Soumitra Chatterjee: প্রয়াণ দিবসে অজানা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়‍! কিংবদন্তি অভিনেতাকে ফিরে দেখা

Soumitra Chatterjee: ১৫ নভেম্বর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। তাঁর জীবন, কর্ম, অভিনয়, পুরস্কার, থিয়েটার–চলচ্চিত্রে অবদান এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর উত্তরাধিকার সম্পর্কে এগুলো জানেন?

Soumitra Chatterjee: ১৫ নভেম্বর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। তাঁর জীবন, কর্ম, অভিনয়, পুরস্কার, থিয়েটার–চলচ্চিত্রে অবদান এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তাঁর উত্তরাধিকার সম্পর্কে এগুলো জানেন?

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Soumitra Chatterjee: প্রয়াণ দিবসে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ।

Soumitra Chatterjee: প্রয়াণ দিবসে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ।

Soumitra Chatterjee Death Anniversary: আজ ১৫ নভেম্বর— কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস। বাংলা চলচ্চিত্র, নাট্যশিল্প, আবৃত্তি, সাহিত্য ও অনুবাদের জগত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর মত বহুমাত্রিক শিল্পী বাংলায় খুব কমই জন্মেছেন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি এই শিল্পীর জীবন, সংগ্রাম, শিল্পযাত্রা এবং উত্তরাধিকারকে।

Advertisment

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি, অধুনা বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদি শেকড়। পরে পরিবারের সদস্যরা নদিয়ার কৃষ্ণনগরে স্থায়ী হন। সৌমিত্রের শৈশব কেটেছে কৃষ্ণনগর ও হাওড়ায়। বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি হাওড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।

আরও পড়ুন- রাতের এই ৪ অভ্যাসেই দফারফা হচ্ছে আপনার ঘুমের? এখনই না ছাড়লে ছারখার হতে পারে জীবন!

Advertisment

এরপর কলকাতায় সিটি কলেজে আইএসসি এবং পরে বাংলা নিয়ে বি.এ অনার্স করেন। উচ্চশিক্ষা চলাকালীন নাট্যবিশারদ শিশির ভাদুড়ির সঙ্গে পরিচয় তাঁর জীবন বদলে দেয়। এখান থেকেই তিনি অভিনয়কে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।

কর্মজীবন

সৌমিত্র প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ঘোষক হিসেবে। পাশাপাশি থিয়েটারের প্রতি তাঁর ছিল গভীর ভালোবাসা। ১৯৫৭ সালে তিনি 'নীলাচলে মহাপ্রভু' ছবিতে অডিশন দিলেও সুযোগ পাননি। কিন্তু ভাগ্যের দরজা খুলে যায় যখন সত্যজিৎ রায় তাঁকে 'অপুর সংসার'-এর জন্য নির্বাচিত করেন। ১৯৫৯ সালে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্রে ইতিহাস গড়ে।

আরও পড়ুন- আপনার ওজন কি বেশি? সঠিক কত হওয়া উচিত ছিল, দেখে নিন চার্ট

সত্যজিৎ রায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক ছিল স্রষ্টা ও শিল্পীর অদ্ভুত এক বন্ধন। রায়ের ১৪টি চলচ্চিত্রে (Cinema) তিনি অভিনয় করেন এবং প্রতিটি চরিত্রেই প্রমাণ করেন তাঁর বহুমুখী অভিনয় ক্ষমতা। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য- অপুর সংসার, তিন কন্যা, অরণ্যের দিনরাত্রি, শাখা প্রশাখা, সোনার কেল্লা (ফেলুদা), জয় বাবা ফেলুনাথ। সৌমিত্রের সৌন্দর্য, অভিব্যক্তি এবং দৈহিক ভাষার সঙ্গে তুলনা টেনে সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, 'তরুণ বয়সের রবীন্দ্রনাথ'।

আরও পড়ুন- প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এই তেল লাগান, পা হবে তুলোর মতো নরম!

বাংলার জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’কে প্রথম বড়পর্দায় রূপ দেন সৌমিত্র। 'সোনার কেল্লা' ও 'জয় বাবা ফেলুনাথ'— এই দুই ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও অতুলনীয়। এতটাই সফল অভিনয় যে সত্যজিৎ রায় পরে স্বীকার করেন— 'এর চেয়ে ভালো ফেলুদা আর কেউ হতে পারত না।' চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি লিখেছেন নাটক, কবিতা ও সাহিত্যগ্রন্থ। তাঁর অভিনীত/নির্দেশিত কিছু উল্লেখযোগ্য নাটক হল— তাপসী, নামজীবন, নীলকণ্ঠ, দর্পণে শরৎশশী, টিকটিকি, প্রাণতপস্যা, শেষের কবিতা (শ্রুতিনাটক)। 

আরও পড়ুন- চায়ের গুঁড়ো দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ভেষজ হেয়ার ডাই, চুল করুন কুচকুচে কালো!

বইয়ের তালিকায় আছে— শ্রেষ্ঠ কবিতা, মানিকদার সঙ্গে, চরিত্রের সন্ধানে, প্রতিদিন তব গাঁথা, কবিতা সমগ্র। তাঁর অভিনয় ও শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (২০১২), পদ্ম ভূষণ (২০০৪), লিজিওন অফ অনার (২০১৭-ফ্রান্স), জাতীয় পুরস্কার, বঙ্গবিভূষণ। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি পেয়েছেন। 

২০২০ সালের অক্টোবর মাসে কোভিড–১৯ এ আক্রান্ত হয়ে তাঁর শারীরিক অবনতি শুরু হয়। বেলভিউ হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১৫ নভেম্বর ২০২০, দুপুর ১২টা ১৫ নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। গান স্যালুটে কেওড়াতলার মহাশ্মশানে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় শুধু একজন অভিনেতা নন—তিনি বাংলা সংস্কৃতির এক যুগপ্রবর্তক। তাঁর অভিনয়, বাচনভঙ্গি, সৌন্দর্য, শিল্পচিন্তা এবং ব্যক্তিত্ব আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। বাংলা চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে—সৌমিত্র চিরজীবী হয়ে থাকবেন। 

Cinema Soumitra Chatterjee Death Anniversary