/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/09/walking-pace-to-burn-2025-11-09-19-10-00.jpg)
Walking Pace to Burn: জেনে নিন হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত।
Walking Pace to Burn: প্রতিদিন হাঁটেন, কিন্তু জানেন কি কোন গতিতে হাঁটলে সত্যি শরীরের ক্যালোরি পোড়ে আর হার্ট ফিট থাকে? চিকিৎসক ডা. কুণাল সরকার জানিয়েছেন, 'ব্যায়াম মানে শুধু ঘাম ঝরানো নয়, বরং শরীরের শক্তি ব্যবহারের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা।' তিনি বলেন, অনেকেই প্রতিদিন হাঁটেন, কিন্তু নির্দিষ্ট গতির অভাবে প্রত্যাশিত ফল মেলে না। ওজন তেমন একটা কমে না। আসলে, সঠিক গতিতে না হাঁটলে ক্যালোরি পোড়ে কম। আর অতিরিক্ত গতি হার্টকে চাপ ফেলে। তাই এক্ষেত্রে ভারসাম্যই মূলমন্ত্র।
কী জানিয়েছেন ডা. কুণাল সরকার
ডা. সরকারের মতে, ৬৫ কেজি ওজনের একজন ব্যক্তি যদি প্রতি ঘণ্টায় ৪–৬ কিলোমিটার গতিতে হাঁটেন (brisk walking) করেন, তবে প্রায় ৩০০–৪০০ ক্যালোরি খরচ হয়। আর যদি একই সময়ে হালকা দৌড় বা জগিং করেন, তাহলে খরচ হতে পারে ৪০০–৬০০ ক্যালোরি। চিকিৎসকদের হিসেব অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার হাঁটাকে বলে হালকা হাটা। ব্রিস্ক ওয়াক হল ঘণ্টায় ৫–৬ কিমি হাঁটা। ফাস্ট ওয়াক বা জগ হল ঘণ্টায় ৬.৫–৭ কিমি হাঁটা।
আরও পড়ুন- সকালে দেরিতে ঘুম থেকে উঠছেন? শরীরে কী ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে, জেনে নিন চিকিৎসকের থেকে
চিকিৎসক জানিয়েছেন, 'হাঁটা শুধু ক্যালোরি পোড়ানোর ব্যাপার না। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া (metabolic balance) ঠিক রাখে।' যদি প্রতিদিন ২০০০ ক্যালোরি খান কিন্তু তার মধ্যে অন্তত ৩০০–৪০০ ক্যালোরি পোড়াতে না পারেন, তবে বাড়তি শক্তি ফ্যাট হিসেবে জমা হয়, বিশেষ করে পেটের চারপাশে। এই জমে থাকা চর্বি ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে।
আরও পড়ুন- সাবধান! বিনা সংকেতে নীরবে হানা দিচ্ছে স্ট্রোক, বিরাট ক্ষতি হচ্ছে, কী দেখে হবেন সতর্ক?
ব্যায়ামের সময় হার্ট রেট নজরে রাখা জরুরি। ডা. সরকার বলেন, 'বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে হার্ট রেট ১৫০ bpm-এর বেশি না হওয়াই ভালো। সাধারণভাবে, সর্বোচ্চ নিরাপদ হার্ট রেট বের করতে পারেন সহজ ফর্মুলায়, ২০০−বয়স= সর্বোচ্চ হার্ট রেট (bpm)। যেমন ৩০ বছর বয়সে সর্বোচ্চ bpm ১৭০। নিরাপদ সীমা থাকবে প্রায় ১৪০–১৫০ bpm।'
আরও পড়ুন- সুরসাধিকা, যিনি সময়ের ওপারেও সুরের জাদুতে বেঁচে আছেন!
বয়স বাড়লে হার্টের সহ্যশক্তি কিছুটা কমে যায়, তাই ৫০ বা ৬০ পেরোলেই হাঁটার গতি সামান্য কমিয়ে ঘণ্টায় ৪–৫ কিমি রাখাই ভালো। চিকিৎসকের মতে, 'হার্টের শক্তি বাড়ে না, তবে এর দক্ষতা বাড়ে। মানে অক্সিজেন ব্যবহার ক্ষমতা উন্নত হয়।' এমনিতে হাঁটার ফলে ফ্যাট কমে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভালো ঘুম হয়। মুড ভালো হয়। রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরল কমে। পেশি এবং হাড় শক্তিশালী হয়।
আরও পড়ুন- রাতে ঘুমানোর আগে চোখের নীচে লাগান এই দুই তেল, একবারেই দূর হবে কালো দাগ
সেই কথা মাথায় রেখেই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন হাঁটা থেকে ভালো ফল পেতে প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট ব্রিসক ওয়াকিং (brisk walking) করুন। হাঁটার আগে ৫ মিনিট ওয়ার্ম আপ ও শেষে স্ট্রেচিং করুন। হালকা জুতো পরুন যাতে হাঁটার গতি বজায় থাকে। পর্যাপ্ত জল পান করুন। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখুন। ডা. সরকার বলেন, 'ধারাবাহিকতাই চাবিকাঠি (Consistency is the key), নিয়মিত হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখে আর শরীরে ফ্যাটও জমতে দেয় না।'
মনে রাখতে হবে, শরীরের ফিটনেস মানে শুধু ওজন কমানো নয়। বরং শরীরের শক্তি ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করাই হল ফিটনেস। তাই হাঁটুন নিয়মিত। সঠিক গতিতে হাঁটুন। আর রাখুন হার্টের যত্ন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us