/indian-express-bangla/media/media_files/2025/05/15/ICdBuG8P6X9p43HBlMv0.png)
Army: সেনাবাহিনীর ভূমিকা বারবার সিনেমার পরদায় উঠে এসেছে।
Top Peaceful Countries: পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে। প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা আজও অনেক রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার। তার মধ্যে ভারতও আছে। কিন্তু এর বাইরেও বিশ্বের এমন কিছু দেশ আছে যারা স্থায়ী সেনাবাহিনী ছাড়াই বহু বছর ধরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখেছে। এই দেশগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীই নিরাপত্তার একমাত্র পথ নয়। বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা, কঠোর আইনশৃঙ্খলা, স্বচ্ছ প্রশাসন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং নিরপেক্ষ বিদেশনীতি একটি দেশকে আরও বেশি নিরাপদ রাখতে পারে।
১) সিঙ্গাপুর
বিশ্বের এই শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাম প্রথমেই আসে। ছোট একটি নগর-রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর কঠোর আইনব্যবস্থা, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, শিক্ষিত জনগণ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী পুলিশ কাঠামোর মাধ্যমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এখানে অপরাধের হার অত্যন্ত কম, এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের রাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। সিঙ্গাপুরে সেনাবাহিনী থাকলেও তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং প্রযুক্তি, বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণই তাদের শান্তির ভিত্তি।
আরও পড়ুন- মুখের ঘা সহজে সারছে না? হালকাভাবে নেবেন না কিন্তু! এটা এই মারণ রোগও হতে পারে
২) নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড একটি দ্বীপ-ভিত্তিক দেশ, যার ভৌগোলিক অবস্থান প্রাকৃতিকভাবেই তাকে বহিরাগত সংঘাত থেকে দূরে রাখে। বৃহৎ স্থলসীমানা না থাকায় যুদ্ধ বা সীমান্তে উত্তেজনার ঝুঁকিও অত্যন্ত কম। নিউজিল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিবেশ স্বচ্ছ, মানুষের জীবনমান উচ্চ এবং সমাজে সমতা ও আইনশাসনের বড় উপস্থিতি রয়েছে। এই দেশের নিরাপত্তা নির্ভর করে শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের ওপর। সামরিক ক্ষমতার চেয়ে শান্তিপূর্ণ নীতিই এখানে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন- আপনার কিডনি কি নষ্টের পথে? এই কায়দায় জানুন সহজেই! বাঁচতে কী করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত
৩) অস্ট্রিয়া
অস্ট্রিয়া বহু দশক ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেকে "নিরপেক্ষ দেশ" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তারা কোন সামরিক জোটে যোগ দেয় না এবং কোনও আন্তর্জাতিক সংঘাতে পক্ষ নেয় না। এই নিরপেক্ষ নীতিই অস্ট্রিয়ার শান্তির সবচেয়ে বড় কারণ। দেশটির আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রশাসন অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে বড় আকারের স্থায়ী সামরিক বাহিনী ছাড়াই দেশটি স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আরও পড়ুন- নকল জিরা খেয়ে নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন না তো? জেনে নিন, চিনবেন কীভাবে
৪) আইসল্যান্ড
আইসল্যান্ড পৃথিবীর এমন একটি দেশ যার স্থায়ী সেনাবাহিনীই নেই। বরফে ঢাকা পর্বতমালা, সমুদ্রবেষ্টিত অবস্থান এবং কম জনসংখ্যা দেশটিকে বহিরাগত হুমকির বাইরে রেখেছে। আইসল্যান্ডের নিরাপত্তা রক্ষা করে তাদের পুলিশ বাহিনী, উপকূলরক্ষী এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। যুদ্ধ, সংঘাত বা সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি এখানে প্রায় নেই বললেই চলে। শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো, উচ্চমানের শিক্ষা এবং সমানাধিকারভিত্তিক সমাজ আইসল্যান্ডকে বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করেছে।
আরও পড়ুন- ইঁদুর কামড়েছে? হতে পারে বিরাট ক্ষতি, রক্ষা পাবেন কী করে জানুন বিস্তারিত!
৫) আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করে আসছে। তারা কোনও সামরিক জোট বা আন্তর্জাতিক যুদ্ধের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আয়ারল্যান্ডের পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সক্ষম, এবং দেশের বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। রাজনৈতিক হিংসা ও সামাজিক উত্তেজনা এখানে খুবই কম। নিরপেক্ষ বিদেশনীতি, স্বাধীন প্রশাসন এবং মানবিক সমাজ কাঠামো দেশের শান্তিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করেছে।
আরও পড়ুন- নকল জিরা খেয়ে নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন না তো? জেনে নিন, চিনবেন কীভাবে
এই পাঁচটি দেশ প্রমাণ করেছে যে শান্তি বজায় রাখতে বিশাল সেনাবাহিনী কিংবা যুদ্ধক্ষমতা সবসময় প্রয়োজন হয় না। বরং ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা, উন্নত শিক্ষা, দায়িত্বশীল নাগরিক এবং নিরপেক্ষ কূটনীতি একটি দেশকে আরও বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। সামরিক ব্যয় কম থাকায় এই দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারে—যা তাদের সমাজকে আরও স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ করে রেখেছে।
বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই দেশগুলো এক অনন্য উদাহরণ। সামরিক শক্তি নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাই একটি দেশের প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে—এই শিক্ষা তারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us