/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/21/sprouted-potato-2025-11-21-13-04-37.jpg)
Sprouted Potato: অঙ্কুরিত আলু।
Sprouted Potato: অঙ্কুরিত আলু অনেকের রান্নাঘরেই দেখা যায়, বিশেষ করে যখন আলু দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন অঙ্কুর কেটে ফেলে দিলেই বোধহয় আলু নিরাপদ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এত সহজ নয়।
অঙ্কুরিত আলুর ভিতরে এমন কিছু বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয়, যা শরীরের (health) জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই রান্না করার আগে এই বিষয়টি জানা খুবই জরুরি যে অঙ্কুরিত আলু আসলে কতটা বিপজ্জনক। যখন আলু অঙ্কুরিত হতে শুরু করে, তখন তার ভিতরে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামে কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিকের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর মধ্যে সোলানিন ও চ্যাকোনিন প্রধান।
কীভাবে বিষ ছড়ায়!
আলু যখন স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, তখন এই যৌগগুলোর পরিমাণ খুবই কম থাকে। আর, এগুলো ক্ষতিকর নয়। কিন্তু আলো, তাপ বা দীর্ঘদিন রেখে দিলে এই যৌগগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অঙ্কুর গজানোর সময় আলু নিজেকে রক্ষা করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই বেশি সোলানিন তৈরি করে, যা মানুষের জন্য বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন ফেলে দেওয়া এই সামান্য জিনিসেই পান আয়নার মত উজ্জ্বল ত্বক
এই সোলানিনের মাত্রা বেড়ে গেলে আলুর স্বাদ তেতো হয়ে যায়, রং সবুজাভ হয় এবং খোসা শক্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় মানুষ ভেবে থাকে যে সবুজ অংশ কেটে ফেললে আলু খাওয়া যাবে, কিন্তু আলুর ভেতরেও এই বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেবল অঙ্কুর ফেলে দিয়ে রান্না করলে ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। সোলানিন শরীরের নার্ভ সিস্টেমে আঘাত করে এবং পাচনতন্ত্রে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বমি, ডায়েরিয়া, পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, জ্বর, এমনকী গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা বিষক্রিয়া পর্যন্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন- কিশোর কুমার ছিলেন জীবনসঙ্গী, কিন্তু রুমা গুহঠাকুরতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন নিজ গুণে
অঙ্কুরিত আলুর আরেকটি সমস্যা হল, এর পুষ্টিগুণ কমে যাওয়া। দীর্ঘদিন রেখে দিলে আলুর মধ্যে থাকা ভিটামিন, খনিজ, এমনকি স্টার্চও নষ্ট হয়। সেগুলো অঙ্কুর তৈরিতে ব্যয় হয়। ফলে আলু দেখতে ঠিকঠাক মনে হলেও পুষ্টির মান অনেক কমে যায়। রান্নার পরেও এই আলুর স্বাদ ভালো থাকে না, এবং শরীরে কোনো উপকার তো করেই না, বরং ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ায়।
আরও পড়ুন- এই ঘরোয়া সামান্য জিনিসেই চুল করুন মজবুত আর ঘন!
আলু দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখতে হলে সংরক্ষণ পদ্ধতির দিকেও নজর দিতে হবে। আলু কেনার সময় এর গায়ে থাকা হালকা মাটির স্তর না ধোয়াই ভালো, কারণ এই মাটিই প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে ও আলুকে দ্রুত পচন থেকে রক্ষা করে। ধুয়ে ফেললে আলুর মধ্যে আর্দ্রতা ঢুকে পড়ে, যার ফলে দ্রুত অঙ্কুর বের হয়। তাই আলু সবসময় ঠান্ডা, অন্ধকার ও হাওয়া চলাচল হয় এমন জায়গায় রাখা উচিত। সূর্যের আলো সরাসরি পড়লে আলুর খোসা সবুজ হয়ে যেতে পারে এবং তাতে আরও বেশি সোলানিন তৈরি হয়।
আরও পড়ুন- এই ৬টি ফলে থাকে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক, জানলে অবাক হবেন!
অনেকে ভুল করে আলু ফ্রিজে রাখেন, যা মোটেও ঠিক নয়। ফ্রিজের কম তাপমাত্রা আলুর স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরিত করে ফেলে। এর ফলে আলুর স্বাদ পরিবর্তিত হয়, এবং ভাজার সময় এটি দ্রুত পুড়ে যায়। এছাড়া এমন আলু খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। একইসঙ্গে আলু কখনও পেঁয়াজের পাশে রাখা উচিত নয়, কারণ পেঁয়াজ থেকে নির্গত ইথিলিন গ্যাস আলুকে দ্রুত অঙ্কুরিত করে।
কোথায় রাখবেন আলু?
সংরক্ষণের সময় প্লাস্টিকের মোড়ক বা বন্ধ পাত্র ব্যবহার করাও বড় ভুল। এতে ভেতরে আর্দ্রতা জমে যায় এবং আলু দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে। এর পরিবর্তে কাগজের ব্যাগ, কার্ডবোর্ডের বাক্স বা খোলা ফাইবার ঝুড়ি ব্যবহার করা উত্তম, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
সবশেষে মনে রাখার বিষয়, অঙ্কুরিত বা সবুজ হয়ে যাওয়া আলু কখনই খাওয়া উচিত নয়। সামান্য ক্ষতি মনে হলেও এর ঝুঁকি খুব বড়। শরীরের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও ভয়াবহ হতে পারে। তাই ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখতে তাজা, অঙ্কুরহীন, দৃঢ় ও শুকনো আলু বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us