/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/child-student-2026-01-29-20-32-03.jpg)
Study Focus Tips: শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে জেনে নিন সহজ টিপস।
Study Focus Tips: আজকের ডিজিটাল যুগে শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখা অভিভাবকদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল, টিভি, ভিডিও গেম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার টানে অনেক শিশুই বইয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে পড়াশোনাকে তারা দায়িত্ব বা বোঝা বলে মনে করতে শুরু করে। অথচ পড়াশোনা যদি জোর করে চাপিয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তাহলে শিশুরা নিজের থেকেই বইয়ের দিকে ফিরে আসে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে পড়াশোনাই হয়ে উঠতে পারে তাঁদের প্রিয় সময় কাটানোর মাধ্যম।
শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা। প্রতিদিন একই সময়ে পড়াশোনায় বসার অভ্যাস শিশুর মনের মধ্যে একটি স্বাভাবিক প্রস্তুতি তৈরি করে। শুরুতে অল্প সময় ধরে পড়াশোনা করানো উচিত, যাতে শিশুর ওপর মানসিক চাপ না পড়ে। ধীরে, সেই সময় বাড়ালে শিশুর মন পড়াশোনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে এবং বিরক্তি কমে যায়।
পড়াশোনার পরিবেশ শিশুর মনোযোগের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। যেখানে শিশু পড়ছে, সেখানে যদি টিভির শব্দ, মোবাইলের নোটিফিকেশন বা বাড়ির কোলাহল থাকে, তাহলে মনোযোগ নষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। তাই একটি শান্ত, পরিষ্কার এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। পড়ার সময় শিশুকে অকারণে বাধা না দিয়ে তাকে নিজের মতো করে বুঝে নেওয়ার সুযোগ দিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং শেখার আগ্রহও বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন- ভালো ঘুমের জন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই ৪টি রুটিন অনুসরণ করুন, সারা দিনের ক্লান্তি ও চাপ দূর হবে
পড়াশোনাকে শুধুই বই আর খাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মজাদার করে তুললে শিশুদের আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে যায়। গল্পের মাধ্যমে পড়া বোঝানো, ছবি, চার্ট, রঙিন বই বা ফ্ল্যাশ কার্ড ব্যবহার করলে শেখা সহজ ও আনন্দদায়ক হয়। ছোটদের ক্ষেত্রে খেলাধূলার মাধ্যমে শেখানো বিশেষভাবে কার্যকর। এতে তারা না বুঝেই অনেক কিছু শিখে ফেলে এবং পড়াশোনাকে আর ভয় পায় না।
অনেক সময় দেখা যায়, শিশু চেষ্টা করলেও পরীক্ষার ফল প্রত্যাশামতো হয় না। এই অবস্থায় বকাঝকা বা তুলনা করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়। তার বদলে তার চেষ্টা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করলে সে নিজেকে মূল্যবান মনে করে এবং আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পায়। ইতিবাচক উৎসাহই শিশুর শেখার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি।
আরও পড়ুন- কফি ছাড়ায় শরীর, স্নায়ু তরতাজা! জানুন বনিতা সান্ধুর ফিটনেস ফান্ডা
বর্তমান সময়ে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা টিভি দেখার ফলে মন অস্থির হয়ে পড়ে এবং বই পড়ার ধৈর্য কমে যায়। তাই অভিভাবকদের উচিত নির্দিষ্ট সময়ের বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করতে শেখানো এবং বিকল্প হিসেবে বই পড়া বা সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা। এতে ধীরে শিশুর মন বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এই তেল লাগান, বগলের কালো দাগ ও দুর্গন্ধ ধীরে কমতে পারে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধৈর্য ও ভালোবাসা। প্রতিটি শিশু আলাদা এবং তাদের শেখার গতি এক নয়। জোর করে পড়াতে গেলে পড়াশোনার প্রতি বিরক্তি জন্মায়, কিন্তু বোঝাপড়া ও সহানুভূতির মাধ্যমে এগোলে শিশুরা নিজেরাই পড়ার আনন্দ খুঁজে পায়। অভিভাবকদের ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে শিশুর শিক্ষাজীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
দাবিত্যাগ
এই নিবন্ধে দেওয়া পরামর্শগুলি সাধারণ তথ্যের জন্য। শিশুদের পড়াশোনা বা আচরণগত কোনও গুরুতর সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us