/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/05/uric-acid-control-2026-02-05-16-50-16.jpg)
Uric Acid Control: ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করুন।
Uric Acid Control: আজকের দিনে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি একটি নীরব কিন্তু গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়ের আঙুলে ব্যথা, হাঁটুর অস্বস্তি কিংবা অকারণ ক্লান্তি অনুভব করেন, কিন্তু তার প্রকৃত কারণ বুঝতে পারেন না। পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তখন প্রথমেই আমরা মাংস, ডাল কিংবা আমিষ জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এত কিছু করার পরেও অনেকের ইউরিক অ্যাসিড কমছে না।
কীভাবে তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড কেবল খাবার থেকে তৈরি হয় না। আমাদের শরীরের ভেতরেই এর একটি বড় অংশ উৎপন্ন হয়। শরীরের কোষে থাকা পিউরিন ভেঙে যে বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, সেটিই ইউরিক অ্যাসিড। সাধারণ অবস্থায় এই উপাদান রক্তে দ্রবীভূত হয়ে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যখন উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায় বা কিডনি ঠিকমতো তা বের করতে পারে না, তখন রক্তে ইউরিক অ্যাসিড জমতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- আপনি কি ঘনঘন অ্যালার্জি অথবা হাঁপানিতে ভুগছেন, নাকের ভেতরে এই সমস্যা হয়নি তো?
অনেকেই মনে করেন, লাল মাংস বা অ্যালকোহল বাদ দিলে সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আমাদের শরীরের প্রায় সত্তর শতাংশ ইউরিক অ্যাসিড লিভার থেকেই তৈরি হয় এবং মাত্র ত্রিশ শতাংশ আসে খাবার থেকে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আমিষ বর্জন করলেই সমস্যার মূলে আঘাত করা যায় না।
আরও পড়ুন- এই সবজির রস লাগান, ক্রিম লাগাতে হবে না, ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল
এই জায়গাতেই আসে চিনি ও ফ্রুক্টোজের প্রসঙ্গ। আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে সিঙ্গারা, মিষ্টি, প্যাকেটজাত ফলের রস, কোমল পানীয়, এমনকী অতিরিক্ত মধু নিয়মিত খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এগুলিতে থাকা ফ্রুক্টোজ লিভারে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার সময় ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। ফলে বাইরে থেকে খুব একটা আমিষ না খেলেও শরীরের ভেতরেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন খাবারে থাকুক এই সবজি, কোষ্ঠকাঠিন্য দৌড়ে পালাবে!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রথমেই চিনিযুক্ত পানীয় ও প্যাকেটজাত রস থেকে দূরে থাকতে হবে। বাইরে থেকে দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এগুলি আসলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া কমানো অত্যন্ত জরুরি। অনেক খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে চিনি, যা আমরা বুঝতে না পারলেও শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন- ট্রেডমিলে এই পথে হাঁটলেই কমবে পেটের মেদ? জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ
তবে একটি ভুল ধারণা ভাঙা প্রয়োজন। ইউরিক অ্যাসিড আছে বলে প্রোটিন একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। শরীরের পেশি, হাড় ও সামগ্রিক শক্তির জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করলে তা ক্ষতির বদলে উপকারই করে। বরং সম্পূর্ণ প্রোটিন বাদ দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ক্ষেত্রে জলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত জল পান করলে রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড প্রস্রাবের মাধ্যমে সহজেই বেরিয়ে যেতে পারে। সারাদিনে একবারে বেশি জল না খেয়ে অল্প করে নিয়মিত জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কিডনির ওপর চাপ কমে এবং শরীর স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার হতে পারে।
জীবনধারার ছোট ছোট পরিবর্তনও সঙ্গে জরুরি। দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব এবং অনিয়মিত ঘুম ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন হালকা হাঁটা, নড়াচড়া করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া এবং ঘুমানো এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us