Winter Acidity Relief: শীতকালে অ্যাসিডিটিতে ভুগছেন? এই ৬ খাবার দেবে দ্রুত আরাম, জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

Winter Acidity Relief: শীতকালে অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? কোন ৬ খাবার খেলে পেট থাকবে শান্ত, জানাচ্ছেন যশোদা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট। জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

Winter Acidity Relief: শীতকালে অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? কোন ৬ খাবার খেলে পেট থাকবে শান্ত, জানাচ্ছেন যশোদা হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট। জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Winter Acidity Relief: শীতকালে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পান এই কায়দায়।

Winter Acidity Relief: শীতকালে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পান এই কায়দায়।

Winter Acidity Relief: শীতকাল এলেই অনেকের জীবনে একদিকে যেমন আরাম আর উৎসবের আবহ তৈরি হয়, অন্যদিকে তেমনই বাড়তে থাকে অ্যাসিডিটি, গ্যাস এবং বুকজ্বালার সমস্যা। সাধারণত মানুষ মনে করেন অ্যাসিডিটি শুধু গরমকালেই বেশি হয়, কিন্তু বাস্তবে শীতকালেও এই সমস্যা কম নয়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় তৃষ্ণা কম লাগে, ফলে জল খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় ভাজাভুজি, মশলাদার এবং ভারী খাবারের প্রতি ঝোঁক। এই সব অভ্যাস পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

Advertisment

সঠিক খাদ্যাভ্যাস

হায়দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিকেল গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. নবীন পোলভারাপুরের মতে, শীতকালে অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি হল সঠিক খাদ্যাভ্যাস। খুব জটিল ডায়েট নয়, বরং সহজে হজমযোগ্য কিছু খাবার নিয়মিত খেলে শীতকালেও পেট থাকবে অনেকটাই শান্ত।

আরও পড়ুন- দৃষ্টিশক্তি কি ধীরে কমছে? আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শে চোখ সুস্থ রাখার সেরা উপায় জানুন

শীতকালে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই সময় ভেষজ চা অ্যাসিডিটি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মৌরি চা, আদা চা কিংবা ক্যামোমাইল চা পাকস্থলির অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে এবং হজমে আরাম দেয়। এগুলি প্রদাহ কমিয়ে বুকজ্বালার সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করা উচিত নয়, কারণ ক্যাফেইন অ্যাসিডিটি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। খাবার খাওয়ার সময় সোজা হয়ে বসা এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া এড়ানোও খুবই জরুরি।

আরও পড়ুন- মাইগ্রেন শুরু হলে আর কষ্ট নয়, ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত আরাম পাওয়ার কার্যকর উপায় জানুন

শীতকালে অ্যাসিডিটির সমস্যায় ওটস এবং আস্ত শস্য অত্যন্ত উপকারী। ওটসে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার পাকস্থলির অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করে নেয়। সকালে ওটমিলের সঙ্গে কলা বা আপেল যোগ করলে তা হজমের জন্য আরও ভালো হয়। ওটসে উপস্থিত বিটা গ্লুকান খাদ্যনালির ভেতরে একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। বাদামি চাল এবং মাল্টিগ্রেইন রুটির মতো আস্ত শস্যও হজম শক্তিশালী করে এবং গ্যাসের সমস্যা কমায়।

আরও পড়ুন- স্থূলতা কমাতে এবং পাইলস উপশমে কার্যকর এই ভেষজ উদ্ভিদ!

অনেকেই মনে করেন সব ফলই অ্যাসিডিটির জন্য ভালো, কিন্তু বাস্তবে টক ফল অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। শীতকালে কমলালেবু বা আনারসের মতো ফল এড়িয়ে চলা তাই ভালো। তার বদলে পেঁপে, নাশপাতি এবং তরমুজের মত ফল পেটের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক। পেঁপেতে থাকা পাপাইন এনজাইম প্রোটিন হজমে সাহায্য করে এবং পাকস্থলিতে অ্যাসিড জমা হতে দেয় না। নাসপাতি কাঁচা খেলে সমস্যা হলে হালকা ভেজে বা রান্না করেও খাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন- শত্রুকে চিনতে ব্যর্থ, কুনজরের ফাঁদে পড়ে সাজানো জীবন তছনছ! ৫ রাশির ওপর থাকে বাঁকা চোখের চাহনি

শীতকালীন সবুজ এবং মূল সবজি অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে বিশেষভাবে কাজে লাগে। গাজর, পালং শাক এবং ব্রোকলির মতো সবজিতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়াম পাকস্থলির অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলুও শীতকালে একটি চমৎকার সবজি। এটি সেদ্ধ, ভাজা বা চটকে খাওয়া যায় এবং পেটের অ্যালকালাইন বা ক্ষারীয় (pH) স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই কম চর্বিযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া উচিত। কম ফ্যাটের দই বা গ্রীক দই পাকস্থলীর জন্য উপকারী। দইতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। দইয়ের সঙ্গে সামান্য আদা মিশিয়ে খেলে গ্যাস এবং পেট ফাঁপার সমস্যা দ্রুত কমে যায়।

প্রোটিনের ক্ষেত্রেও শীতকালে হালকা খাবার বেছে নেওয়া দরকার। গ্রিলড চিকেন, মাছ বা টোফুর মত চর্বিহীন প্রোটিন সহজে হজম হয় এবং পেটে ভারী ভাব তৈরি করে না। খাবারের পর সামান্য মৌরি চিবোনোও অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে, কারণ মৌরি পাচনতন্ত্রকে শিথিল করে দেয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালে অ্যাসিডিটি এড়ানো মোটেও কঠিন নয়। নিয়মিত ভেষজ চা, সঠিক শস্য, উপযুক্ত ফল, সবজি, হালকা দুগ্ধজাত খাবার এবং চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই পার্থক্য বোঝা যায়। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন চললে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

winter Acidity relief