Smoking Risk: দিনে মাত্র ২টি সিগারেটেই দ্বিগুণ বাড়ছে হৃদরোগ, চরম সতর্ক করল গবেষণা!

Smoking Risk: মাত্র ২–৫টি সিগারেট প্রতিদিন খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ছে। গবেষণা বলছে, ধূমপান ছাড়ার পরও স্বাভাবিক হতে লাগে কমপক্ষে ৩০ বছর। জানুন বিস্তারিত।

Smoking Risk: মাত্র ২–৫টি সিগারেট প্রতিদিন খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়ছে। গবেষণা বলছে, ধূমপান ছাড়ার পরও স্বাভাবিক হতে লাগে কমপক্ষে ৩০ বছর। জানুন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Smoking Risk: ধূমপান কতটা ক্ষতিকারক, জানলে শিউড়ে উঠবেন!

Smoking Risk: ধূমপান কতটা ক্ষতিকারক, জানলে শিউড়ে উঠবেন!

Smoking Risk: ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে বাস্তব ক্ষতির মাত্রা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। অনেকেই মনে করেন দিনে মাত্র এক–দু’টি সিগারেট খেলে তেমন ক্ষতি হয় না, অথবা কম সিগারেট খাওয়া মানেই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অভ্যাস। কিন্তু নতুন গবেষণা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল। কারণ দিনে মাত্র দুই থেকে পাঁচটি সিগারেট খেলেই হৃদরোগের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায় এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ কম সিগারেট খাওয়ার মধ্যেও মারাত্মক বিপদ লুকিয়ে থাকে।

Advertisment

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান সম্পূর্ণ বন্ধ না করলে হৃদযন্ত্র কখনোই আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে না। এমনকী, প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পরও অনেক তরুণ রোগী সিগারেট সম্পূর্ণ ছাড়তে পারেন না। তাঁরা মনে করেন, দিনে একটি বা দুটি সিগারেট খেলে হয়তো ক্ষতি কম হবে এবং ধীরে ধীরে অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হবে। কিন্তু গবেষণার তথ্য বলছে, একটিও সিগারেট নিরাপদ নয়। কারণ দীর্ঘদিনের নিকোটিন জমে থাকা ক্ষতি শরীর থেকে পরিষ্কার হতে সময় নেয় বিশ বছর বা তারও বেশি। আর প্রতিদিন কম পরিমাণে সিগারেট খেলেও সেই ক্ষতির ওপর আবার নতুন ক্ষতি যুক্ত হতে থাকে।

আরও পড়ুন- শীতের দিনে শরীর গরম ও স্বাস্থ্যকর রাখতে কোন ফলের রেসিপি অবশ্যই ট্রাই করবেন?

Advertisment

নতুন গবেষণাটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিন লক্ষাধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, যাঁরা কখনও ধূমপান করেনি তাঁদের তুলনায় দিনে দুই থেকে পাঁচটি সিগারেট খাওয়া মানুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে ৬০ শতাংশ। যাঁরা দিনে ১১ থেকে ১৫টি সিগারেট খাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮৪ শতাংশ বেশি এবং অকালমৃত্যুর সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। অর্থাৎ কম ধূমপান কিংবা মাঝারি ধূমপান — কোনো মাত্রাতেই তাঁরা নিরাপদ নন।

আরও পড়ুন- মেয়াদ শেষের আগেই আপনার ওষুধ নষ্ট হয়ে যায়নি তো? বুঝবেন কী করে, কীভাবেই বা রাখবেন ঠিকঠাক?

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ধূমপান বন্ধ করার পর প্রথম ২০ বছর ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। তবুও সম্পূর্ণভাবে একজন অ-ধূমপায়ীর সমান স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর। অর্থাৎ আপনি আজ ধূমপান ছাড়লেও শরীরকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়। এই সময়টিতে রক্তনালির ক্ষতি ধীরে ধীরে ঠিক হয় এবং হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করতে শেখে। তবে বিপদ কমলেও পুরোপুরি ঝুঁকি খুব তাড়াতাড়ি কাটে না।

আরও পড়ুন- স্টেরয়েড না নিলেই চরমে উঠছে হাঁপানির সমস্যা? দুর্দান্ত সমাধান এবার হাতের মুঠোয়

ধূমপান কীভাবে হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তার ব্যাখ্যাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের নিকোটিন রক্তকে আঠালো করে তোলে, যার ফলে রক্ত ঘন হয়ে যায় এবং সহজেই জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই জমাট রক্ত কখনও হঠাৎ করেই ধমনীতে বাধা তৈরি করতে পারে, যা সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। এছাড়া নিকোটিন রক্তনালির সূক্ষ্ম আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে সেখানে প্রদাহ হয় এবং এই প্রদাহের কারণে ধমনীতে জমে থাকা চর্বি বা প্লাক সহজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে মারাত্মক ব্লকেজ তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে নিকোটিন শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার কারণে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ হঠাৎ করে ওঠানামা করে। এই চাপ হৃদযন্ত্রকে দ্রুত ক্লান্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।

আরও পড়ুন- দূষণে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, ফুসফুস সুস্থ রাখবে এই সাধারণ ফল, সবজি

সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা কার্বন মনোক্সাইডও সমানভাবে ক্ষতিকারক। এটি রক্তে অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে হৃদযন্ত্রকে একই কাজ করতে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এই বাড়তি চাপ ধমনী ও হার্টকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীরের একাধিক অঙ্গের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এই ক্ষতি সারাতে বহু বছর সময় লাগে। এমনকী, ধূমপান বন্ধ করার পরও পূর্ণ ক্ষত সারতে কয়েক দশক লেগে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান কমানো কোনও সমাধান নয়। সমাধান হল, সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করা। কারণ যত দ্রুত অভ্যাস ছাড়বেন, তত দ্রুত ঝুঁকি কমবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হৃদরোগ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা যাবে। ধূমপান ছাড়ার প্রতিটি দিন আপনার হৃদযন্ত্রকে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার একধাপ কাছে নিয়ে যায়।

risk smoking