Tinnitus Warning Signs: কানে 'শিস' বা বাঁশির শব্দ শুনলে সাবধান, দায়ী হতে পারে এই ৩টি কারণ

Tinnitus Warning Signs: কানে শিস, গুঞ্জন বা হৃদস্পন্দনের মত শব্দ শুনছেন? অবহেলা করবেন না। টিনিটাসের ৩টি বড় কারণ, সম্ভাব্য ঝুঁকি, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি—জানুন বিস্তারিত।

Tinnitus Warning Signs: কানে শিস, গুঞ্জন বা হৃদস্পন্দনের মত শব্দ শুনছেন? অবহেলা করবেন না। টিনিটাসের ৩টি বড় কারণ, সম্ভাব্য ঝুঁকি, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি—জানুন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Tinnitus Warning Signs: উপেক্ষা করলেই বিপদ।

Tinnitus Warning Signs: উপেক্ষা করলেই বিপদ।

Tinnitus Warning Signs: অনেক সময় চুপচাপ বসে থাকার মধ্যেই হঠাৎ কানে শিস দেওয়ার মত শব্দ, গুঞ্জন বা হৃদস্পন্দনের মত আওয়াজ শোনা যায়। বেশিরভাগ মানুষই এটিকে সাময়িক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, এই ধরনের শব্দ দীর্ঘদিন চললে তা মোটেই হালকাভাবে নেওয়ার মত বিষয় নয়। একে বলা হয় টিনিটাস। এটি নিজে কোনও রোগ না-ও হতে পারে, কিন্তু শরীরের ভেতরে চলতে থাকা কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে এই সমস্যা। যা সময়মতো ধরা না পড়লে শ্রবণশক্তির ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisment

টিনিটাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটি কেবল কান-সংক্রান্ত সমস্যা নয়। অনেক সময় এটি রক্তনালি, স্নায়ু বা মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত জটিলতার লক্ষণও হতে পারে। তাই কানে বারবার শিস দেওয়া, বাঁশির মতো আওয়াজ বা গুঞ্জন শুনতে পেলে তার কারণ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।    

টিনিটাসের কারণ

এক ধরনের টিনিটাসকে বলা হয় পালসেটাইল টিনিটাস। এক্ষেত্রে কানে যে শব্দ শোনা যায়, তা হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওঠানামা করে। মনে হয় যেন কানের ভেতরে রক্তপ্রবাহের শব্দ শোনা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি কানের কাছাকাছি রক্তনালির মধ্যে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ধমনীর সংকোচন বা রক্তনালির গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটি নিজে বড় রোগ না হলেও, শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সমস্যার সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করে। তাই পালসেটাইল টিনিটাস হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন- বাঙালি নারীশিক্ষায় বিপ্লবের সাক্ষী আজকের নিবেদিতা মিউজিয়াম

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ইউস্টাচিয়ান টিউবের সমস্যা। ইউস্টাচিয়ান টিউব কান এবং নাকের মধ্যে অবস্থিত একটি সরু নালি, যার কাজ হল- মধ্যকর্ণের চাপকে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা। সর্দি-কাশি, সাইনাস, অ্যালার্জি বা সংক্রমণের কারণে এই নালিটি ঠিকমতো কাজ না করলে কানে চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। তখন কানে ভরাট ভাব, শিস বা গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেতে পারে। অনেক সময় মনে হয় নিজের কথাই কানে বেশি জোরে বাজছে। এই অবস্থায় তরল জমে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে, যা সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে।

আরও পড়ুন- কেন আধুনিক মানুষ খামখেয়ালি' জীবনের দিকে ঝুঁকছে? জানুন নেপথ্যের মনস্তত্ত্ব

কানে তরল জমা হওয়া টিনিটাসের একটি সাধারণ কারণ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মধ্যকর্ণে তরল জমে গেলে কানে রিং, গুঞ্জন বা অদ্ভুত আওয়াজ শোনা স্বাভাবিক। একে অনেক সময় গ্লু ইয়ারও বলা হয়। সংক্রমণ, ইউস্টাচিয়ান টিউবের ত্রুটি বা হঠাৎ চাপের পরিবর্তনের কারণেও এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন তরল জমে থাকলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

আরও পড়ুন- ওয়াইনের সঙ্গে সোডা কেন খান লিওনেল মেসি? শরীরে কী প্রভাব পড়ে জানুন

চিকিৎসকদের মতে, কানে শিস বা বাজ পড়ার সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রথমেই কারণ নির্ণয় করা সবচেয়ে জরুরি। শুধু কান পরিষ্কার করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে—এই ধারণা অনেক সময় ভুল প্রমাণিত হয়। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। কোথাও ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, আবার কোথাও কিছু কৌশল উপকার করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ইএনটি বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

আরও পড়ুন- ঘুমের মধ্যেই হৃদ্‌রোগে মৃত্যু কেন বাড়ছে, প্রয়াত গায়ক প্রশান্ত তামাংয়ের ঘটনা তুলল প্রশ্ন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কানে বারবার বা দীর্ঘ সময় ধরে শিসের শব্দ শুনলে তা উপেক্ষা না করা। শরীর প্রায়ই ছোট সংকেতের মাধ্যমে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। টিনিটাস তেমনই একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। যার সম্পর্কে সময়মতো সচেতন হলে এবং সঠিক চিকিৎসা করালে শ্রবণশক্তি রক্ষা করা সম্ভব এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যেতে পারে।

signs Warning Tinnitus