/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/30/asthma-treatment-2025-11-30-11-51-29.jpg)
Asthma Treatment: হাঁপানির চিকিৎসা।
Asthma treatment: শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরে আসা—এসব উপসর্গ নিয়ে হাঁপানিতে চরম সমস্যায় থাকা রোগীরা বছরের পর বছর ভোগেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ইনহেলার ও প্রয়োজনীয় স্টেরয়েড ট্যাবলেট। যদিও স্টেরয়েড দ্রুত উপশম দেয়, তবুও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে হাড়ের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, ত্বকের সমস্যা, মানসিক চাপ-সহ বিভিন্ন জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই কারণে চিকিৎসা বিজ্ঞান বহুদিন ধরে খুঁজছিল স্টেরয়েডের নিরাপদ বিকল্প। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন (The Lancet Respiratory Medicine)–এ প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা এব্যাপারে নতুন আলো দেখিয়েছে। যাতে বলা হয়েছে, মাসে একবার দেওয়া টেজেপেলুম্যাব (Tezepelumab) ইনজেকশন এক্ষেত্রে অসাধারণ ফল দিতে পারে।
ল্যানসেট গবেষণা
ল্যানসেট স্টাডি অনুযায়ী টেজেপেলুম্যাব (Tezepelumab) ইনজেকশন সিভিয়ার অ্যাজমা রোগীদের স্টেরয়েড নির্ভরতা ৯০% পর্যন্ত কমাতে পারে। এই ইনজেকশনে মাসে মাত্র একবার ব্যবহারেই মেলে স্থায়ী স্বস্তি। এই গবেষণায় দেখা গেছে টেজেপেলুম্যাব ইনজেকশন হাঁপানি রোগীদের দীর্ঘদিনের স্টেরয়েড নির্ভরতা নির্ভুলভাবে কমাতে সক্ষম। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীই এক বছরের নিয়মিত মেয়াদ শেষে দৈনিক স্টেরয়েড ডোজ কমিয়ে ৫ মিলিগ্রামের নীচে আনতে পেরেছেন। আরও মজার তথ্য হল, অর্ধেকেরও বেশি রোগী স্টেরয়েড পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েও অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন। প্রতিটি রোগী প্রতি চার সপ্তাহে ২১০ মিলিগ্রাম করে সাবকিউটেনিয়াস ইনজেকশন নিয়েছেন এবং গবেষণার সময়কালে তাঁদের শ্বাসপ্রশ্বাসের উন্নতি, উপসর্গ কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি স্পষ্ট ভাবে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন- দূষণে শ্বাসকষ্ট বাড়ছে, ফুসফুস সুস্থ রাখবে এই সাধারণ ফল, সবজি
গবেষণা অনুযায়ী, এই ইনজেকশন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করে। এটি ফুসফুসে তৈরি হওয়া ক্রনিক ইনফ্লেমেশন কমায়। এই ক্রনিক ইনফ্লেমেশন সিভিয়ার অ্যাজমার মূল কারণ। ফুসফুসে যখন অ্যালার্জেন, ধুলো বা দূষণের কারণে প্রদাহ বাড়ে, তখন শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। টেজেপেলুম্যাব সেই প্রদাহজনিত রাস্তা বন্ধ করে দেয়, ফলে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এর বড় সুবিধা হল, এটি স্টেরয়েডের মতো ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। সাধারণভাবে হালকা সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা বা সামান্য ব্রঙ্কাইটিস ছাড়া এতে বড় কোনও সমস্যা তৈরিও হয় না।
আরও পড়ুন- 'সন্ন্যাসী রাজা'র গানে রাধাকান্ত লিখেও তাঁর প্রতিবাদে বদলে শশীকান্ত লিখতে বাধ্য হয়েছিলেন গীতিকার
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডেভিড জ্যাকসন জানিয়েছেন যে, ইনজেকশন নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই অনেক রোগী উন্নতি করেছেন। অনেকের অ্যাজমা অ্যাটাক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগীই পুরো গবেষণাকালজুড়ে কোনও অ্যাটাকের মুখোমুখি হননি। চিকিৎসকরা মনে করছেন, যেসব রোগী দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে চাননি, তাঁদের জন্য এই ইনজেকশন হতে পারে একটি বড় আশার আলো।
আরও পড়ুন- বহু অলৌকিক কাহিনির সাক্ষী, ৬০০ বছরের ইতিহাস বসিরহাট সংগ্রামপুর কালীবাড়ির
বর্তমানে সারা বিশ্বেই হাঁপানির সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। আর, এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। বিশ্বের হাঁপানি রোগীদের প্রায় ১৩ শতাংশ ভারতেই বসবাস করেন, কিন্তু মৃত্যুর হার ভারতেই অত্যন্ত বেশি। বিশ্বব্যাপী হাঁপানি–জনিত মৃত্যুর ৪২ শতাংশই ঘটে ভারতে। এর একটি বড় কারণ হল, রোগীর দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়া, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার না করা এবং উন্নত চিকিৎসা না পাওয়া। ভারতের জনসংখ্যার হিসেব অনুযায়ী অন্তত সাড়ে তিন কোটি মানুষ হাঁপানিতে ভুগছেন। যার মধ্যে প্রায় ৫–১০ শতাংশ রোগী ভয়ংকর এবং নিয়ন্ত্রণহীন হাঁপানির শিকার। এদের অনেকেরই দৈনিক স্টেরয়েড ছাড়া চলাই অসম্ভব।
আরও পড়ুন- ঘুম পাচ্ছে না? এটা থাকলেই আপনার গাঢ় ঘুম আসবে চটপট!
ঠিক এই জায়গাতেই টেজেপেলুম্যাব নতুন আশা জাগাচ্ছে। তবে সমস্যার জায়গা হল, এর মূল্য। ভারতে এই ইনজেকশনের মাসিক খরচ প্রায় এক লক্ষ টাকা, যা অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সত্যিকার অর্থে যাঁদের এই চিকিৎসা অত্যন্ত প্রয়োজন, তাঁদের জন্য এটি জীবন বদলে দিতে পারে, কিন্তু এর দাম চিকিৎসার পরিধি সীমিত করে দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, টেজেপেলুম্যাব ইনজেকশন ভয়ংকর হাঁপানি চিকিৎসায় নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে। যাঁরা স্টেরয়েড ছাড়া চলতে পারেন না এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে বিপদে পড়েছেন, তাঁদের জন্য এটি খুবই উপকারি এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে বৃহত্তর মানুষের কাছে এই চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার জন্য খরচ কমানো এবং সরকারি সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহারের অভ্যাস এবং উন্নত থেরাপির সাহায্য নিলে হাঁপানি রোগীদের জীবন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us