/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-1-2025-11-26-22-45-40.jpg)
Handicraft Fair 2025: রাজ্য হস্তশিল্প মেলা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-2-2025-11-26-22-49-30.jpg)
রাজ্য হস্তশিল্প মেলা
West Bengal Handicraft Fair 2025: শুরু হয়ে গেছে চলতি বছরের বহু প্রতীক্ষিত রাজ্য হস্তশিল্প মেলা। শহর কলকাতার কাছে এই মেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। সারা বছর ধরে মানুষ এই মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই জনসমাগমও তাই বাড়ছে। মেলাটি বসেছে নিউটাউনের সিটি স্কোয়ার গ্রাউন্ডে, ঠিক সেন্ট্রাল মলের সামনেই। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা ৩০ পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-3-2025-11-26-22-50-02.jpg)
বাংলার শিল্প ঐতিহ্যের ছবি
এই মেলা শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনস্থল। রাজ্যের প্রায় সব জেলার শিল্পীরা এখানে হাজির হন তাঁদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা অসাধারণ হাতের কাজ নিয়ে। বাঁকুড়ার টেরাকোটা, বীরভূমের কাঠের শিল্পকর্ম, পুরুলিয়ার নৃত্যমুখোশ, মেদিনীপুরের পাটের জিনিস, হুগলীর কাঞ্চনজঙ্ঘা ডোকরা, মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত বালুচরি থিমে তৈরি আর্ট–সবই এই মেলায় বিশেষ আকর্ষণ। প্রতিটি স্টলের সামনে দাঁড়ালেই মনে হয় যেন বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যের বাস্তব ছবি চোখের সামনে ফুটে উঠছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-4-2025-11-26-22-50-29.jpg)
সামনেই তৈরি হচ্ছে পণ্য
দোকানিরা শুধুমাত্র প্রস্তুত পণ্য বিক্রি করছেন না। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে শিল্পীরা সেখানেই বসে নিজের হাতে তৈরি করছেন নানান শিল্পকর্ম। কেউ গড়ছেন টেরাকোটা ঘোড়া, কেউ আঁকছেন আলপনার কাঠের প্লেট, কেউ আবার জায়গাতেই বুনছেন শাড়ি। দর্শনার্থীরা কাছ থেকে দেখতে পারেন কীভাবে মাটির দলা ধীরে রূপ নিচ্ছে একটি সম্পূর্ণ শিল্পকর্মে। শিশুদের জন্যও এটি একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা। কারণ তারা কাছ থেকে জানতে পারবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা কীভাবে তৈরি হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-5-2025-11-26-22-51-05.jpg)
মেলার বৈশিষ্ট্য
এই মেলার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল, প্রতিটি বাজেটের মানুষ এখানে নিজের পছন্দের জিনিস খুঁজে পেতে পারেন। মাত্র দশ টাকার ছোট্ট সুভেনির থেকে শুরু করে বারো হাজার বা পনেরো হাজার টাকার আর্টওয়ার্ক—সবই মেলায় পাওয়া যায়। যাঁরা গৃহসজ্জা ভালবাসেন, তাঁদের জন্য রয়েছে বাঁশের ল্যাম্পশেড, কাঠের শো-পিস, মাটির ফুলদানি, টেরাকোটা কাজ, নকশি কুশন কভার-সহ অসংখ্য জিনিস। আবার যাঁরা পড়াশোনার জিনিস বা ছোটখাটো উপহার খুঁজছেন, তাদের জন্য আছে রঙিন বাটিক ব্যাগ, হ্যান্ডমেড নোটবুক ও বিভিন্ন হস্তশিল্প সজ্জা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-6-2025-11-26-22-52-03.jpg)
কীভাবে পৌঁছবেন এই মেলায়
মেলায় পৌঁছানোও খুব সহজ। যাঁরা মেট্রো ব্যবহার করেন, তাঁরা করুণাময়ী স্টেশনে নেমে সিটি স্কোয়ার গ্রাউন্ডের দিকে বাসে চেপে সহজে এই মেলায় পৌঁছে যেতে পারেন। ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে সেন্ট্রাল মলের সামনে রয়েছে পর্যাপ্ত পার্কিং। মেলা প্রাঙ্গণে ঢোকার আগেই রাস্তার ধারে সারি স্টল চোখে পড়বে। যার মধ্যে কিছু স্টলে আবার কফি, দুধ-চা, ঝালমুড়ি, হস্তনির্মিত ডেজার্টের মত খাবারও রয়েছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-7-2025-11-26-22-52-47.jpg)
মেলা আকারে বেড়েছে
এবারের মেলা আকারে আগের চেয়ে আরও বড় হয়েছে। তাই যদি কেউ সমস্ত স্টল ঘুরে দেখতে চান, তাহলে অবশ্যই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আসতে হবে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও রয়েছে খেলনা, গয়না, পুতুল, রঙিন লণ্ঠন এবং অনেক কিছু। সন্ধ্যা পড়তেই আলো ঝলমলে হয়ে ওঠে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ, যা দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-8-2025-11-26-22-53-36.jpg)
ফুটে উঠেছে ঐতিহ্য
প্রতিবছর এই হস্তশিল্প মেলা শুধু কেনাকাটার স্থান নয়, বরং বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রকৃত পরিচয়। এখানে প্রতিটি শিল্পীর হাতে তৈরি জিনিসের মধ্যে রয়েছে তাঁদের অনুভূতি, পরিশ্রম আর সৃজনশীলতার সত্যিকারের ছাপ। তাই মেলায় এসে কিছু না কিনলেও ঘুরে দেখা, শিল্পীদের কাজ দেখা এবং পরিবেশ অনুভব করাও এক বিশাল আনন্দের ব্যাপার।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/handicraft-fair-2025-9-2025-11-26-22-54-11.jpg)
শীতের অন্যতম বড় আকর্ষণ
এই কারণেই হস্তশিল্প মেলা ২০২৫ (Handicraft Fair 2025) কলকাতার শীতকালীন উৎসবের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। যাঁরা এখনও আসেননি, তাঁরা অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় করে একবার ঘুরে আসতে পারেন। এখানে শুধু শিল্প নয়, রয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি, অনুভূতি এবং বাংলার মানুষের সৃজনশীলতার গভীর ছাপ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us