Supraventricular Tachycardia Symptoms: ওয়ার্কআউটের মাঝখানে হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে কী করবেন, কখন হবেন সতর্ক?

Supraventricular Tachycardia Symptoms: ভয় নয়, সতর্কতা জরুরি। ব্যায়ামের সময় হঠাৎ হৃদস্পন্দন ১৫০-এর বেশি হলে কী করবেন? এই ব্যাপারে জেনে নিন বিস্তারিত।

Supraventricular Tachycardia Symptoms: ভয় নয়, সতর্কতা জরুরি। ব্যায়ামের সময় হঠাৎ হৃদস্পন্দন ১৫০-এর বেশি হলে কী করবেন? এই ব্যাপারে জেনে নিন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Supraventricular Tachycardia Symptoms: ব্যায়ামের সময় কেন বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন?

Supraventricular Tachycardia Symptoms: ব্যায়ামের সময় কেন বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন?

Supraventricular Tachycardia Symptoms: ব্যায়াম করার সময় বা হঠাৎ দৈনন্দিন কাজের মাঝখানে বুকের ভেতর অস্বাভাবিক ধড়ফড় শুরু হলে অনেকেই সেটিকে ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা বা জলাভাবের ফল বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমন পরিস্থিতির পেছনে নির্দিষ্ট হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা কাজ করতে পারে, যার নাম সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া। এই অবস্থায় হৃদস্পন্দন আচমকা খুব দ্রুত হয়ে যায় এবং তা ধীরে নয়, হঠাৎ করেই শুরু হয়।

Advertisment

সাধারণত শরীরচর্চার সময় হার্ট রেট ধীরে বাড়ে এবং বিশ্রাম নিলে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু এই সমস্যায় হৃদযন্ত্র যেন হঠাৎ একটি সুইচ অন হয়ে যাওয়ার মতো আচরণ করে। অনেক ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন মিনিটে ১৫০ থেকে ১৭০ বা তারও বেশি হয়ে যেতে পারে, এমনকি শরীর বিশ্রামে থাকলেও। এই আকস্মিক পরিবর্তন মানুষকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে এবং অনেক সময় মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তির অনুভূতিও তৈরি হয়।

আরও পড়ুন- চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের সকালের এই পুষ্টিকর অভ্যাসে লুকিয়ে তারুণ্য, এনার্জি, উজ্জ্বল ত্বক

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হৃদযন্ত্রের ওপরের অংশে থাকা বৈদ্যুতিক সংকেতের অস্বাভাবিক চলাচল। স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদযন্ত্রে বৈদ্যুতিক সংকেত একটি নির্দিষ্ট পথে চলাচল করে, যার ফলে হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু এই অবস্থায় সেই সংকেত একটি শর্ট সার্কিটের মতো ঘুরতে থাকে, যার ফলে হৃদযন্ত্র প্রয়োজনের তুলনায় অনেক দ্রুত স্পন্দিত হয়।

আরও পড়ুন- পেটের গ্যাসে বাড়ছে ওজন? এই ৫টি যোগাসনে মেদ কমবে, হজম হবে

এই ধরনের সমস্যা অনেক সময় ব্যায়ামের মাঝখানে দেখা দেয়। এর কারণ হিসেবে শরীরচর্চা, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, শরীরে জলের ঘাটতি বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন খাওয়া দায়ী বলেই মনে করা হয়। এনার্জি ড্রিংক, প্রি-ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট বা অতিরিক্ত কফি হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও হঠাৎ এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

আরও পড়ুন- রাতে হাঁটুর ব্যথায় ঘুম উধাও? কারণ ও আরাম পাওয়ার উপায় জেনে নিন

স্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং এই সমস্যার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ দ্রুত হার্ট রেট ধীরে শুরু হয় এবং কারণটা বন্ধ হয়ে গেলে তা নিজে থেকেই কমে যায়। কিন্তু এই সমস্যায় হৃদস্পন্দন আচমকা শুরু হয় এবং একইভাবে হঠাৎ থেমেও যেতে পারে। অনেকেই এটিকে বুকের ভেতরে প্রজাপতি ওড়ার মতো অনুভূতি বা হঠাৎ দৌড় শুরু করার অনুভূতি বলে মনে করেন।

আরও পড়ুন- চিনির বদলে স্বাস্থ্যকর মিষ্টি, এগুলোর কথা জানলে আজ থেকেই বদলাবে ডায়েট!

এই অবস্থার সঙ্গে কিছু বাড়তি উপসর্গও দেখা দিতে পারে। মাথা ঘোরা, বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা অস্বস্তিকর অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এই লক্ষণগুলি সাধারণ ক্লান্তি বা দুশ্চিন্তার থেকে আলাদা এবং বারবার ঘটলে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে প্রথম কাজ হল সব ধরনের শারীরিক কার্যকলাপ বন্ধ করে শান্তভাবে বসে পড়া। আতঙ্কিত হলে হৃদস্পন্দন আরও বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, মুখে ঠান্ডা জল ছিটানো বা শরীরকে কিছুটা শান্ত করার কৌশল কাজে আসতে পারে। তবে এই সমস্যাটি যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হার্ট রেট বৃদ্ধি

চিকিৎসকরা এই সমস্যার প্রকৃত কারণ জানার জন্য কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরীক্ষায় প্রথমে রোগীর সম্পূর্ণ উপসর্গের ইতিহাস নেওয়া হয় এবং শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক ছন্দ বোঝার জন্য ইসিজি করা হয়। অনেক সময় সমস্যা দেখা না দেওয়ায় বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে হৃদযন্ত্রের গতি কয়েকদিনের জন্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক আছে কি না, তা-ও দেখা হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জীবনযাত্রার দিকে নজর দেওয়া। পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত জল পান, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা আর মানসিক চাপ কমানো এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক অভ্যাস ও চিকিৎসা করালে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ওয়ার্কআউটের সময় হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে গেলে তা সবসময় বিপজ্জনক না হলেও, বারবার ঘটলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। শরীর যে সংকেত দিচ্ছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন হলে সময়মতো চিকিৎসা করানোই দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Supraventricular Tachycardia symptoms