/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-2-2025-12-10-01-43-22.jpg)
High Blood Sugar: রক্তে উচ্চমাত্রার চিনি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-1-2025-12-10-01-43-38.jpg)
স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
High Blood Sugar: অনেক মানুষই মনে করেন শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, নিয়মিত ভালো খাবার খাওয়া সত্ত্বেও অনেকের ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে গেছে। কিংবা, দীর্ঘ সময় ধরে বেশি আছে। এটি যে শুধু রোগের লক্ষণ তা নয়, বরং শরীরের ভেতরকার বেশ কিছু লুকানো জৈবিক এবং জীবনধারাসংক্রান্ত কারণও এর জন্য দায়ী। ফলে নিজের ইচ্ছামতো খাবার বেছে নেওয়ার পরও যখন শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে, তখন বিষয়টি আরও বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। তাই কেন এমন হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা জানা জরুরি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-3-2025-12-10-01-44-14.jpg)
কার্বোহাইড্রেট বা প্রাকৃতিক চিনি
প্রথম যে কারণটি অনেকেই বুঝতে পারেন না, তা হল, কিছু 'স্বাস্থ্যকর' খাবারের মধ্যেই লুকানো থাকে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট বা প্রাকৃতিক চিনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফলের রস, স্মুদি, গ্র্যানোলা, প্যাকেট জাত 'লো ফ্যাট' খাবার বা অতিরিক্ত পরিমাণে হোলগ্রেইন। এগুলো আলাদা করে ক্ষতিকর নয়, কিন্তু একবারে বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের ইনসুলিন এত বেশি কার্বোহাইড্রেট সামলাতে পারে না। ফলে রক্তে চিনি দ্রুত বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিক চিনি ক্ষতি করে না, কিন্তু শরীরের দৃষ্টিতে প্রাকৃতিক এবং প্রক্রিয়াজাত—দুটোই গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-4-2025-12-10-01-44-47.jpg)
ইনসুলিন কাজ করে না
দ্বিতীয়ত, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এমন একটি অবস্থা যখন শরীর ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয় না। আপনি যতই স্বাস্থ্যকর খাবার খান না কেন, যদি ইনসুলিন কাজ না করে, তাহলে খাবার থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ রক্তে থেকে যায়। আধুনিক জীবনে অতিরিক্ত বসে থাকা, মানসিক চাপ, হরমোনগত পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি—এসব কারণে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স অত্যন্ত সাধারণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেকেই লক্ষ্য করেন—কার্ব কম খাওয়া সত্ত্বেও তাদের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-5-2025-12-10-01-45-24.jpg)
চিনির মাত্রা বৃদ্ধি
তৃতীয় বড় কারণ হল কিছু ওষুধ, হরমোনজনিত সমস্যা ও শরীরে জলাভাব। অনেক ওষুধ যেমন স্টেরয়েড, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, জন্মনিয়ন্ত্রণ হরমোন বা থাইরয়েডের ওষুধ গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার শরীর যখন জলশূন্য হয়, তখন রক্ত ঘন হয়ে যায় এবং গ্লুকোজের মাত্রা আপাতদৃষ্টিতে বৃদ্ধি পায়। একইভাবে কোনও লুকানো ইনফেকশন বা শরীরের অন্য কোনো প্রদাহজনিত কারণও রক্তে চিনির মাত্রা বাড়াতে পারে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-6-2025-12-10-01-46-11.jpg)
শারীরিক অনিয়ম
শারীরিক অনিয়মও ব্লাড সুগার বাড়ার অন্যতম কারণ। যখন শরীর নড়াচড়া করে না, তখন পেশিগুলো পর্যাপ্ত গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে খাবার যতই নিয়ন্ত্রিত হোক না কেন, রক্তে চিনি ব্যবহৃত না হয়ে জমে থাকে। নিয়মিত হাঁটা, হালকা দৌড়, যোগব্যায়াম বা ঘরের সহজ ব্যায়ামও গ্লুকোজ ব্যবহারের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যাঁদের জীবনযাপন পুরোপুরি বসে থাকার মত, তাঁদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবারও কখনও পুরোপুরি ফল দেখাতে পারে না।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-7-2025-12-10-01-46-52.jpg)
ঘুমের সমস্যা
ঘুমের সমস্যা ব্লাড সুগার বৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অল্প ঘুম, বারবার রাতে জেগে ওঠা, অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি ইনসুলিনকে দুর্বল করে দেয়। ঘুমের ঘাটতি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, বিশেষ করে কর্টিসল বাড়িয়ে দেয়। এই কর্টিসল আবার লিভারকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ছাড়তে বলে। ফলে সকালে ঘুম ভাঙতেই অনেকের ব্লাড সুগার অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে, যাকে 'ডন ফেনোমেনন' বলা হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/high-blood-sugar-8-2025-12-10-01-47-31.jpg)
স্ট্রেসজনিত সমস্যা
এই তালিকায় সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ হল স্ট্রেস। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, সম্পর্কগত সমস্যা, কর্মক্ষেত্রের চাপ বা কোনও ট্রমাটিক পরিস্থিতি শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ বাড়ায়। এই হরমোন দু’টি শরীরকে 'অ্যলার্ট' অবস্থায় রাখে এবং লিভার থেকে গ্লুকোজ ছাড়িয়ে দেয়, যেন শরীর দ্রুত শক্তি পায়। কিন্তু বাস্তবে আমরা বসে থাকা অবস্থায় বা ঘরে থাকা অবস্থায়ও এই হরমোন বৃদ্ধি পায়, ফলে খাবার না খেলেও রক্তে চিনি বেড়ে যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/06/01/MOWqHLhSugQdm5cushi5.jpg)
স্বাস্থ্যকর খাবার
সবশেষে বলা যায়, শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। বরং এটি একাধিক অভ্যাস, শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া, হরমোন, ঘুম, স্ট্রেস এবং শারীরিক কার্যকলাপের সমন্বিত ফল। তাই ব্লাড সুগার বাড়লে প্রথমেই নিজেকে দোষারোপ বা খাবারকে সন্দেহ না করে পুরো জীবনযাপন প্যাটার্নটি বোঝা প্রয়োজন। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, জলপান এবং অল্প সুষম খাবার খাওয়া ব্লাড সুগারকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us