/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/morning-bowel-movement-2025-12-15-16-06-26.jpg)
Morning Bowel Movement: দেখে নিন, কীভাবে পেট পরিষ্কার রাখবেন।
Morning Bowel Movement: আমাদের বেশিরভাগেরই জীবনের সত্যিটা হল, সকালে ঘুম থেকে উঠে মলত্যাগের চাপ অনুভব করা। অনেকের তো আবার, ঘুম থেকে ওঠার পরই দ্রুত শৌচাগারে না ছুটলে শরীরে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়। কিন্তু, কেন এমনটা হয়? আমরা তো সারারাত কিছু খাই না। ঘুমিয়েই কাটাই। তাহলে, মলত্যাগের জন্য পেটে কেন এই অস্বস্তি তৈরি হয়, ভোরে বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর?
বিশেষজ্ঞরা যা জানিয়েছেন
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা আসলে শারীরবৃত্তিয় কারণের ফলে। যেখানে মানবদেহের জটিল কিন্তু, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা আমাদের সকালে মলত্যাগে বাধ্য করে। আসলে বিষয়টা হল, মানবদেহের হজম প্রক্রিয়া দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গতিতে কাজ করে। রাতে যখন আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, সেই সময় আমাদের শরীরের অধিকাংশ কাজকর্মের গতি ধীর হয়ে যায়। অন্ত্রের নড়াচড়াও কমে যায়। শরীর এই সময় বিশ্রাম পায়। অন্ত্রের এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় আমাদের গ্রহণ করা খাবার হজম হয়ে রাতের মধ্যেই বর্জ্যে পরিণত হয়। আর, বৃহদন্ত্রে জমা থাকে।
আরও পড়ুন- কোন টুথব্রাশ দাঁতের জন্য উপকারী, ইলেকট্রিক নাকি ম্যানুয়াল? জেনে নিন কী বলছেন দাঁতের ডাক্তার
ভোরের দিকে আবার শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা জৈব ছন্দ হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়। স্নায়ুগুলোও এই সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। অন্ত্রের পেশীগুলোও ধীরে সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে শুরু করে। এর ফলেই মল আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে থাকা বৃহদন্ত্র থেকে নীচের দিকে নামতে শুরু করে দেয়। আর, আমাদের শরীরে মলত্যাগের চাপ অনুভূত হয়।
আরও পড়ুন- কোন টুথপেস্ট দাঁতের জন্য ভালো? আপনার সঠিক টুথপেস্ট কোনটি, জানুন এখানে
এর পাশাপাশি, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গেও সকালের মলত্যাগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠেন অথবা সময়মতো খাবার খান কিংবা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের শরীর সেই অনুযায়ীই বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ীই মলত্যাগের সময়সীমা বেছে নেয়। একে শরীরের প্রশিক্ষিত অভ্যাস বলা যায়। যা স্বাভাবিক হজমপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন- সর্দি সাইনাসের জের নাকি অ্যালার্জির, দুইয়ের সম্পর্কটাই বা কী?
তবে সকলের কিন্তু সকালে মলত্যাগ হয়, এমনটা না। অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। তাঁদের ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর পিছনে পর্যাপ্ত জলের অভাব, আঁশযুক্ত খাবার না খাওয়া বা কম খাওয়া এবং অনিয়মিত জীবনযাপন আর মানসিক চাপকেই দায়ী করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এই সব ব্যক্তিদের সকালে পায়খানার চাপ এলেও মলত্যাগ সহজে হয় না। যার ফলে তাঁদের শরীরে একপ্রকার অস্বস্তি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন- ৫০ পেরোলেই দরকার নিউমোনিয়ার টিকা, কেন একথা বলছেন ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা?
এই অস্বস্তি আবার শীতকালে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলেই জানিয়েছেন ডা. নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, শীতকালে অনেকেই জল কম খান। তার পাশাপাশি নড়াচড়াও কম করে। যার ফলে শরীর জবুথবু হয়ে যায়। আর, শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা স্বাভাবিক ছন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তাই নয়, এই সময় অর্থাৎ শীতকালে অনেকেই শাকসবজি কম খান। বদলে ভাজাপোড়া এবং আমিষ জাতীয় খাবারের দিকে ঝোঁক বেড়ে যায়। মরশুমি শাকসবজিকে উপেক্ষা করায় শরীর এই সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ পায় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। আর, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে।
এই সব সমস্যা কাটাতে অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে একগ্লাস ঈষৎ উষ্ণ গরম জল পান করেন। হালকা শরীরচর্চা করেন। এতে তাঁদের সহজেই প্রাতঃকৃত্য করার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us