/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/25/vivah-panchami-2025-2025-11-25-15-21-34.jpg)
Vivah Panchami 2025: বিবাহ পঞ্চমী ২০২৫।
Vivah Panchami 2025: বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর মার্গশীর্ষ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় বিবাহ পঞ্চমী। এই তিথি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। কারণ এই দিনেই মিথিলা নগরীতে রাজা জনকের উপস্থিতিতে ভগবান শ্রী রাম ও দেবী সীতার ঐতিহাসিক বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই মিলনকে ‘ঐশ্বরিক বৈবাহিক সংযোগ’ বলা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে যে কোনও দাম্পত্য বা বৈবাহিক কামনা পূর্ণ হয়। এ বছর বিবাহ পঞ্চমী তিথি সোমবার রাত ৯টা ২২ মিনিটে শুরু হয়ে মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে শেষ হবে। এই সময়সীমার মধ্যে বিশেষ শুভ যোগ থাকার ফলে তিথিটির মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবছর বিবাহ পঞ্চমীতে শিব যোগ, ধ্রুব যোগ এবং সর্বার্থসিদ্ধি যোগ রয়েছে। শাস্ত্র মতে এই তিনটি যোগের উপস্থিতি যে কোনও শুভকর্মের জন্য আদর্শ। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সময় রাম–সীতার পূজা করলে বৈবাহিক সমস্যা দূর হয়, দাম্পত্য সম্পর্কে স্থায়িত্ব আসে এবং অবিবাহিতদের জন্য শুভ ফললাভ ঘটে। অনেক পরিবারে এই তিথিতে রামচরিতমানস পাঠেরও বিশেষ প্রথা রয়েছে। বিশ্বাস করা হয় যে রামচরিতমানস পাঠ করলে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায় এবং পরিবারের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকে।
আরও পড়ুন- সকালে ভুলেও খালিপেটে খাবেন না চা-কফি, ঘটতে পারে মহাবিপদ!
বিবাহ পঞ্চমীতে রাম–সীতাকে বিশেষ নৈবেদ্য নিবেদন করার প্রথা খুব প্রাচীন। বাল্মীকি রামায়ণ, আনন্দ রামায়ণ, পদ্মপুরাণ এবং ভক্তমালে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ভগবান রামের প্রিয় খাবারের কথা। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় নৈবেদ্য হল পঞ্চামৃত। দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি দিয়ে তৈরি এই পবিত্র নৈবেদ্যকে রাম–সীতার ঐশ্বরিক মিলনের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। বিবাহ পঞ্চমীতে এটি নিবেদন করলে দাম্পত্য সম্পর্কে পবিত্রতা আসে, মনোমালিন্য দূর হয় এবং পরিবারে শান্তি বৃদ্ধি পায়। তুলসী পাতা দিয়ে পঞ্চামৃত সাজিয়ে দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা শুভ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- কিডনি এবং হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে চান? শরীরকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই এড়ান এই খাবারগুলো
ক্ষীরও ভগবান রামের প্রিয় নৈবেদ্য হিসেবে বিবেচিত। দুধ, চাল, চিনি ও এলাচ দিয়ে তৈরি এই স্নিগ্ধ মিষ্টান্ন আর্থিক সমস্যা দূর করে এবং পরিবারের সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। বিবাহ পঞ্চমীতে স্বামী–স্ত্রী একসঙ্গে এই ক্ষীর গ্রহণ করলে সম্পর্কের মধ্যে মাধুর্য বৃদ্ধি পায়। বহু মন্দিরে এই তিথিতে ক্ষীর উৎসর্গ করার আলাদা ব্যবস্থা থাকে। ক্ষীরের সাদা রং পবিত্রতার প্রতীক, যা রাম–সীতার দাম্পত্য জীবনের আদর্শকে মনে করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- বাংলা কমিকসের রাজা, বাঁটুল হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টের স্রষ্টার স্বীকৃতি এসেছে বড্ড দেরিতে
জাফরান ভাতও এই তিথিতে বিশেষভাবে নিবেদন করা হয়। চাল, জাফরান, চিনি এবং ঘি দিয়ে তৈরি এই সুবাসিত ভাত দাম্পত্য জীবনের মাধুর্য বৃদ্ধি করে। জাফরানের উজ্জ্বল হলুদ রং শক্তি, সাহস এবং শুভফল নিয়ে আসে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। বিবাহ পঞ্চমীতে জাফরান ভাত নিবেদন করলে পরিবারের সব বাধা দূর হয় এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়। অবিবাহিত মেয়েদের জন্য এটিকে বিশেষ শুভ মনে করা হয়, কারণ, এতে তাদের বিবাহ-সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন- ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান ১০ ব্র্যান্ড, নতুন তালিকায় এবার বিরাট চমক!
গুড়ের মিষ্টি রাম–সীতাকে নিবেদন করলে আর্থিক কষ্ট দূর হয় বলে বহু পুরাণে উল্লেখ আছে। গুড়ের রেওয়াড়ি, গুড়ের পায়েস বা গুড়ের পুডিং অত্যন্ত শুভ হিসেবে মানা হয়। গুড়ের স্বাভাবিক স্নিগ্ধতা ও সাত্ত্বিকতা পারিবারিক সৌভাগ্য বৃদ্ধি করে। হলুদ মিষ্টি যেমন বেসনের লাড্ডু বা হলুদ ক্ষীর নিবেদন করলে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয়। লক্ষ্মী–নারায়ণের শক্তির প্রতীক এই শ্রেষ্ঠ নৈবেদ্য বিবাহ পঞ্চমীতে শুভফল এনে দেয়।
এক্ষেত্রে তুলসী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সবশেষে বিশেষ উল্লেখযোগ্য—তুলসী। তুলসী ভগবান শ্রী রামের সবচেয়ে প্রিয়। তাই যে কোনও নৈবেদ্যে, বিশেষ করে বিবাহ পঞ্চমীতে, তুলসী পাতা অবশ্যই যুক্ত করা উচিত। তুলসী ছাড়া রামের নৈবেদ্য অসম্পূর্ণ মনে করা হয়। বিবাহ পঞ্চমীর মূল বার্তা হল দাম্পত্য জীবনে পবিত্রতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং ঐক্য। রাম–সীতার আদর্শ বিবাহ আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে আদর্শের আলো ছড়িয়ে দেয়। এই তিথিতে ভক্তি, প্রার্থনা ও নিবেদনের মাধ্যমে সেই ঐশ্বরিক সম্পর্ককে স্মরণ করা হয়। যারা বৈবাহিক জীবনে শান্তি, সন্তানের সুখ, বা সম্পর্কের মাধুর্য খুঁজছেন, তাঁদের জন্য বিবাহ পঞ্চমীর এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us