/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/03/uric-acid-control-2025-12-03-16-33-53.jpg)
Uric Acid Control: ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ।
Uric Acid Control: ইউরিক অ্যাসিড এমন একটি যৌগ যা শরীরের ভেতরে পিউরিন ভাঙার ফলে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়। তবে যখন এর মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন গাঁটে ব্যথা, প্রদাহ, গাউট, কিডনি স্টোন এমনকী হজমজনিত সমস্যাও শুরু হতে পারে। শীতকালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায় কারণ অনেকেই ভারী ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান, জল কম পান করেন এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া তুলনামূলক ধীর হয়ে যায়।
তাই অনেকেই ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাকৃতিক সমাধান খুঁজে থাকেন। এর মধ্যেই মূলা পাতার নাম বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ শীতকালে মূলা সহজলভ্য এবং এর পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিন্তু প্রশ্ন হল—মূলা পাতা কি সত্যিই ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে? মূলা পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল কমিয়ে কোষকে সুরক্ষা দেয়।
আরও পড়ুন- ক্রিসমাস–নতুন বছরে রঙিন করে তুলুন ভ্রমণ, জেনে নিন কোনগুলো ভারতের সেরা তুষার-ঢাকা জায়গা
গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়লে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। মূলা পাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই কাজটিই করে, ফলে গাউট বা জয়েন্টের প্রদাহ কমাতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন- ছেলে বা মেয়ের তুখোড় বুদ্ধি চান? এগুলো করান, হাতেনাতে ফল পাবেন
ফাইবার এ ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মূলা পাতায় থাকা খাদ্যজাতীয় আঁশ হজমকে উন্নত করে এবং শরীরের ভেতরে অতিরিক্ত পিউরিন জমার প্রবণতা কমায়। যখন হজম ঠিক থাকে, তখন রক্তে ইউরিক অ্যাসিড জমার সম্ভাবনা কমে এবং শরীর সহজে তা বের করে দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা থাকে, তাঁদের মূলা পাতা উল্লেখযোগ্য উপকার করতে পারে, কারণ হজম সঠিক হলে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক সহজ হয়।
আরও পড়ুন- পরিচয় সংকটে জেনারেশন জেড! কীভাবে পারবে বাঁচতে?
মূলা পাতার উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। এতে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষ করে ভিটামিন সি-এর ভূমিকা ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। ভিটামিন সি কিডনিকে সাহায্য করে বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে। মূলা পাতায় ভালো পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটি ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে কাজ করতে পারে।
আরও পড়ুন- পায়ের তলায় পেঁয়াজ রেখে ঘুমোলে ভাবতেও পারবেন না এত উপকার! কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
মুলা পাতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, এর প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক ক্ষমতা। এটি প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরের ভেতর থাকা অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডকে বের করে দিতে সাহায্য করে। এই কারণেই মূত্রনালীর সমস্যা, কিডনি পরিশোধন এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতেও মূলা পাতা সহায়ক। যাঁদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত অ্যাসিড বের হওয়া অত্যন্ত জরুরি; তাই মূলা পাতা স্বাভাবিকভাবেই একটি কার্যকর সহায়ক উপাদান।
প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে মূলা পাতা গাউটের ব্যথা উপশম করতেও সাহায্য করতে পারে। গাউটের ক্ষেত্রে জয়েন্ট ফুলে যায়, ব্যথা বাড়ে এবং লালচে ভাব দেখা যায়। মূলা পাতায় থাকা প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক উপাদানগুলো শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, ফলে ব্যথা ও অস্বস্তি কমে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মূলা পাতা যোগ করলে জয়েন্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
মূলা পাতা লিভারের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে। লিভার সুস্থ থাকলে শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়াও ঠিক থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। লিভারের কাজ ঠিক না হলে শরীর অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমিয়ে রাখে, যা পরে গাউট বা কিডনির সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সতর্কীকরণ
তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, মূলা পাতা একটি প্রাকৃতিক সহায়ক উপাদান হলেও এটি কোনও ওষুধের বিকল্প নয়। যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড অত্যধিক, তাঁদের অবশ্যই ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত। তবে সাধারণভাবে খাদ্যতালিকায় মূলা পাতা রাখা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতি।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us