/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/03/hospital-2025-12-03-17-47-56.jpg)
Hospital: হাসপাতাল।
Vitamin B12: ভিটামিন বি১২ আমাদের শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি, যা স্নায়ুতন্ত্র, রক্তকণিকা তৈরি এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি বি১২ চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের মন্তব্য। তিনি দাবি করেছেন, ভিটামিন বি১২ ট্যাবলেট অনেক সময় রক্তের রিপোর্টকে ভুলভাবে স্বাভাবিক দেখাতে পারে, ফলে রোগীরা বিভ্রান্ত হন। তাঁর মতে, ট্যাবলেট শরীরে মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা থাকে এবং সেই সময় রক্ত পরীক্ষা করলে রিপোর্টে বি১২-এর মান স্বাভাবিক দেখালেও শরীরে কার্যকর ভিটামিনের ঘাটতি থেকেই যেতে পারে। তাই তিনি বি১২ ইনজেকশনকেই বেশি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই মন্তব্যের পরই ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিষয়টি এত সরলভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। সাধারণ রক্তপরীক্ষা শরীরে মোট বি১২ পরিমাপ করে, যার মধ্যে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় দু’ধরনের বি১২–ই থাকে। অর্থাৎ এই রিপোর্ট দেখে অনেক সময় বোঝা যায় না যে শরীরের কোষগুলো আসলে কার্যকর বি১২ ঠিকভাবে পাচ্ছে কিনা। এই অবস্থাকে কার্যকর বা ফাংশনাল ঘাটতি বলা হয়। তাই রিপোর্ট স্বাভাবিক দেখালেও রোগীর ক্লান্তি, ব্রেন ফগ, মন খারাপ, স্নায়বিক ঝিনঝিনি, মাথা ঘোরা বা চুল পড়ার মতো উপসর্গ থেকে যেতে পারে।
আরও পড়ুন- রং ছাড়াই ৫ মিনিটে সহজে চুল করুন কালো, ব্যবহার করুন রান্নাঘরের এই উপাদান
এই ভুল রিপোর্টের সমস্যা বেশি দেখা যায় নিরামিষভোজীদের মধ্যে, কারণ তাঁদের খাদ্যতালিকায় বি১২ কম থাকে। এছাড়া নিরামিষ খাবার, দুর্বল অন্ত্র বা পরিপাকের স্বাস্থ্য, দীর্ঘদিন অ্যাসিডিটি কমানো ওষুধ সেবন, ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফর্মিন ব্যবহার এবং বয়স ৪০ পেরোলেই বি১২ শোষণ কমে যাওয়ার কারণে প্রকৃত ঘাটতি থাকলেও পরীক্ষায় সব ঠিক দেখাতে পারে। ফলে মাঝে মাঝে রোগীরা উপসর্গ থাকা অবস্থায়ও ভুল ধারণায় থাকেন যে তাদের বি১২ স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন- ক্রিসমাস–নতুন বছরে রঙিন করে তুলুন ভ্রমণ, জেনে নিন কোনগুলো ভারতের সেরা তুষার-ঢাকা জায়গা
রিপোর্ট যদি বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাহলে শরীরে সত্যিকারের বি১২ ঘাটতি কীভাবে ধরা যায়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, আরও নির্ভরযোগ্য দুটি পরীক্ষা হল মিথাইলম্যালোনিক অ্যাসিড (MMA) এবং হোমোসিস্টেইন। শরীরে যথেষ্ট ভিটামিন বি১২ না থাকলে এই দুটি মার্কারের মান বেড়ে যায়। তাই কারও উপসর্গ থাকলেও যদি সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় বি১২ স্বাভাবিক আসে, তাহলে এই দুটি পরীক্ষা প্রকৃত অবস্থাটা স্পষ্টভাবে দেখাতে পারে।
আরও পড়ুন- ছেলে বা মেয়ের তুখোড় বুদ্ধি চান? এগুলো করান, হাতেনাতে ফল পাবেন
এখন প্রশ্ন আসছে—ইনজেকশন কি সত্যিই ট্যাবলেটের থেকে বেশি কার্যকর? এর উত্তর ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। ট্যাবলেট অন্ত্র দিয়ে শোষিত হয়, তাই গ্যাস্ট্রাইটিস, আইবিএস, অল্প অ্যাসিড, দীর্ঘদিন অ্যান্টাসিড বা পিপিআই গ্রহণ, মেটফর্মিন সেবন, অথবা বয়সজনিত কারণে যাদের শোষণ কমে গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ট্যাবলেট যথেষ্ট কাজ না-ও করতে পারে। এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে ইনজেকশন সরাসরি রক্তে পৌঁছে যায়, ফলে দ্রুত ঘাটতি পূরণ হয় এবং উপসর্গও দ্রুত কমে।
আরও পড়ুন- পরিচয় সংকটে জেনারেশন জেড! কীভাবে পারবে বাঁচতে?
তবে যাদের শোষণ ভালো, কোনো ওষুধের প্রভাব নেই, এবং বি১২ ঘাটতি একেবারে হালকা, তাদের ক্ষেত্রে ট্যাবলেটই যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে। আবার গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ বা দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি থাকলে ইনজেকশন সাধারণত বেশি উপযোগী হিসেবে ধরা হয়।
অনেক সময় মানুষ জানতে চান—শুধু খাবার খেয়ে কি বি১২ ঘাটতি সারানো যায়? আংশিকভাবে সম্ভব, তবে সবসময় নয়। হজমশক্তি ভালো রাখা, অপ্রয়োজনে অ্যাসিডিটি ওষুধ না খাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানো এবং খাদ্যতালিকায় দুধ, ডিম, দুগ্ধজাত এবং ফোর্টিফায়েড খাবার যোগ করলে বি১২ বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অন্ত্রের সমস্যা, কঠোর নিরামিষভোজন বা বয়সজনিত শোষণ সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়মিত সাপ্লিমেন্টেশন বা চিকিৎসক নির্দেশিত ইনজেকশন প্রয়োজন।
সতর্কীকরণ
এটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক লেখা। কোনও চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us