/indian-express-bangla/media/media_files/2025/05/12/ig0PFlbGnKfKAER6zLF3.jpg)
Cucumber in Market: বাজারে ঢালাও শশা বিক্রি হচ্ছে। (প্রতীকী ছবি)
Walnut Benefits: শীত এলেই আমাদের শরীরের শক্তি, ইমিউনিটি এবং হজমশক্তির ওপর বিশেষ নজর দিতে হয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরকে উষ্ণ রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এমন খাবার বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে শক্তি জোগাবে এবং ভিতর থেকে সুস্থ রাখবে।
এই ফলে রয়েছে
এই তালিকার শীর্ষে আছে আখরোট। যা বহু শতাব্দী ধরে চিকিৎসাশাস্ত্রে একটি শক্তিবর্ধক ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচিত। আকারে ছোট হলেও আখরোটের ভেতরে রয়েছে এমন বহু পুষ্টিকর উপাদান, যা শীতকালে শরীরকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
আরও পড়ুন- পেট ভালো রাখতে চিকিৎসকরা টিফিনে কী খান? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন!
আখরোটে রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট এবং বিভিন্ন খনিজ—যা শরীরের কোষ রক্ষা থেকে শুরু করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আখরোটের আকৃতি দেখতে অনেকটা মস্তিষ্কের মতো হওয়ায় একে ‘মস্তিষ্কের খাদ্য’ও বলা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি মস্তিষ্কের স্নায়ুকে পুষ্টি জোগায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিদের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- ঘরেই এভাবে বানিয়ে ফেলুন বডি লোশন! শীতে শুষ্ক ত্বক দূর করতে এর জুড়িমেলা ভার
আখরোট ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজম প্রক্রিয়া ভালো করে। দৈনিক এক মুঠো আখরোট পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। শীতের সময় অনেকের হজম সমস্যা বাড়ে; এই সময়ে ভেজানো আখরোট সহজে হজম হয় এবং শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়। আয়ুর্বেদ মতে, ভেজানো আখরোট স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং দেহে জমে থাকা ক্লান্তি দূর করে। নিয়মিত ভেজানো আখরোট খেলে দুর্বল শরীর শক্তি ফিরে পায়।
আরও পড়ুন- আপনার কি কোনও স্নায়বিক সমস্যা আছে বা হতে পারে? সামান্য এই জিনিসেই মিলবে হদিশ
শীতকালে আখরোট শরীর গরম রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায়। কারণ, এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরে দীর্ঘসময় ধরে এনার্জি সরবরাহ করে এবং ঠান্ডার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যাঁদের শীতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়, দুর্বল লাগে বা শরীর ক্লান্ত অনুভব হয়— তাঁদের জন্য আখরোট একটি আদর্শ খাবার। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বয়সের ছাপ পড়া কমাতে সহায়তা করে। তাই নিয়মিত আখরোট খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়, চুল ঝলমলে থাকে এবং শীতে রুক্ষতা কমে।
আরও পড়ুন- চিকিৎসক হতে গিয়ে হয়েছিলেন বিজ্ঞানী, প্রয়াণদিবসে জানুন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর নানা অজানা কথা!
আখরোট হৃদপিণ্ডের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ভালো চর্বি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়, ধমনিকে নমনীয় রাখে এবং রক্ত চলাচল উন্নত করে। যাঁরা হৃদরোগের আশঙ্কা আছে, তাঁদের জন্য আখরোট একটি নিরাপদ এবং প্রয়োজনীয় খাবার। শীতকালে রক্তচাপ ওঠানামা করে, তাই আখরোটে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
শীতকালে আখরোট খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল ভিজিয়ে খাওয়া। রাতে ৩–৪টি আখরোট জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে পুষ্টি শরীরে দ্রুত শোষিত হয় এবং হজম করা সহজ হয়। ভেজানো আখরোট স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত না করে ধীরে শক্তি বাড়ায়, যা দীর্ঘক্ষণ শরীরকে উষ্ণ রাখে। ভেজানো আখরোটের জলও শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
শীতের সকালে গরম দুধের সঙ্গে আখরোট খাওয়া শরীরের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। দুধের গরম ভাবের সঙ্গে আখরোটের পুষ্টি শরীরকে তৎক্ষণাৎ শক্তি জোগায়। এতে সামান্য মধু বা এলাচ গুঁড়ো যোগ করলে পানীয়ের স্বাদ বাড়ে এবং হজমও আরও ভালো হয়। এই পানীয় শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ উপকারী, কারণ এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ঠান্ডা-কাশির আক্রমণ কমায়।
ড্রাই ফ্রুটসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াও শীতে আখরোট খাওয়ার একটি কায়দা। বাদাম, কিশমিশ, কাজুর সঙ্গে আখরোট খেলে শরীর দীর্ঘসময় গরম থাকে এবং শরীর তার শক্তি ধরে রাখে। যাঁরা কাজের ব্যস্ততায় নিয়মিত খাবার খান না—তাঁদের জন্য আখরোট মেশানো ড্রাই ফ্রুটস একটি দ্রুত এনার্জি-সোর্স। ওটস, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে আখরোট গুঁড়ো মিশিয়ে নিলে ব্রেকফাস্টে তা আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/walnut-benefits-2025-11-23-19-59-13.jpg)
শীতকালে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় আখরোট রাখলে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ক্ষুধামান্দ্য কমে এবং সারাদিন শরীর থাকে উষ্ণ এবং সতেজ। সঠিক পরিমাণে খেলে আখরোট শীতের অন্যতম সেরা সুপারফুড হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের প্রতিটি অংশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us