Virat Kohli chewing gum: ভিভ রিচার্ডসের মত বিরাট কোহলিও কেন মাঠে চুইংগাম চিবোন? জানুন গোপন রহস্য

Virat Kohli chewing gum: মাঠে বারবার চুইংগাম চিবোনোর পিছনে আছে বৈজ্ঞানিক কারণ। কোহলি-সহ অনেক অ্যাথলিট মাঠে চুইংগাম খান। কী লাভ হয় এতে, জানুন সহজ ভাষায়।

Virat Kohli chewing gum: মাঠে বারবার চুইংগাম চিবোনোর পিছনে আছে বৈজ্ঞানিক কারণ। কোহলি-সহ অনেক অ্যাথলিট মাঠে চুইংগাম খান। কী লাভ হয় এতে, জানুন সহজ ভাষায়।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Virat Kohli: বিরাট কোহলি।

Virat Kohli: বিরাট কোহলি।

Virat Kohli chewing gum: খেলাধুলার জগৎ সবসময়ই উত্তেজনা, চাপ ও হাই-ফোকাসের জায়গা। বিশেষ করে ক্রিকেটের মত খেলায় প্রতিটি বল, প্রতিটি মুহূর্তেই খেলোয়াড়কে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা টিভিতে প্রায়ই দেখি, বিরাট কোহলি বা আরও অনেক আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট টানটান পরিস্থিতিতেও চুইংগাম চিবোচ্ছেন। বাইরে থেকে এটি হয়তো সাধারণ অভ্যাস মনে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর চুইংগাম চিবানো যে প্রভাব ফেলে, তা অনেক খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ও মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

Advertisment

চুইংগাম চিবোনোর উপকারিতা

মানুষ যখন চুইংগাম চিবোয়, তখন মস্তিষ্ক এটি একটি ছন্দবদ্ধ, পুনরাবৃত্তিমূলক মোটর ক্রিয়া হিসেবে ধরে নেয়। এই ধরনের কাজ সাধারণত শরীরকে ‘সেফ মোড’-এ রাখে। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক ধরে নেয় যে শরীর বর্তমানে কোনও বিপদে নেই। ফলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কিছুটা কমে যায় এবং শরীর কিছুটা রিল্যাক্সড হয়। উচ্চচাপের মুহূর্তে খেলোয়াড়দের জন্য এই রিল্যাক্সেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টানটান পরিবেশে একটু স্থির হওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও তিক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- আলিপুরের পর কলকাতার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা, দর্শকদের ভিড়ে জমজমাট!

Advertisment

চুইংগাম চিবানোর ফলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা শরীরকে শান্ত করে, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হার্ট রেটকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে চাপের মাত্রা কম থাকে এবং খেলোয়াড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ অনুভব করেন। এমনকী কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চুইংগাম চিবানোর সময় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়লে সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্মরণশক্তি সামান্য হলেও বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন- লেখাপড়া, কাজে মনসংযোগের অভাব? নিত্যদিনের এই পানীয়তে মিটবে সমস্যা!

চুইংগাম চিবানোতে আরও একটি দিক কাজ করে। শরীর যখন ছন্দবদ্ধভাবে কিছু করে—যেমন হাঁটা, দোল খাওয়া, বা চিবানো—তখন ডোপামিন নামের নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরণ হয়। ডোপামিন আমাদের মধ্যে মোটিভেশন, ফোকাস এবং ‘রিওয়ার্ড’ অর্থাৎ ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি করে। তাই টানটান পরিবেশেও খেলোয়াড়রা মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন। উচ্চচাপের পরিস্থিতিতে ছোট্ট এই চিবানোই তাদের মস্তিষ্ককে ‘বাস্তবমুখী’ থাকতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- চিনতে পারছেন? শীতে এই ছয় পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে ভারতে!

এছাড়া চুইংগাম সামান্য এনার্জি আউটলেটও দেয়। মানসিক চাপের মুহূর্তে অনেকেই অস্থির হয়ে পড়েন। চুইংগাম চিবানো সেই অস্থিরতার একটি নিরাপদ বহিঃপ্রকাশ। এটি যেন মস্তিষ্ককে বোঝায়, 'আমি কিছু করছি, তাই আমি নিয়ন্ত্রণে আছি।' ফলে অ্যাথলিটের শরীর অতিরিক্ত টেনশনে জমে যায় না।

আরও পড়ুন- ঘনঘন প্রস্রাবে নাজেহাল? ঘরের এই সামান্য জিনিস খেয়ে করুন বিনামূল্যে সমাধান

শুধু মানসিক দিকই নয়, শারীরিকভাবেও কিছু পরিবর্তন হয় চুইংগাম খেলে। চুইংগাম চিবানোতে কর্টিসল কিছুটা কমলেও অ্যাড্রেনালিন বা নর-অ্যাড্রেনালিন সামান্য বাড়তে পারে, যা সতর্কতা (alertness) বাড়াতে সাহায্য করে। মাঠে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকা প্রয়োজন—তাই এই সামান্য সতর্কতা বৃদ্ধি পারফরম্যান্সকে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়ার সময় (reaction time) কিছুটা দ্রুত হয়, যা অনেক সময় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।

অবশ্য অতিরিক্ত চুইংগাম চিবানো সবার জন্য ভাল নয়। কারও কারও চোয়ালের জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। আবার অতিরিক্ত এয়ার ঢোকার কারণে গ্যাস বা বমি (bloating) হতে পারে। তাই খেলোয়াড়রা সাধারণত সীমিত পরিমাণে চুইংগাম ব্যবহার করেন। যাঁরা চিনিযুক্ত চুইংগাম খান, তাদের দাঁতের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই বেশিরভাগ অ্যাথলিটই চিনি-ছাড়া বা ‘সুগার-ফ্রি’ চুইংগাম ব্যবহার করেন।

কোহলির মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এটি অভ্যাস ও স্ট্র্যাটেজি—দুই-ই। মাঠে কয়েক ঘণ্টা মানসিক তীক্ষ্ণতা বজায় রাখতে, নিজেদের শান্ত রাখতে এবং সর্বোচ্চ ফোকাস ধরে রাখতে চুইংগাম তাঁদের সহায়তা করে। যা বাইরে থেকে সাধারণ রুটিন মনে হলেও মাঠে দাঁড়ানো মানুষের কাছে এটি একটি বৈজ্ঞানিক সহায়তা। ছাত্র থেকে কর্পোরেট কর্মী—অনেকেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন মানসিক চাপ কমানোর জন্য। তাই এটি কেবল অভ্যাস নয়, বরং মস্তিষ্ক-বান্ধব একটি কৌশল।

Virat Kohli chewing gum