/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-1-2025-12-11-19-37-37.jpg)
Sleepiness Causes: ঝিমুনির পিছনে গোপন কারণ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-2-2025-12-11-19-38-55.jpg)
গভীর কারণ
Sleepiness Causes: অনেকেই এমন একটি সমস্যার মুখোমুখি হন যেখানে সারাদিন ধরে একটি অদ্ভুত ঘুম ঘুম ভাব লেগে থাকে। আট ঘণ্টা ঘুমোনোর পরও যেন শরীর তরতাজা হয় না, বরং মাথা ভারি লাগে, চোখ জুড়িয়ে আসে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বারবার ভেঙে যায়। অনেকসময় আমরা ধরে নিই যে কম ঘুমানোর কারণেই এমন হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এই সমস্যা শুধুমাত্র ঘুমের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না; বরং শরীরের ভিতরে আরও কয়েকটি গভীর কারণ লুকিয়ে থাকে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-3-2025-12-11-19-39-17.jpg)
শরীরে জলের অভাব
প্রথম কারণটি হল শরীরে জলের অভাব। শরীর অল্পমাত্রায়ও জলশূন্য হয়ে পড়লে রক্তপ্রবাহ ধীর হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছতে সমস্যা হয়। এর ফলে মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্লান্ত বোধ করে। অনেকেই ভাবেন পিপাসা পেলেই জল খাওয়ার দরকার হয়, কিন্তু জলশূন্যতা তার আগেই শুরু হয়ে যায়। সারাদিন কম জল পান করার কারণে স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর দুর্বল হতে থাকে। ফলে ঘুম ঘুম ভাব আরও বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত জলপান সারাদিন শক্তি ধরে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-4-2025-12-11-19-39-43.jpg)
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
দ্বিতীয় বড় কারণ হল শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। যাঁরা প্রতিদিন কিছুটা হাঁটেন না, শরীরচর্চা করেন না, বা সারাদিন বসে কাজ করেন—তাঁদের পেশিগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। শরীরের শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতাও কমে যায়। অদ্ভুত হলেও সত্যি, অল্প মাত্রার নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম ঘুমের মান বাড়ায়, শরীরকে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ঝিমুনি কাটাতে সাহায্য করে। যখন এসব কিছুই না করা হয়, তখন শরীর স্বাভাবিক ছন্দ হারায় এবং সারাদিন ঘুমঘুম লাগে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-5-2025-12-11-19-40-10.jpg)
শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকা
শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না থাকাও একটি বড় সমস্যা। আয়রন, বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি রক্তের গুণগত মান কমিয়ে দেয়, যার ফলে শরীরে শক্তি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিদিন অনিয়মিত খাওয়া, অল্প খাবার, জাঙ্ক ফুডের ওপর নির্ভর করা এবং ফল বা সবজির অভাব—এসবই ক্লান্তি বাড়ায় এবং সারাদিন মানুষকে দুর্বল করে রাখে। খাবার ঠিক না থাকলে শরীর কখনও যথেষ্ট শক্তি পায় না এবং ঘুম ঘুম ভাব স্থায়ী হয়ে যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-6-2025-12-11-19-40-52.jpg)
অনিয়মিত ঘুম
আরেকটি সাধারণ কারণ হচ্ছে অনিয়মিত ঘুম। রাত জাগা, ঘুমের সময় ঠিক না রাখা, শোওয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল দেখা—এসব কারণে শরীর গভীর ঘুমে পৌঁছতে পারে না। ফলে ঘুমের ঘণ্টা যতই হোক, তার মান খারাপ হয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনে হয় বিশ্রাম হয়নি। এই সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সারাদিন ক্লান্তির অনুভূতি স্থায়ী হয়ে ওঠে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-7-2025-12-11-19-41-25.jpg)
ঘুমজনিত ব্যাধির লক্ষণ
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আসল কারণ আরও গভীরে লুকিয়ে থাকে। অনেক সময় রাতে অজান্তেই বারবার ঘুম ভেঙে যায়, শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় বা পায়ের অবাঞ্ছিত নড়াচড়া হয়। এগুলি বিভিন্ন ঘুমজনিত ব্যাধির লক্ষণ, যা শরীরকে গভীর ঘুমে যেতে দেয় না। বাহ্যিকভাবে মনে হয় মানুষ ভালোই ঘুমিয়েছে, কিন্তু আসলে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়নি। ফলস্বরূপ সারাদিন মনোযোগ কমে যায় এবং প্রচণ্ড ঘুম ঘুম লাগে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-8-2025-12-11-19-41-49.jpg)
মানসিক চাপ
মানসিক চাপও ঘুমঘুম ভাবের অন্যতম কারণ। দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, উদ্বেগ—এসবের কারণে শরীরে চাপজনিত রাসায়নিক বেড়ে যায়, যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। শরীর ঘুমালেও মন পূর্ণ বিশ্রাম পায় না। ফলে সকালে ওঠার সময় প্রচণ্ড অবসাদ অনুভব হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে শরীরে আরও বড় ধরনের হরমোনজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/sleepiness-causes-9-2025-12-11-19-42-17.jpg)
গভীর অসুস্থতার ইঙ্গিত
সব মিলিয়ে বলা যায়, সারাদিন ঘুম ঘুম লাগা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটি শরীরের ভিতরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার লক্ষণ। জলপান ঠিক রাখা, নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ঘুমের সময় ঠিক রাখা এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস—এসব ছোট পরিবর্তনেই ঘুমঘুম ভাব অনেকটা কমে যায়। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এটি কোনও গভীর অসুস্থতারও ইঙ্গিত হতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us