Suchitra Mitra: জন্মেছিলেন চলন্ত ট্রেনে, কিংবদন্তি সুচিত্রা মিত্র সময়কে বেঁধেছিলেন সুরে!

Suchitra Mitra: রবীন্দ্রসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের জন্মদিনে শ্রদ্ধা। তিনি আজীবন ছুটে গিয়েছেন সুর, অভিনয়, আবৃত্তি ও শিল্পের পথে। জানুন তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা।

Suchitra Mitra: রবীন্দ্রসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী সুচিত্রা মিত্রের জন্মদিনে শ্রদ্ধা। তিনি আজীবন ছুটে গিয়েছেন সুর, অভিনয়, আবৃত্তি ও শিল্পের পথে। জানুন তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Suchitra Mitra

Suchitra Mitra: সংগীতশিল্পী সুচিত্রা মিত্র।

Artist Suchitra Mitra: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯২৪ সালে ঝাড়খণ্ডের ডিহিরি জংশন লাইনের কাছে শালবন ঘেরা গুঝান্টি রেলস্টেশনের পাশে চলন্ত ট্রেনের কামরায় জন্মেছিলেন সুচিত্রা মিত্র। জন্ম থেকেই যেন তাঁর জীবনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই 'চলা'। তিনি নিজেই বলতেন— টট্রেনে জন্মেছি তো! তাই সব সময় চলছি।'

Advertisment

শৈশবে মা সুবর্ণলতা দেবীর গান শুনে তাঁর সংগীতের প্রতি টান তৈরি হয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ সৌরিন্দ্রমোহন ছিলেন তাঁর বাবা, ফলে খুব ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। কিংবদন্তি শিল্পী পঙ্কজ মল্লিকের কাছে সংগীতের হাতেখড়ি হয়। শান্তিনিকেতনে গিয়ে সংগীতের সঙ্গে শিখেছিলেন এস্রাজ, তবলা ও সেতার।

আরও পড়ুন- কিছু প্রাণীর চোখ রাতেও জ্বলে! কারণ শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

বহুমুখী প্রতিভা

গানের পাশাপাশি অভিনয়, আবৃত্তি, নাচ, ছবি আঁকা—সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর দক্ষতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায়ই তিনি তাঁর নাটকে অভিনয় করেছিলেন। পরে অভিনয় করেছেন মুক্তধারা, বিসর্জন, তপতি, নটীর পূজা প্রভৃতি নাটকে। চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন—মৃণাল সেনের পদাতিক, ঋতুপর্ণ ঘোষের দহন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নির্মিত 'জয় বাংলা' ছবিতে।

Advertisment

আরও পড়ুন- এই পুজোয় খুশি হন শ্রীকৃষ্ণ, রক্ষা করেন ভক্তকে, কবে গোবর্ধন পূজা?

শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন। একাধিকবার পুলিশের নির্যাতনের শিকারও হন। আকাশবাণীতে জওহরলাল নেহেরুকে নিয়ে গান গাওয়ায় তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল, ফলে ছয় বছর রেডিওতে গান গাওয়ার সুযোগ পাননি।

আরও পড়ুন- বাঁশের এই ৮টি আশ্চর্যজনক তথ্য জানতেন? শুনলে চমকে যান অনেকেই

১৯৭১ সালে মুক্তিকামী বাংলাদেশে তাঁর গাওয়া রবীন্দ্রনাথের গান, 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি' অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠে এই গান যেন এক শক্তির সঞ্চার করেছিল। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক ও রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান হন। সংগীত বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেছেন এবং শেষ জীবনে রবীন্দ্রসংগীতের তথ্যকোষ প্রণয়নে মনোনিবেশ করেছিলেন।

আরও পড়ুন- পুজোয় ঘুরতে যাবেন? এই ৬ জায়গায় না ঘুরলে আপনার বেড়ানোটাই বৃথা!

ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী (১৯৭৩) সম্মান দিয়েছে। পেয়েছেন সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার (১৯৮৬), বিশ্বভারতী থেকে দেশিকোত্তম, ডি-লিট (রবীন্দ্রভারতী, যাদবপুর, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)-সহ অসংখ্য সম্মাননা। ৩ জানুয়ারি, ২০১১ সালে কলকাতার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে আজও তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য, সংগ্রামী মনোভাব এবং শিল্পের প্রতি নিবেদন কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

artist Suchitra Mitra