/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/07/vande-mataram-2025-11-07-13-29-18.jpg)
Vande mataram 150 years: 'বন্দে মাতরম!'-এর ১৫০ বছর।
Vande Mataram 150 Years: আজ ৭ নভেম্বর ২০২৫— ভারতের অমর সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি। ‘বন্দে মাতরম’— এই দুটো শব্দ কয়েক কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন (Freedom Struggle) জ্বালিয়েছে। ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গদর্শনে প্রথম এই সংগীত প্রকাশ করেছিলেন। পরে তিনি এটিকে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ (১৮৮২)-এ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৬ সালে কলকাতার কংগ্রেস অধিবেশনে প্রথমবার গানটি পরিবেশন করেন। সেই সুর থেকেই গোটা দেশ জেগে উঠেছিল। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এটি হয়ে উঠেছিল ভারতের প্রতিরোধের গান (Resistance Anthem), একতা, ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের অগ্নিসংগীত।
আরও পড়ুন- স্বাধীনতা আন্দোলনের 'চরমপন্থী ত্রয়ী'-র অন্যতম, স্মরণে অনন্য বিপ্লবী নেতা বিপিনচন্দ্র পাল
'বন্দে মাতরম' রাজনৈতিক স্লোগান
১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সূচনালগ্নে প্রথমবার 'বন্দে মাতরম' রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। কলকাতার টাউন হলে সেই ঐতিহাসিক সভায় কয়েক হাজার ছাত্র ও দর্শক-শ্রোতা 'বন্দে মাতরম' শব্দ দুটির স্লোগানে আকাশ মুখরিত করে তুলেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাধারার অন্যতম পুরোধা। তাঁর আনন্দমঠ উপন্যাসে মাতৃভূমিকে দেবী হিসেবে প্রতীকায়িত করা হয়েছে। যেখানে দেখানো হয়েছে— একদিকে মহিমান্বিত, অন্যদিকে লাঞ্ছিত মা, আবার পুনরুত্থানের অপেক্ষায় থাকা মা। ওই উপন্যাসে সন্ন্যাসীদের কণ্ঠে উচ্চারিত 'বন্দে মাতরম' ছিল দেশপ্রেমের প্রতীক। এই গান শুধু একটি কাব্য নয়, এটি ছিল জাতীয়তাবাদের আধ্যাত্মিক রূপান্তর — যেখানে মাতৃভূমি নিজেই দেবী, আর দেশপ্রেমই উপাসনা।
আরও পড়ুন- দক্ষিণ কলকাতার রহস্যময় ডাকাত কালীবাড়ি, কাহিনি শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!
বঙ্গভঙ্গের পর দেশজুড়ে 'বন্দে মাতরম' ছড়িয়ে পড়েছিল প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে। ছাত্র-যুবকরা প্রভাতফেরি করে এই গান গাইতেন, স্বদেশি আন্দোলনের সভায় এটি গাওয়া হত। এমনকী ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার মুখেও মানুষ গানটি থামায়নি। ১৯০৬ সালে বরিশালে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বিশাল মিছিল হয় 'বন্দে মাতরম' পতাকা নিয়ে। ১৯০৭ সালে বিপিনচন্দ্র পাল, 'Vande Mataram' নামে একটি ইংরেজি দৈনিক চালু করেন, সেখানে শ্রী অরবিন্দ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। বিদেশে, মাদাম ভিকাজি কামা যখন স্টুটগার্টে ভারতের প্রথম তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন, তাতেও লেখা ছিল— 'Vande Mataram'।
এমনকী, ১৯০৯ সালে বিপ্লবী মদনলাল ধিংরা মৃত্যুর আগে ফাঁসির মঞ্চে শেষবার উচ্চারণ করেছিলেন এই দুই শব্দ— 'বন্দে মাতরম'।
আরও পড়ুন- ভারতের ৫ জায়গায় এই ধরনের বেলুনে চেপে ঘোরার সুযোগ পাবেন, জানেন খরচ কত?
স্বাধীনতার পর গণপরিষদে ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষণা করেন—'জন গণ মন' ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হবে, এবং 'বন্দে মাতরম' পাবে সমান মর্যাদা এবং শ্রদ্ধা। এর মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গানটির ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন এভাবে ভাত খাচ্ছেন? বিপদে পড়তে পারেন কিন্তু!
২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে বছরব্যাপী উৎসব।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে জাতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশজুড়ে গায়করা বন্দে মাতরমের বিভিন্ন রূপ পরিবেশন করছেন। সরকার স্মারক ডাকটিকিট, স্মারক মুদ্রা ও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকাশ করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা সেমিনার, প্রদর্শনী ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এছাড়া 'বন্দে মাতরম: ধরিত্রী মাতার প্রতি প্রণাম' নামে একটি বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা হচ্ছে।
ভারতের বাইরেও, সব ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনে বন্দে মাতরম উদযাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী একটি 'Vande Mataram Global Music Festival' আয়োজিত হচ্ছে, যেখানে বিদেশে বসবাসরত ভারতীয় শিল্পীরা গানটি পরিবেশন করছেন। এভাবে, গানটি হয়ে উঠছে গ্লোবাল ইউনিটি ও ইন্ডিয়ান প্রাইডের প্রতীক।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us