত। সকালে খাবার না খেলে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে কম প্রবেশ করে। রোগ-প্রতিরোধী কোষের কাজ কমে যায়। এতে সংক্রমণ, সাধারণ অসুখ-বিসুখ, সর্দি-কাশি, শরীর খারাপ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। নিয়মিত ব্রেকফাস্ট খেলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/05/07/G6MVgGB39yAPQaQs6wn3.jpg)
খাদ্যাভ্যাসে নেতিবাচক প্রভাব
ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে সারাদিনের খাদ্যাভ্যাসেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সাধারণত যাঁরা ব্রেকফাস্ট করেন না, তাঁরা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি চিনি, বেশি তেল বা বেশি কার্বহাইড্রেটযুক্ত খাবারের দিকে ঝোঁকেন। কারণ শরীর দ্রুত শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য ভুল সংকেত দেয়। এতে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয় এবং ওজন বাড়ার পাশাপাশি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2024/11/21/VRgVrUFFpIvFqkfm0kCh.jpg)
বায়োলজিক্যাল ক্লককে নিয়ন্ত্রণ
সকালের নাশতা শুধু খাবার নয়—এটি শরীরের রুটিন বা বায়োলজিক্যাল ক্লককে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রতিদিন একটি সুষম ব্রেকফাস্ট—যেমন ডিম, ওটস, ফল, বাদাম, দুধ বা দই—শরীরকে সারাদিন প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। যাঁরা নিয়মিত ব্রেকফাস্ট করেন, তাঁরা সারাদিন বেশি সক্রিয় এবং মানসিকভাবে স্থির থাকেন। ব্রেকফাস্ট শরীরের শক্তি ধরে রাখে, মনোযোগ বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জীবনের মান উন্নত করে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us