/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/11/thyroid-diet-mistakes-2025-11-11-03-38-17.jpg)
Thyroid Diet Mistakes: থাইরয়েডে কোন খাবার খাওয়া উচিত নয়?
Thyroid Diet Mistakes: থাইরয়েড এমন একটি গ্রন্থি, যা শরীরের বিপাক ক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হলে ওজন বেড়ে যায়, ক্লান্তি আসে, চুল পড়ে যায়, মেজাজের পরিবর্তন আসে। অনিদ্রার মত সমস্যা দেখা দেয়। তাই থাইরয়েড সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা অপরিহার্য।
অনেকেই জানেন না, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার কিছু সাধারণ খাবার আসলে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক থাইরয়েড আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোন ৬টি খাবার একদম এড়ানো উচিত এবং কেন।
আরও পড়ুন- হাঁটা না দৌড়নো, শরীরের জন্য কোনটা বেশি ভালো, কী বলছে গবেষণা?
১. সাদা রুটি
সাদা রুটি দেখতে যতই ভালো লাগুক না কেন, এটি থাইরয়েডের জন্য মোটেই ভালো নয়। পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি হওয়ায় সাদা রুটিতে প্রায় কোনও ফাইবারই থাকে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়। এর ফলে বিপাক ক্রিয়ায় চাপ পড়ে। যা থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এই সমস্যা মেটাতে গমের বা গ্লুটেন-মুক্ত রুটি বেছে নিন। এগুলোতে ফাইবার এবং পুষ্টি বেশি পরিমাণে থাকে। যা বিপাক ক্রিয়া ঠিকঠাক রাখে।
আরও পড়ুন- বিধবারাই জন্ম দিয়েছিলেন একের পর এক সুস্বাদু পদ, বাঙালি পেয়েছে অনন্য স্বাদের নিরামিষ রান্না!
২. আলুর চিপস
চিপস প্রায় সবাই খেতে ভালোবাসে, কিন্তু এটি থাইরয়েড রোগীদের জন্য অত্যন্ত খারাপ। এতে ব্যবহৃত ট্রান্স ফ্যাট এবং পরিশোধিত তেল শরীরে আয়োডিন শোষণের প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। অথচ আয়োডিনই থাইরয়েড হরমোন তৈরির প্রধান উপাদান। অতিরিক্ত নোনতা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার থাইরয়েড গ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে। এর বদলে বেক করা আলুর স্লাইস বা মিষ্টি আলুর চিপস খেতে পারেন।
আরও পড়ুন- শীতের সকালে লোটে আর কাচকির একঘেয়েমি কাটাতে, ঝাল পেঁয়াজ-রসুনে করুন বাজিমাত!
৩. চিনাবাদাম
চিনাবাদামে প্রোটিন এবং চর্বি থাকলেও, এতে থাকা গলগন্ড যৌগ (goitrogen) থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। নিয়মিত বেশি পরিমাণে চিনাবাদাম খেলে শরীর আয়োডিন ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, ফলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই চিনাবাদামের বদলে আখরোট বা কাঠবাদাম (almond) খান। এগুলো থাইরয়েডের জন্য নিরাপদ। সঙ্গে, উপকারী ফ্যাটের উৎসও।
আরও পড়ুন- রাষ্ট্রগুরু, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রথম আলোকবর্তিকা, জানুন তাঁর অজানা কথা
৪. ক্রুসিফেরাস সবজি— বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি
এই সবজিগুলোতে ভিটামিন, মিনারেল থাকলেও, কাঁচা বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া থাইরয়েডের ক্ষতি করতে পারে। কারণ, এগুলিতে থাকা থায়োসায়ানেট (thiocyanate) আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং গলগন্ড রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়। সবজিগুলো ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করে খেলে ক্ষতিকর প্রভাব অবশ্য অনেকটাই কমে যায়।
৫. কফি
অনেকেরই সকাল শুরু হয় কফি দিয়ে, কিন্তু থাইরয়েড রোগীদের জন্য এটি সমস্যা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়ার পরপরই কফি পান করলে ওষুধ শোষণের ক্ষমতা ৩০–৪০% পর্যন্ত কমে যায়।
এছাড়া, কফির ক্যাফেইন কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, যা শরীরে স্ট্রেস এবং ক্লান্তি সৃষ্টি করে।
৬. টোফু এবং সয়া পণ্য
টোফু বা সয়াজাতীয় খাদ্য প্রোটিনের ভালো উৎস হলেও, থাইরয়েড রোগীদের জন্য এটি সবসময় নিরাপদ নয়। সয়া পণ্যে থাকা আইসোফ্লাভোন (isoflavones) থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয় এবং থাইরয়েড ওষুধের প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে। টোফু এবং সয়া পণ্য সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে, মাঝেমধ্যে ওষুধ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর খেতে পারেন।
থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তনই বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে। প্রক্রিয়াজাত, অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিবর্তে ফাইবার, প্রোটিন, ফল, শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত জল খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এই তথ্যগুলো শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হল। কোনও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়নি। তাই, ওষুধ পরিবর্তন বা নতুন খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us