/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/01/swami-vivekananda-edit.jpg)
ছবি সূত্রঃ ইউটিউব ভিডিও
সভ্যতার ইতিহাসে সময়ের চেয়ে আগে জন্মে যান কিছু মানুষ। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁদের একজন। জন্মের দেড়শ বছর পার করে আজ তাঁর ভাবনা একই রকম মুক্ত, আধুনিক এবং আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। ধর্মের নামে রাজনীতি, হিংসা, দেওয়াল গড়ে তোলা, ভাগাভাগি সবই চলছে এই ২০১৯ এও। সভ্যতা এগিয়েছে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু ধর্ম দিয়ে বিভেদ গড়া বেড়েছে বই কমেনি। বিদ্বেষের ভাষা বরং আরও বীভৎস হয়েছে। তাই এই অন্ধকার সময়ে দাঁড়িয়ে বিবেকানন্দের বাণী আরও বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়।
শিকাগোর ধর্ম সম্মেলনে দাঁড়িয়ে ১২৬ বছর আগে যা কিছু বলেছিলেন বিবেকানন্দ, তার কতটুকু আজ সত্যি? 'হিন্দু' নামের দর্শনকে রোজকার জীবনে একটু একটু করে সংকীর্ণ করে তুলতে তুলতে কোথায় এনেছি আমরা?
স্বামীজির ১৫৭তম জন্ম জয়ন্তীতে শুধু তাঁর ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই নয়, আজকের পৃথিবীতে ওঁর মুক্ত চিন্তা ছড়িয়ে দিতে প্রয়াসী বাংলা সংগীত জগতের খুব চেনা দুটি নাম - সৌম্যজিৎ-সৌরেন্দ্র। মূলত তাঁদেরই উদ্যোগে ১০ জানুয়ারি ভারতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হল অভিনব এক অনুষ্ঠান। স্বামীজিকে পূজার ছলে ভুলে থাকতে চান না ওঁরা।
তাই শুধু বিবেকানন্দের নিজের কথায়, সুরে, বাণীতে ওকে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করলেন না। 'ইন্সপায়ার ইন্ডিয়া'র মঞ্চে একদিকে শিল্পী রেখা ভরদ্বাজ গাইলেন কবীরের গজল। একই মঞ্চে কখনও গাওয়া হল 'খণ্ডন ভব বন্ধন', কখনও ঊষা উত্থুপের গলায় লেননের 'ইমাজিন', সেলিম হাসান চিস্তির গলায় আমির খসরুর গজল। এঁদের মধ্যে মিল একটাই। এঁরা সবাই ধর্ম দিয়ে দেওয়াল গড়তে নয়, ভাঙতে চেয়েছেন।
কথা হল সংগীত শিল্পী এবং 'ইন্সপায়ার ইন্ডিয়া' অনুষ্ঠানের আয়োজক ও মূল কণ্ঠশিল্পী সৌম্যজিৎ দাসের সঙ্গে। বললেন, "শিকাগোয় স্বামীজির ভাষণ নিয়ে নিজের খুব কাছের মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করেই বুঝেছি 'সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা' ছাড়া আমরা আর কিছু মনে রাখি নি। আমরা জানি বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সেই ধর্ম সম্মেলনে। কিন্তু সেই হিন্দু ধর্মের ব্যাখ্যা আমরা ভুলে গেছি। সেই হিন্দুত্বের মূল আদর্শ ছিল সবাইকে গ্রহণ করা। এ ধর্ম কাউকে বলেনি, তোমায় হিন্দু হতে হবে। অথচ আজকের ভারতবর্ষে ধর্ম নিয়ে এত রাজনীতি, এত টানাপোড়েন, এই সময়ে দাঁড়িয়ে ওঁর কথাগুলো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হল। সেই কোন সময়ে দাঁড়িয়ে বিবেকানন্দ দরিদ্র আর নারায়ণকে পাশাপাশি বসাতে পেরেছিলেন। আমরা একটু, আরও একটু সংবেদনশীল হতে পারি না কেন?"
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us