/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/sleep-behaviours-2025-11-23-11-22-43.jpg)
Sleep Behaviours: ঘুম দেখে যায় চেনা।
Sleep Behaviours: আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অনুভূতি, চাপ, ক্লান্তি, উত্তেজনা এবং মানসিক অবস্থা সামলে চলে। দিনের এই সমস্ত অভিজ্ঞতা রাতের ঘুমের মাধ্যমে পুনর্গঠিত হয়। কিন্তু যখন শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়, তখন ঘুমে একাধিক অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। রাতে ঘুমের সময় আমাদের শরীর বাইরে থেকে নিষ্ক্রিয় দেখালেও ভেতরে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা কাজ করে, যা শরীরকে মেরামত করে, শক্তি সঞ্চয় করে এবং মনকে শান্ত করে। কিন্তু এই ব্যবস্থার কোথাও ব্যাঘাত ঘটলে ঘুম আর প্রশান্তি নিরবচ্ছিন্ন থাকে না। অনেকেই লক্ষ্য করেন যে রাতভর ঘুমানোর পরও সকালে উঠে ক্লান্তি কাটে না। এর কারণ সাধারণত স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরে জমে থাকা উদ্বেগ, চাপ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
এই বিষয়গুলোতে নজর রাখা দরকার
অনেক সময় দেখা যায়, কেউ রাতে ঘুম থেকে উঠে নিজের শরীরকে ঘামে ভিজে থাকতে দেখেন। সাধারণ অবস্থায় গভীর ঘুমে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু যখন শরীর অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে, তখন ভেতরের উত্তেজনামূলক রাসায়নিক বেড়ে যায়। এগুলো শরীরকে ভুল সময়ে সক্রিয় করে তোলে, যার ফলে শরীর ঠান্ডা হওয়ার বদলে উষ্ণ হয়ে ঘাম ঝরায়। এটি স্পষ্ট সংকেত যে শরীর ভেতরে ভেতরে চাপময় অবস্থায় রয়েছে এবং পুরোপুরি শিথিল হতে পারছে না।
আরও পড়ুন- চিকিৎসক হতে গিয়ে হয়েছিলেন বিজ্ঞানী, প্রয়াণদিবসে জানুন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নানা অজানা কথা!
কেউ কেউ অজান্তেই দাঁত ঘষেন বা চোয়াল শক্ত করে ধরে রাখেন। এই আচরণ দিনের জমে থাকা মানসিক চাপের প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়। শরীর যখন শিথিল হতে পারে না, তখন তা চোয়ালের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রকাশ করে। অনেক সময় এটি পেটের অস্বস্তি, উদ্বেগ বা গভীর ঘুমে না যেতে পারার কারণেও হতে পারে। আবার দুঃস্বপ্ন দেখা বা অস্বাভাবিকভাবে ভয়াবহ স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে মস্তিষ্ক এখনও দিনের চাপ ও আবেগ প্রক্রিয়াজাত করতে পারছে না। স্বপ্নের জগৎ তখন একধরনের অশান্ত প্রতিক্রিয়ায় পূর্ণ হয়।
আরও পড়ুন- ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নতুন শব্দগুলো কী?
অনেকের ঘুমের ভঙ্গিতে দেখা যায় হাত-পা গুটিয়ে রাখা, যেন নিজের শরীরকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন। ঘুমের মধ্যে কথা বলা আরেকটি পরিচিত আচরণ, যা সাধারণত মানসিক অস্থিরতা বা চাপা আবেগের বহিঃপ্রকাশ। শরীর যদিও ঘুমিয়ে থাকে, মন তখনও নানা অনুভূতি, দুশ্চিন্তা বা চিন্তা প্রক্রিয়াকরণে ব্যস্ত থাকে। আরও গুরুতর একটি আচরণ হল ঘুমের মধ্যে হাঁটা। শরীরের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ তখন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং শরীর অপ্রয়োজনীয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। যা স্পষ্টভাবে দেখায়, স্নায়ুতন্ত্রের ভেতর অতিরিক্ত চাপ কাজ করছে।
আরও পড়ুন- মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বশের ছোটবেলার গল্প, শুনলে চোখে জল আসতে বাধ্য!
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া। কখনও পেটের সমস্যা, কখনও হরমোনের ওঠানামা, কখনও অজানা উদ্বেগ—এইসব কারণে গভীর ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়ে গেলে পরদিন শরীর ভারী লাগে, মনোযোগ কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং সারাদিন ধরে শক্তির অভাব অনুভূত হয়। আবার অনেকে রাতে শুয়েও বারবার পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করেন কিন্তু ঘুম আসে না। এটি সাধারণত শরীরের দেহঘড়ির অস্থিরতা এবং চাপ-হরমোন রাতের বেলা বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়।
আরও পড়ুন- বাজার থেকে গাজর কিনতে ভুলবেন না, মিষ্টি নাকি তেতো বুঝবেন কীভাবে?
স্নায়ুতন্ত্রকে স্থিতিশীল রাখতে হলে জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন আনা জরুরি। দিনের শেষে ধীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত শান্ত হয় এবং মন স্থির হয়। শোবার আগে উজ্জ্বল আলো বা ইলেকট্রনিক পরদা দেখা কমালে মস্তিষ্ক বিশ্রামের নির্দেশ পায়। নির্দিষ্ট সময়ে শোয়া-ওঠার অভ্যাস দেহঘড়িকে সঠিক ছন্দে ফিরিয়ে আনে। অনেকে শোবার আগে মুখে ঠান্ডা জল ছিটিয়ে নেন বা হালকা ঠান্ডা জলে স্নান করলে শরীর দ্রুত শান্ত হয়। মাটিতে খালি পায়ে হাঁটা, হাতে মসৃণ বা খসখসে বস্তুর স্পর্শ অনুভব করা, শরীরের ভর মাটিতে টের পাওয়া—এগুলো মন ও শরীরকে স্থির করে।
গান গাওয়া, গুনগুন শব্দ করা শরীরকে গভীরভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাবার খাওয়া, রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা, দৈহিক ব্যায়াম- ঘুম ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। শরীরের ভরসাযোগ্য বিশ্রাম আসে তখনই, যখন স্নায়ুতন্ত্র নিরাপদ বোধ করে। তাই ঘুমের ছোট ছোট আচরণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলোই শরীরের ভেতরকার অস্থিরতা বা ভারসাম্যহীনতার প্রাথমিক সংকেত দেয় এবং ঠিক সময়ে এগুলো বুঝতে পারলে জীবনযাপনে ছোট পরিবর্তন এনে গভীর, শান্ত জীবন উপহার দেয়। আর, স্নায়বিক শান্তির পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us