/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/05/vitamin-d-supplements-warning-2026-01-05-17-05-09.jpg)
Vitamin D Supplements Warning: অতিরিক্ত ভিটামিন ডি-এর জেরে হতে পারে বিরাট ক্ষতি।
Vitamin D Supplements Warning: ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। হাড়ের গঠন মজবুত রাখা থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, এমনকী হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতেও ভিটামিন ডির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন দাবি ছড়িয়েছে যে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, হার্ট এবং কিডনির জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। এই দাবির পিছনে আদৌ কোনও বৈজ্ঞানিক সত্য আছে কি না, তা জানতে চিকিৎসকদের মতামত জানা অত্যন্ত জরুরি।
মুম্বইয়ের একজন অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট জানিয়েছেন, ভিটামিন ডি এমনিতে ক্ষতিকর নয়, কিন্তু ভুল নিয়মে ও দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে তা মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভিটামিন ডি একটি ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন, অর্থাৎ এটি শরীরে জমে থাকে এবং অতিরিক্ত অংশ সহজে বেরিয়ে যায় না। ফলে নিয়ম না মেনে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন- লেবু, দই, পুদিনা—এই ৫ স্মার্ট জুটি স্ট্রিট ফুডকে করে তুলবে আরও স্বাস্থ্যকর!
ভারতের মতো দেশে ভিটামিন ডি ডেফিসিয়েন্সি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা। সূর্যের আলো পর্যাপ্ত না পাওয়া, জীবনযাত্রার ধরন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে বহু মানুষই এই ঘাটতিতে ভোগেন। সেই কারণে অনেকেই মনে করেন নিয়মিত উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া নিরাপদ। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটি হয়। ভিটামিন ডি আসলে সাধারণ ভিটামিনের মত কাজ করে না, এটি অনেকটা হরমোনের মত আচরণ করে। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন- নিয়ম ভাঙলে শাস্তি! এমন ৭ প্রাণী, যারা নিজেরাই আইন বানায়
ভিটামিন ডি টক্সিসিটির প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় বোঝাই যায় না। হালকা বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা, ক্লান্তি বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু ক্রমশ এই উপসর্গগুলো গুরুতর আকার নিতে পারে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস পেতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে।
আরও পড়ুন- দাগমুক্ত ও উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য কী? এতদিনে এই টিপস ফাঁস তামান্নার
হৃদ্যন্ত্রের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি টক্সিসিটি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্টের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেমে গোলযোগ তৈরি হয়। এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট, হঠাৎ খুব দ্রুত বা ধীরে হৃদস্পন্দন, এমনকী গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মত (হার্ট অ্যারিদমিয়াও) দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন- ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের নীচে এটি লাগান, কালো দাগ ও বলিরেখা ধীরে অদৃশ্য হবে
এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন তাঁরা, যাঁরা নিয়মিত রক্তপরীক্ষা না করিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাপ্তাহিক বা মাসিক উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা, হৃদ্রোগ রয়েছে বা একসঙ্গে একাধিক সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তবে আশ্চর্যের বিষয়, একেবারে সুস্থ ও তরুণ ব্যক্তিরাও এই সমস্যার শিকার হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে
তাহলে সঠিক উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি নেওয়ার আগে অবশ্যই রক্তপরীক্ষা করা উচিত। শরীরে ভিটামিন ডির প্রকৃত মাত্রা জানার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ ও সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত ফলো-আপ ও প্রয়োজনে ডোজ পরিবর্তন করাও জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে কোনও অতিরিক্ত উপকার হয় না, বরং ক্ষতির সম্ভাবনাই বেড়ে যায়।
সবশেষে মনে রাখা দরকার, সাপ্লিমেন্ট মানেই তা ভালো নয়। ভিটামিন ডি হোক বা অন্য কোনও সাপ্লিমেন্ট, সবকিছুকেই ওষুধের মতো গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে গ্রহণ করা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড দেখে বা অন্যের কথা শুনে নিজের শরীর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কখনও নিরাপদ নয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us