Vishwakarma Puja 2025: প্রায় ৯০% ভক্তই জানেন না বিশ্বকর্মার জন্মবৃত্তান্ত! জানুন সেই রহস্য

Vishwakarma Puja 2025: বিশ্বকর্মার বাহন হাতির প্রতীকী তাৎপর্য জানুন। ভাদ্র সংক্রান্তির অরন্ধন ব্রতের সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোর কী সম্পর্ক? এব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিন।

Vishwakarma Puja 2025: বিশ্বকর্মার বাহন হাতির প্রতীকী তাৎপর্য জানুন। ভাদ্র সংক্রান্তির অরন্ধন ব্রতের সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোর কী সম্পর্ক? এব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিন।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Vishwakarma Puja

Vishwakarma Puja 2025 : বিশ্বকর্মা পুজো এবং অরন্ধনের সম্পর্ক কী, জানুন।

Vishwakarma Puja 2025: পুরাণ ও ঋক বেদে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার জন্ম সম্পর্কে নানা কাহিনি পাওয়া যায়। পুরাণ মতে, দেবগুরু বৃহস্পতির বোন যোগসিদ্ধা ও অষ্টবসুর শ্রেষ্ঠ বসু প্রভাসের সন্তান ছিলেন তিনি। আবার ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা আছে, প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভিকোষ থেকে বিশ্বকর্মার উৎপত্তি। আরেক মতে, বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী ঘৃতাচী দুজনেই শাপভ্রষ্ট হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেন এবং বিশ্বকর্মা বাস্তুশিল্পীর রূপ পান।

Advertisment

বিশ্বকর্মা চতুর্ভুজ

বিশ্বকর্মা সাধারণত চতুর্ভুজ রূপে চিত্রিত হন। তিনি গজারূঢ়, অর্থাৎ তাঁর বাহন হাতি। পুরাণ মতে, তিনি মহাবীর ও শক্তিশালী দেবতা হওয়ায় তাঁর বাহনকেও সমান শক্তিধর হতে হয়েছিল। হাতি শুধু বলশালী প্রাণী নয়, তার শান্ত স্বভাবও শিল্পসৃষ্টির প্রতীক। হাতির শুঁড়কে বলা হয় 'কর'—যা 'কৃ' ধাতুর সঙ্গে সম্পর্কিত, অর্থাৎ কর্ম বা শিল্পকর্মের প্রতীক। ফলে বিশ্বকর্মা ও তাঁর বাহন হাতি, দু'জনেই শিল্পসৃষ্টির অপরিহার্য গুণাবলী—বল ও মেধা—এর প্রতিফলন।

আরও পড়ুন-  বিশ্বকর্মার সঙ্গে তাঁর ছেলেরাও পুজো পেতেন কলকাতায়, ছিলেন রামায়ণেও!

বাংলার লোকাচারে ভাদ্র সংক্রান্তির দিনে বিশ্বকর্মা পুজো হয়। এদিন সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে। বৃহৎসংহিতায় উল্লেখ আছে, গ্রীষ্ম শেষে বর্ষণের মাধ্যমে কৃষিকর্ম রক্ষা করেন সূর্য—এই পরিবর্তনের সময়ই বিশ্বকর্মার পূজা পালিত হয়। বাংলার নানা প্রান্তে এদিন ঘুড়ি ওড়ানো ও রান্না পুজোর রীতি প্রচলিত। 

আরও পড়ুন- বাঙালি আর অবাঙালি বিশ্বকর্মার চেহারা একদম আলাদা, জানেন কেন?

ভাদ্র সংক্রান্তির দিন অনেক পরিবারে পালিত হয় অরন্ধন ব্রত। এদিন নতুন রান্না হয় না। গৃহিণীরা আগের দিন রান্না করা অন্ন ও ব্যঞ্জন দেবী মনসাকে উৎসর্গ করে গ্রহণ করেন। একে 'বুড়োরান্না' বা 'রেঁধে খাওয়ার উৎসব' বলা হয়। কোথাও তা ইচ্ছারান্না, কোথাও ধরাটে রান্না আবার কোথাও আটাশে রান্না নামেও পালিত হয়।

আরও পড়ুন- বিশ্বকর্মার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল বেহুলার? জানুন সে কাহিনি

অরন্ধনের পিছনে বিশ্বাস, মা মনসা পরিবারের কল্যাণ ও সর্পভয় থেকে মুক্তি দেন। যদিও এর সঙ্গে সরাসরি বিশ্বকর্মা পূজার সম্পর্ক নেই, তবুও বাংলায় এই দুই রীতি প্রায় একই সময়ে পালিত হয় বলে একে অপরের সঙ্গে সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন- দুর্গাষ্টমীর সন্ধি পূজা, এর আচার-ভোগে থাকে বিশেষত্ব, মেলে বিরাট সুফল

প্রাচীন কাহিনিতে বিশ্বকর্মার শক্তি, শিল্পকলা ও জ্ঞানকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। সত্যযুগে তিনি স্বর্গ নির্মাণ করেছিলেন, ত্রেতায় রাবণের সোনার লঙ্কা, দ্বাপরে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা এবং পাণ্ডবদের ইন্দ্রপ্রস্থও তাঁরই সৃষ্টি বলে ধরা হয়। বাংলার বিশ্বকর্মা আজও শিল্প ও প্রযুক্তির প্রতীক। তাঁর পূজা মানেই নতুন সম্ভাবনা, কাজের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সৃষ্টিশীলতার অঙ্গীকার।

Vishwakarma Puja 2025