/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/09/sleep-hacks-2025-11-09-21-23-04.jpg)
Sleep Hacks: কী করে দূর করবেন ঘুমের সমস্যা?
Sleep Hacks: রাতে ঘুম না আসা আজকের ব্যস্ত জীবনের এক সাধারণ সমস্যা। ঘুম মাঝরাতে ভেঙে গেলে বা বারবার বিছানায় গড়িয়ে কাটালে পরদিন মাথা ভারী লাগে, মনোযোগ কমে যায় এবং শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। নিউরোলজিস্ট ডা. যতীন সগভেকর ও ডা. শীতল গোয়েল জানিয়েছেন এমন ৮টি সহজ ও কাজের ঘুম আসার কায়দা (Sleep Hack) আছে, যা আপনাকে দ্রুত গভীর ঘুমে ডুবিয়ে দেবে।
এজন্য যেগুলো করবেন
১. নীল আলো বা Blue Light কমান
ফোন, টিভি বা এলইডি (LED) লাইট থেকে আসা নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই মেলাটোনিন হরমোনই চোখে ঘুম নিয়ে আসে। রাতে ঘুমানোর অন্তত একঘণ্টা আগে তাই স্ক্রিন অফ করুন বা 'নাইট মোড' (Night Mode) ব্যবহার করুন।
আরও পড়ুন- শীতে প্রচুর মেলে, সবগুলোই উপকারি, কিন্তু আমলকি নাকি অ্যাভোকাডো আপনার জন্য কোনটা বেশি ভালো?
২. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ওঠা
'ধারাবাহিকতাই সব' (Consistency is king)- এমনটাই জানিয়েছেন ডা. সগভেকর। প্রতিদিন একই সময়ে শুতে যাওয়া ও ঘুম থেকে উঠতে পারলে শরীরের সারকাডিয়ান রিদম (circadian rhythm) ঠিক থাকে। এতে মস্তিষ্ক নিয়মিত সময়েই ঘুমের সংকেত পায়। ফলে সহজে ঘুম আসে।
আরও পড়ুন- ওজন কমাতে হাঁটছেন, জানেন হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত? বিস্তারিত জানুন এখানে
৩. ঘুম-সহায়ক খাবার খান
চেরি বা টার্ট চেরি জুস, বাদাম (Almonds) ও কলা (Banana) ঘুম আনার জন্য দারুণ। এগুলোতে মেলাটোনিন, ম্যাগনেসিয়াম ও ট্রিপটোফ্যান থাকে, যা শরীরকে রিল্যাক্স করে। তবে রাতে ভারী, মশলাদার বা টক খাবার এড়িয়ে চলুন— এগুলো হজমে সমস্যা করে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
আরও পড়ুন- সকালে দেরিতে ঘুম থেকে উঠছেন? শরীরে কী ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে, জেনে নিন চিকিৎসকের থেকে
৪. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ও গ্যাজেট দূরে রাখুন
রাউটারের বা মোবাইল ডিভাইসের কাছাকাছি ঘুমালে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (electromagnetic field, EMF) ঘুমের ধারা ব্যাহত করতে পারে। ঘুমানোর সময় ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) বন্ধ রাখুন এবং ফোন বিছানা থেকে দূরে রাখুন।
আরও পড়ুন- সাবধান! বিনা সংকেতে নীরবে হানা দিচ্ছে স্ট্রোক, বিরাট ক্ষতি হচ্ছে, কী দেখে হবেন সতর্ক?
৫. ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
ডা. শীতল গোয়েলের মতে, ধ্যান (Meditation) মন শান্ত রাখে, উদ্বেগ কমায় এবং শরীরকে ঘুমের উপযুক্ত অবস্থা দেয়। ঘুমের আগে কয়েক মিনিট, ডিপ ব্রিদিং (deep breathing) বা ৪-৭-৮ ব্রিদিং (breathing) পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।
৬. লবণ এবং ব্লাড সুগারে ব্যালান্স রাখুন
অতিরিক্ত লবণ বা অনিয়মিত খাবার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘুমের অভাবে কর্টিসল বেড়ে যায়, যা রক্তের গ্লুকোজ মেটাবলিজম নষ্ট করে। সুষম আহার ও সময়মতো খাওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।
৭. পা রাখুন গরমে, ঘর রাখুন ঠান্ডায়
শরীরের তাপমাত্রা কমলে ঘুম দ্রুত আসে। তাই ঘর রাখুন ১৮° সেলসিয়াস (C)-এর আশপাশে। আর পায়ে দিন নরম গরম মোজা। এতে শরীরের থার্মোরেগুলেশন (thermoregulation) ঠিক থাকে, ঘুমও গভীর হয়।
৮. মন শান্ত রাখুন
চাপ, চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতা ঘুমের শত্রু। প্রতিদিন কিছু সময় রাখুন নিজের জন্য। ডায়েরি লিখুন, বই পড়ুন, বা মৃদু সংগীত শুনুন। এতে কর্টিসল কমবে এবং মনও স্থির হবে।
মাথায় রাখবেন, ঘুম কোনও বিলাসিতা নয়। এটা হল শরীরের প্রাকৃতিক রিফ্রেশ বাটন। সঠিক ঘুম শরীর, মন ও ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই এই ৮টি এক্সপার্ট-অ্যাপ্রুভড স্লিপ হ্যাক (Sleep Hack) মেনে চললে বিছানায় শুলেই চোখে ঘুম চলে আসবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us