Stage 3 Kidney Disease: স্টেজ ৩ কিডনি রোগ কি দীর্ঘদিন বাড়তে না দেওয়া সম্ভব? জানুন জীবনযাপনে কোন বদল আনবেন

Stage 3 Kidney Disease: স্টেজ ৩ কিডনি রোগ মানেই কি দ্রুত ডায়ালিসিস? বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, বহু বছর বাড়তে না দেওয়া সম্ভব। জানুন কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন।

Stage 3 Kidney Disease: স্টেজ ৩ কিডনি রোগ মানেই কি দ্রুত ডায়ালিসিস? বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, বহু বছর বাড়তে না দেওয়া সম্ভব। জানুন কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
আপডেট করা হয়েছে
New Update
Stage 3 Kidney Disease: কিডনি সুস্থ রাখার নিয়ম জানুন।

Stage 3 Kidney Disease: কিডনি সুস্থ রাখার নিয়ম জানুন।

Stage 3 Kidney Disease: স্টেজ ৩ কিডনি রোগ ধরা পড়া মানেই যে জীবন দ্রুত সংকটের দিকে এগোবে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়টিকে বরং একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। কারণ ঠিক এই সময়েই সচেতনতা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। অনেক রোগী আছেন, যাঁরা স্টেজ ৩ কিডনি রোগ নিয়েই বছরের পর বছর স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন, ডায়ালিসিস ছাড়াই।

Advertisment

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্টেজ ৩ কিডনি রোগ সাধারণত তখনই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, যখন রোগী বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। এই পর্যায়ে অনেকেরই বড় কোনও উপসর্গ থাকে না। ফলে শরীর ভালো লাগছে ভেবে চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস বা নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে গাফিলতি শুরু হয়। অথচ এই অসচেতনতাই ধীরে ধীরে কিডনির ক্ষতি বাড়িয়ে তোলে।

নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর

স্টেজ ৩ কিডনি রোগ স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণ হল ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিতে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এই ক্ষত বেড়েই কিডনি তার স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। তাই কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন- মেট্রো স্টেশনের ভিতরে প্রস্রাব, ক্যামেরায় ধরা পড়তেই পালালেন যাত্রী, ভিডিও

জীবনযাপনের ছোট কিন্তু নিয়মিত পরিবর্তন এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়। লবণ কম খাওয়া কিডনি রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশি লবণ শরীরে জল জমিয়ে রাখে, রক্তচাপ বাড়ায় এবং কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত নুন, প্যাকেটজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চললে কিডনির কাজ অনেকটাই সহজ হয়।

আরও পড়ুন- এই সবজিটি শুধু অন্ত্র-বান্ধবই নয়, 'সুপারপাওয়ার'ও! কেন বলছেন করিনা কাপুর?

খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিন একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে অতিরিক্ত প্রোটিন ক্ষতিকর। অনেকেই হাই-প্রোটিন ডায়েট অনুসরণ করেন, যা স্টেজ ৩ কিডনি রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। মাঝারি পরিমাণে, ভালো মানের প্রোটিন যেমন ডাল, ডিমের সাদা অংশ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ। প্রতিটি রোগীর জন্য খাদ্যতালিকা আলাদা হওয়া উচিত, তাই নিজে ইন্টারনেট দেখে ডায়েট ঠিক না করাই ভালো।

আরও পড়ুন- সময়ের সঙ্গে দাম্পত্যে 'ঝলকানি' কমে যাওয়া স্বাভাবিক? জানুন শিল্পা শেট্টির কাহিনি!

পর্যাপ্ত জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ, তবে অতিরিক্ত নয়। শরীর যাতে ডিহাইড্রেটেড না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। একইসঙ্গে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং অ্যালকোহল সীমিত করা কিডনি রক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ধূমপান কিডনির রক্তনালি সংকুচিত করে দেয়, ফলে কিডনির ক্ষতি দ্রুত হয়।

আরও পড়ুন- প্রতিদিন সহজে সুস্থ থাকতে রান্নাঘরে অবশ্যই রাখুন এই ৬ স্বাস্থ্যকর খাবার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা কিডনি রোগীদের জন্য উপকারী। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজন কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা স্টেজ ৩ কিডনি রোগে খুবই জরুরি।

আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিয়মিত পরীক্ষা। রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা কিডনির অবস্থা সম্পর্কে আগেভাগেই সতর্ক সংকেত দেয়। সময়মতো চিকিৎসা বদলানো গেলে রোগের অগ্রগতি অনেকটাই ধীর করা যায়। স্টেজ ৩-কে চিকিৎসকেরা তাই সুযোগের জানালা (window of opportunity) বলে থাকেন, কারণ এই সময়েই সঠিক পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

আশার কথা হল, স্টেজ ৩ কিডনি রোগ কোনও শেষ রাস্তা নয়। সচেতনতা, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে বহু মানুষই ডায়ালিসিস ছাড়াই দীর্ঘ, সক্রিয় ও স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন। কিডনি রোগ মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়, বরং এই সময় থেকেই নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

kidney Disease