Why people get Hangry: কেন কেউ খিদে পেলেই রেগে যান? শরীর ও মনের এই গোপন সম্পর্ক সম্বন্ধে কী জানাচ্ছে বিজ্ঞান?

Why people get Hangry: খিদে পেলেই কেন কারও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, আবার কেউ শান্ত থাকেন? এর গভীর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করলেন গবেষকরা। জানুন বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ।

Why people get Hangry: খিদে পেলেই কেন কারও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, আবার কেউ শান্ত থাকেন? এর গভীর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করলেন গবেষকরা। জানুন বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Why people get Hangry: খিদে পেলে অনেকেই রেগে যান।

Why people get Hangry: খিদে পেলে অনেকেই রেগে যান।

Why people get Hangry: খিদে পেলেই কেন কেউ হঠাৎ চটে যান, আবার কেউ একই অবস্থায় থেকেও শান্ত থাকেন—আমরা প্রায় সবাই জীবনে একবার হলেও এই প্রশ্নটার মুখোমুখি হয়েছি। ইংরেজিতে যাকে এখন হ্যাংগ্রি 'Hangry' বলা হয়, অর্থাৎ খিদের কারণে রেগে যাওয়া বা খিটখিটে হয়ে পড়া, সেই অভিজ্ঞতা মানবজাতির কাছে নতুন কিছু নয়। নতুন শুধু শব্দটা, যা ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি (Oxford English Dictionary)-তে স্থান পেয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, এত পরিচিত অনুভূতি হলেও ক্ষুধা আমাদের দৈনন্দিন মুডকে ঠিক কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

Advertisment

বেশিরভাগ গবেষণা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বা ইটিং ডিসঅর্ডারের মত সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ মনোবিজ্ঞানে ক্ষুধাকে বরাবরই একটি বেসিক ফিজিওলজিক্যাল প্রসেস 'basic physiological process' হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ক্ষুধা শুধু পেটের বিষয় নয়, এটি সরাসরি আমাদের আবেগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সামাজিক আচরণকেও প্রভাবিত করে।

শক্তির প্রধান উৎস

মানুষের শরীরে গ্লুকোজ হল শক্তির প্রধান উৎস। বিশেষ করে মস্তিষ্কের জন্য তো বটেই। যখন দীর্ঘ সময় শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না, তখন মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ থেকে ক্ষুধার সংকেত পাঠানো হয়। এই সংকেত পরে ইনসুলা নামের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রেন এরিয়ায় পৌঁছয়, যা আমাদের শরীরের ভেতরের অনুভূতি বোঝা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত। এখানেই শুরু হয় আসল পার্থক্য।

আরও পড়ুন- ওয়ার্কআউটের মাঝখানে হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে কী করবেন, কখন হবেন সতর্ক?

গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু কম ব্লাড সুগার থাকলেই যে মানুষের মুড খারাপ হবে, এমনটা নয়। মানুষ তখনই বেশি বিরক্ত হয়, যখন সে নিজে বুঝতে পারে যে সে ক্ষুধার্ত। অর্থাৎ খিদে এবং মুডের মাঝখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ধাপ আছে, যাকে বলা হয় ইন্টারোসেপশন (interoception)। এর মানে হল, নিজের শরীরের ভেতরের সংকেতগুলো কতটা ঠিক, আমরা বুঝতে পারছি।

আরও পড়ুন- চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের সকালের এই পুষ্টিকর অভ্যাসে লুকিয়ে তারুণ্য, এনার্জি, উজ্জ্বল ত্বক

যাঁদের ইন্টেরোসেপটিভ অ্যাকিউরেসি (interoceptive accuracy) বেশি, অর্থাৎ যাঁরা নিজের শরীরের শক্তি কমে আসা, ক্ষুধা বা ক্লান্তির সংকেত আগেভাগেই বুঝতে পারেন, তাঁরা তুলনামূলকভাবে কম হ্যাংগ্রি (hangry) হন। তাঁরা ক্ষুধার্ত হলেও আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান না। অন্যদিকে যাঁরা শরীরের এই সংকেতগুলো উপেক্ষা করেন বা বুঝতে দেরি করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে মুড সুইং, রাগ বা অস্থিরতা দেখা যায়।

আরও পড়ুন- পেটের গ্যাসে বাড়ছে ওজন? এই ৫টি যোগাসনে মেদ কমবে, হজম হবে

এই বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট। ছোট বাচ্চারা এখনও শরীরের সংকেত বোঝে না। তারা খেলায় বা পরিবেশে এতটাই মগ্ন থাকে যে ক্ষুধা বা তৃষ্ণার অনুভূতিকে অবহেলা করে ফেলে। ফলে হঠাৎ করেই কান্না, রাগ বা মেল্টডাউন দেখা যায়। অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রেও আজকের ডিজিটাল-ব্যস্ত জীবনে একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন- রাতে হাঁটুর ব্যথায় ঘুম উধাও? কারণ ও আরাম পাওয়ার উপায় জেনে নিন

খিদেজনিত মুড পরিবর্তনের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে। কাজের সিদ্ধান্তে ভুল করায়, দেখা যায় যে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড  (unhealthy fast food) কেনার প্রবণতা বাড়িয়ে দেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভালো বিষয়টি হল, ইন্টেরোসেপশন (interoception) উন্নত করা সম্ভব। নিয়মিত খাবারের সময় মেনে চলা, শরীরচর্চা করা এবং নিজের শরীরের সংকেতগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া এই ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ব্যায়াম শুধু শক্তি খরচ করে না, এটি ক্ষুধা ও শক্তির ওঠানামার প্রতি শরীরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

মনে রাখতে হবে, সব সময় খিদে যে আমাদের মুড নষ্ট করবে এমনটা কিন্তু নয়। যখন তা করে, সেটাকে অবহেলা না করে বোঝার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ঠিক যেমন একটি শিশুর ক্ষেত্রে আমরা আগেভাগে খাবারের ব্যবস্থা করি, তেমনই নিজেদের ক্ষেত্রেও একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, হ্যাংগ্রি (Hangry) হওয়া চরিত্রের দোষ নয়, বরং শরীর ও মনের সংযোগ না বোঝার ফলই হল এই পরিস্থিতি।

people Hangry