/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/09/sleeping-and-health-problem-2025-11-09-17-28-40.jpg)
Sleeping and health problem: ঘুম এবং স্বাস্থ্যের সমস্যা।
Sleeping health problem: প্রতিদিন বেলা পর্যন্ত ঘুমান? আপনি হয়তো ভাবছেন— 'আমি তো প্রতিদিন রাতে ঠিকঠাকই ঘুমাই। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?' কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, দিনের পর দিন বেলা পর্যন্ত ঘুম আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি (Circadian Rhythm)-কে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। আর এর ফলেই দেখা দিতে পারে নানান শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা।
চিকিৎসক যা জানিয়েছেন
মুম্বইয়ের গ্লেনিগলস হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মঞ্জুষা আগরওয়াল বলেছেন, 'যখন আমরা প্রতিদিন বেলা পর্যন্ত ঘুমাই, তখন শরীরের ঘড়ি দেরিতে সরে যায়। এতে ঘুম, হরমোন, বিপাকক্রিয়া এবং মনোযোগ—সব কিছুরই ভারসাম্য নষ্ট হয়।' তাঁর মতে, যদি কেউ রাতে খুব দেরিতে শুয়ে মোট ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমান, তাঁর ক্ষেত্রেও ঘুমের সময়ের পরিবর্তনের কারণে শরীরে একধরনের সোশ্যাল জেটল্যাগ (social jetlag) তৈরি হয়, যা দিনের কাজের সময় মনোযোগ এবং এনার্জি কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- সাবধান! বিনা সংকেতে নীরবে হানা দিচ্ছে স্ট্রোক, বিরাট ক্ষতি হচ্ছে, কী দেখে হবেন সতর্ক?
বেলা পর্যন্ত ঘুমানোর অভ্যাসে— সকালে সূর্যালোকের অভাব ঘটে, ফলে ভিটামিন ডি (Vitamin D)-এর ঘাটতি বাড়ে। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মুড সুইং ও বিষণ্ণতা তৈরি হয়। রাতে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সকালের ব্যায়াম বাদ পড়ে, ফলে ওজন বৃদ্ধি ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে। মনোযোগ ও সতর্কতা কমে যায়, ক্লান্তি সারাদিন লেগে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
আরও পড়ুন- সুরসাধিকা, যিনি সময়ের ওপারেও সুরের জাদুতে বেঁচে আছেন!
চিকিৎসকদের মতে, কম সূর্যালোক মানে কম সেরোটোনিন (serotonin), যা মন ভালো রাখে। ফলে নিয়মিত দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা মানুষদের মধ্যে মানসিক ক্লান্তি ও অবসাদের প্রবণতা বেড়ে যায়। এছাড়া সামাজিক ও পেশাগত জীবনেও সমস্যা দেখা দেয়। কারণ শরীরের ঘড়ি সমাজের সময়সূচির সঙ্গে তালমিলিয়ে চলে না।
আরও পড়ুন- রাতে ঘুমানোর আগে চোখের নীচে লাগান এই দুই তেল, একবারেই দূর হবে কালো দাগ
ডা. আগরওয়ালের মতে, এই সমস্যা থেকে বেরোতে হলে জীবনযাপনের কিছু সহজ নিয়ম মানা জরুরি। সেগুলো হল- প্রতিদিন একই সময়ে শুতে ও উঠতে অভ্যস্ত হওয়া উচিত। সকালে ১০–১৫ মিনিট সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকা উচিত। ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমান উচিত। দিনে নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
আরও পড়ুন- অতিরিক্ত মদ্যপানের পর কেন ওঠে হেঁচকি? গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট যা জানিয়েছেন, অনেকেরই জানা জরুরি
যদি কেউ নিয়মিত ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, মন খারাপ থাকে বা সারাদিন ঘুমঘুম ভাব অনুভব করেন— তাহলে সেটা হাইপারসোমনিয়া (Hypersomnia) বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ঘুম শরীরের রিসেট বাটন। কিন্তু সময়ের ভারসাম্যই এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো শরীরের ছন্দ, মনোযোগ এবং মানসিক শান্তি সবকিছুর ওপরই প্রভাব ফেলে। তাই সকালবেলার আলো মাখা এবং ঘুমের নিয়ম মেনে চলাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি বলে তিনি জানিয়েছেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us