Vishwakarma Puja 2025: বিশ্বকর্মা বন্দনায় বাউন্ডুলে ঘুড়ি, বাঙালির পুজোর খুশি মেঘে ছড়াল!

Vishwakarma Puja 2025: ভাদ্র মাসের শেষ দিনে বিশ্বকর্মা পুজো। ২০২৫ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর হচ্ছে বিশ্বকর্মা পুজো। প্রতিবারের মত দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল এই দিনে।

Vishwakarma Puja 2025: ভাদ্র মাসের শেষ দিনে বিশ্বকর্মা পুজো। ২০২৫ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর হচ্ছে বিশ্বকর্মা পুজো। প্রতিবারের মত দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল এই দিনে।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Vishwakarma Puja Kite

Vishwakarma Puja 2025: বিশ্বকর্মা পুজো মানেই বাঙালির ঘুড়ি আকাশে।

Vishwakarma Puja 2025: বিশ্বকর্মা পুজো মানেই দুর্গা পুজোর খুশিতে লাগাম ছাড়িয়ে আকাশে ভেসে যাওয়া। যে ভেসে যাওয়ার প্রতীক হয়ে প্রতিবছরই আকাশে সাঁতার কাটে ঘুড়ি। আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। শেষ পর্যায়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। তবে প্রতিবার সত্যিকারের ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরু হয় ভাদ্র মাসের শেষ দিনে— বিশ্বকর্মা পুজোর সময়। এই দিনটিকেই বাঙালি মনে করে দুর্গাপুজোর প্রারম্ভিক সঙ্কেত।

Advertisment

তারিখ সাধারণত একই থাকে

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শেষ দিন, অর্থাৎ কন্যা সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মা পুজো হয়। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে বেশিরভাগ সময়েই এটি পড়ে ১৭ সেপ্টেম্বর। ২০২৫ সালেও ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো পালিত হচ্ছে। তবে বিশেষ কিছু বছরে মাসের দিনসংখ্যার কারণে তারিখ একদিন এদিক-ওদিক হয়।

আরও পড়ুন- ইন্দিরা একাদশীতে এই ব্রতকথা পালন বাধ্যতামূলক, মেলে তর্পণের ফল

হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়, ভগবান বিশ্বকর্মা পৃথিবীর প্রথম ইঞ্জিনিয়ার। তিনি গোটা সৃষ্টিজগতের নকশা নির্মাণ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা, পাণ্ডবদের ইন্দ্রপ্রস্থ কিংবা রাবণের সোনার লঙ্কা — সবই নাকি বিশ্বকর্মার সৃষ্টি। বিষ্ণুপুরাণে উল্লেখ আছে, দেবতাদের জন্য আকাশ যান, উড়ন্ত রথ ও বিভিন্ন যন্ত্র বিশ্বকর্মার হাতেই নির্মিত হয়েছিল। তাই তাঁকে দেব-শিল্পী বা স্থপতিদের দেবতা বলা হয়।

আরও পড়ুন- পাশে গুগল, ইচ্ছেমতো ছবি বানিয়ে চমকে দিন!

বাংলায় বিশ্বকর্মা পুজো বিশেষভাবে পালিত হয় কলকারখানা, দোকানপাট, অফিস, কারিগরদের কর্মশালা, এমনকী সাধারণ ঘরেও। নির্মাণশ্রমিক, তাঁতশিল্পী, মেকানিক, চালক— এইসব শ্রমজীবী মানুষরা বিশ্বকর্মাকে আরাধনা করেন। একদিনের পুজো বছরের পরিশ্রমের মধ্যে তাঁদের মনে উৎসবের আনন্দ এনে দেয়।

আরও পড়ুন- ট্রাম্পের শুভেচ্ছা, মেসির উপহার! ৭৫তম জন্মদিনে মোদী যেন 'বিশ্বগুরু'

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি। আকাশে রঙিন ঘুড়ির বাহার যেন উৎসবকে অন্য মাত্রা দেয়। বাংলায় ১৮৫০ সালের দিকে ব্যবসায়ীরা প্রতিপত্তি দেখাতে ঘুড়িতে টাকা বেঁধে উড়াতেন। ঘুড়ির নামও একেক রকম — পেটকাটি, চাঁদিয়াল, ময়ূরপঙ্খী। এই ঘুড়ি যেন ভগবান বিশ্বকর্মার উড়ন্ত রথকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন- বিশ্বকর্মা পূজায় করুন এই মন্ত্র জপ, আরতি! মিলবে বিরাট সাফল্য

শরতের নীল আকাশ, তুলোর মতো সাদা মেঘ, মৃদু হাওয়া— সবকিছু মিলে এই সময় ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য আদর্শ আবহাওয়া তৈরি করে। তাই সকাল থেকে ছাদে ছাদে জমে ওঠে ঘুড়ির লড়াই। সপ্তাখানেক আগে থেকেই সুতোয় মাঞ্জা দেওয়া শুরু হয়। ছোট থেকে বড় — সবাই মেতে ওঠেন প্রতিযোগিতায়। তবে, এখন মাঞ্জা দেওয়ার চল প্রায় নেই। কারণে বাজারে মাঞ্জা দেওয়া সুতোই বিক্রি হয়। আর, এবার হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির জন্য ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দ বাধা পেয়েছে। 

বিশ্বকর্মা শ্রমজীবী মানুষের দেবতা। তাই এই দিন শ্রমজীবীরা আনন্দে ভেসে যান। বছরের পরিশ্রমের চাপ থেকে তাঁরা মুক্তি পান একদিনের জন্য। আকাশে উড়তে থাকা ঘুড়ি যেন শ্রমিকের স্বাধীনতার প্রতীক। পুজো মানে শুধু দেবতার আরাধনা নয়, বরং সামাজিক সংহতির বার্তাও বহন করে। সবকিছু মিলিয়ে এই দিন থেকেই বাঙালি মানসিকভাবে ঢুকে পড়ে শারদীয়ার আনন্দে।

2025 Vishwakarma Puja