/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/untreated-dental-infection-2025-11-24-17-24-52.jpg)
Untreated Dental Infection: চিকিৎসা না হলে বাড়ে দাঁতের সংক্রমণ।
Untreated Dental Infection: দাঁতের ব্যথা আমরা অনেক সময়ই সাধারণ ঘটনা ভেবে হালকাভাবে নিই। ব্যথা সামান্য হলে ব্যথানাশক খেয়ে ভুলে যাই, পরের দিন আবার ব্যথা বাড়লে তখন একটু ভাবি। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে—দাঁতের ব্যথা মোটেও স্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে দাঁতের গোড়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ তৈরি হলে সেটি নীরবে শরীরের ভেতরে আরও বড় ক্ষতির সূচনা করে। এই ধরনের সংক্রমণকে সাধারণত দাঁতের শিকড়ের ‘দীর্ঘস্থায়ী ইনফেকশন’ বলা হয়। প্রথমদিকে তেমন ব্যথা না থাকায় অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ এই নীরব সংক্রমণ ধীরে ধীরে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
দাঁতের শিকড়ে সংক্রমণ
দাঁতের শিকড়ে যে সংক্রমণ তৈরি হয়, সেটির ব্যাকটেরিয়া সহজেই রক্তে প্রবেশ করতে পারে। একবার রক্তে চলে গেলে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রদাহ বাড়াতে শুরু করে। শরীরে প্রদাহ বাড়লে তা শুধু দাঁত নয়, হৃদপিণ্ড, রক্তনালী, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—সব কিছুর ওপর প্রভাব ফেলে। বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে দাঁতের সংক্রমণ অবহেলা করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ দাঁত ও মাড়ির ব্যাকটেরিয়া রক্তনালীকে শক্ত করে ফেলতে পারে, যার ফলে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা আগের কোনও হৃদরোগ থাকলে দাঁতের সংক্রমণ অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
আরও পড়ুন- আটা মেখে ফ্রিজে রেখে দিচ্ছেন, জানেন আপনার কী হতে পারে?
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। দাঁতের সংক্রমণ শরীরে ইনসুলিনের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমনকী যাদের ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাঁদের রক্তেও হঠাৎ গ্লুকোজ বেড়ে যেতে পারে। অনেকেই ভাবেন, খাবারের কারণে সুগার বেড়েছে। কিন্তু, চিকিৎসকেরা বলছেন—সংক্রমিত মাড়ি বা দাঁতের সমস্যাও এর বড় কারণ হতে পারে। শরীরে যখন সংক্রমণ থাকে, তখন শরীর সেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন- মন ছুঁয়ে যাবে, মাত্র কয়েকদিনের ছুটিতে উপভোগ করুন স্বর্গীয় সৌন্দর্য!
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন দাঁতের শিকড়ের সংক্রমণ উপেক্ষা করেছেন, তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে। রক্তে প্রদাহের মাত্রা বাড়ার ফলে হাঁটাচলায় ক্লান্তি, শরীর ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা—এসব সমস্যাও দেখা দিয়েছে। এই সংক্রমণ যদি অনেকদিন চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা হয়, তাহলে মাড়ির আশপাশ ফুলে ওঠে, দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমতে শুরু করে এবং ব্যথা বাড়তে থাকে। অনেকেই তখনই চিকিৎসকের কাছে যান, কিন্তু ততক্ষণে সংক্রমণ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন- সামান্য উপকরণ, মাত্র ১০ মিনিটেই বানিয়ে ফেলুন চিংড়ি মাছের মালাইকারি!
রুট ক্যানেল চিকিৎসা এই ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। দাঁতের শিকড় পরিষ্কার করে সংক্রমণ সরিয়ে দিলে ব্যথা কমে এবং দাঁত বাঁচানো সম্ভব হয়। অবাক করার মতো বিষয় হলো—রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর শুধু দাঁতের ব্যথাই কমে না, শরীরের প্রদাহের মাত্রাও কমতে দেখা যায়। ফলে হৃদযন্ত্র একটু স্বস্তি পায় এবং ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল হতে থাকে। যারা নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান, তাদের ক্ষেত্রে এই উন্নতি আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে।
আরও পড়ুন- বিড়ালদেরও ডিমেনশিয়া হতে পারে, আপনার পোষ্য সেই কষ্টে ভুগছে না তো?
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দাঁতের ব্যথাকে কখনও সাধারণ ব্যথা বলে ভাবা উচিত নয়। দাঁত শরীরেরই অংশ। দাঁতে সমস্যা মানে শরীরের ভেতরে কোনও প্রদাহ বা সংক্রমণ লুকিয়ে আছে। দাঁতের ব্যথা বা মাড়ির রক্তপাত, ঠান্ডা-গরমে সংবেদনশীলতা, দাঁতের রঙ বদলে যাওয়া—এসবই গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। এগুলো উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে দাঁত তুলতে হতে পারে, এমনকী হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
নিয়মিত ব্রাশ করা, দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার পরিষ্কার রাখা, বছরে দু'বার ডেন্টাল চেকআপ করা—এসব অভ্যাস দাঁতের সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতে একবার সংক্রমণ তৈরি হলে এটি গোটা শরীরকে প্রভাবিত করতে পারে—এটাই গবেষকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সুতরাং দাঁতের ব্যথা মানে শুধু দাঁতের সমস্যা নয়, এটি শরীরের গভীর সংকেত। সময়মতো চিকিৎসা করালে যা ভবিষ্যতের বড় অসুখ প্রতিরোধ করতে পারে। আর তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, 'দাঁতের ব্যথা কখনও অবহেলা করা ঠিক না।'
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us