Blood Pressure Control Tips: ঠান্ডা ঋতুতে কি রক্তচাপ বাড়ে? জানুন শীতে কীভাবে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন!

Blood Pressure Control Tips: শীতকালে রক্তচাপ কেন বাড়ে, ঠান্ডায় রক্তনালি সংকোচনের প্রভাব কী এবং কীভাবে খাদ্যাভ্যাস, শুকনো ফল ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, জানুন।

Blood Pressure Control Tips: শীতকালে রক্তচাপ কেন বাড়ে, ঠান্ডায় রক্তনালি সংকোচনের প্রভাব কী এবং কীভাবে খাদ্যাভ্যাস, শুকনো ফল ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, জানুন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Blood Pressure Control Tips: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের টিপস জেনে নিন।

Blood Pressure Control Tips: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের টিপস জেনে নিন।

Blood Pressure Control Tips: শীতকাল প্রকৃতির এক আরামদায়ক পর্ব হলেও অনেকের জন্য এটি স্বাস্থ্যের দিক থেকে চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। বিশেষ করে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য শীতকালে একটু বেশি সতর্কতা দরকার। কারণ ঠান্ডা পড়লেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শীতল আবহাওয়া শরীর গরম রাখতে রক্তনালিগুলিকে সংকুচিত করে। রক্তনালি সংকুচিত হলে রক্ত সঞ্চালন সংকীর্ণ পথে চলাচল করতে বাধ্য হয়। ফলে হৃদপিণ্ডকে আরও বেশি শক্তি নিয়ে রক্ত পাম্প করতে হয়। এই বাড়তি চাপই রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই শীতের শুরু হলেই অনেক উচ্চ রক্তচাপের রোগী মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ার মত উপসর্গ অনুভব করেন।

Advertisment

রক্তচাপ হল শরীরের রক্তনালিগুলিতে প্রবাহিত রক্তের চাপ পরিমাপের একটি সূচক। সাধারণত স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিমিএইচজি হওয়া উচিত। এর থেকে বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ ধরা হয়, আর দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি চাপ হৃদরোগ, কিডনি বিকল, স্ট্রোক এমনকী চোখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়া এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই শীতকালে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনই খাদ্যাভ্যাসেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন- সকালে খালি পেটে খান এককোয়া রসুন, মিলবে অবাক করা উপকারিতা!

শীতকালের কিছু খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলেন শুকনো ফলগুলো এই তালিকায় অন্যতম। শীতে শরীরের বিপাকক্রিয়া কিছুটা ধীরে কাজ করে, ফলে শরীর গরম রাখতে এবং রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে পুষ্টিকর খাবার দরকার। শুকনো ফলে থাকা খনিজ, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে স্নায়ুর চাপ কমায় এবং রক্তপ্রবাহকে স্বাভাবিক রাখে। বাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ই, যেগুলি রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করে এবং স্নায়ুকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ভেজানো কয়েকটি বাদাম রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

আরও পড়ুন- শৌচাগারে খালি বালতি রেখে দেন? বাথরুমের এই ছোট ভুলই জীবনকে ঠেলে দিচ্ছে বিপর্যয়ের দিকে!

আখরোটে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আখরোট একটি প্রাকৃতিক সাপোর্ট হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি শরীরের প্রদাহ কমায়, হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং রক্ত প্রবাহকে নমনীয় রাখে। অনেকেই সকালে খালি পেটে আখরোট খেয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ বিকেলের নাস্তা হিসেবে খান আখরোট খান, দুটো ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন- সকালে মাত্র ১০ মিনিট এটি করুন, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়বে দ্রুত

খেজুরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর একটি ফল। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমিয়ে রক্তচাপ ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। শীতকালের শুকনো বা ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরে অজান্তেই সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বা জলাভাব দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন ২–৩টি খেজুর শরীরে শক্তি বৃদ্ধি এবং রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরকে তৎক্ষণিক শক্তি দেয়, ফলে শীতের ক্লান্তি দূর হয়।

আরও পড়ুন- বিপদ ডাকছেন! কাল থেকে বরং ছেড়ে দিন নন-স্টিক প্যান, পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের 

কাজুতে থাকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ম্যাগনেসিয়াম এবং খনিজ উপাদান যা হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। অনেকেই জানান, পরিমিত পরিমাণ কাজু খেলে শীতকালে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা কিছুটা কমে। তবে কাজু ক্যালোরি সমৃদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত সেবন ওজনবৃদ্ধির কারণ হতে পারে, আর ওজন বেড়ে গেলে রক্তচাপের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই কাজু নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

শুধু খাবার নয়, শীতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু অভ্যাসও জরুরি। শীতের সকালে অনেকেই বাইরে বেরোতে চান না, কিন্তু রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম অপরিহার্য। শরীর নড়াচড়া করলে রক্তনালিগুলি নমনীয় থাকে এবং হার্টের ওপর চাপ কম পড়ে। পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি, কারণ শীতে তেষ্টা কম পেলে শরীরে জলাভাব দ্রুত বাড়তে পারে। জলাভাব রক্তকে ঘন করে দেয় এবং রক্তচাপ বাড়ায়। তাই দিনে কয়েকবার অল্প করে জলপানের অভ্যাস জরুরি।

শীতকালে মানসিক চাপও রক্তচাপ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। ঠান্ডার কারণে কর্মক্ষমতা কমে গেলে বা সূর্যালোক কম পাওয়া গেলে হরমোনের পরিবর্তন দেখা যায়, যা স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই নিয়মিত ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ লবণযুক্ত খাবার পরিহার করা, অতিরিক্ত চা-কফি কমানো এবং গরম পোশাক পরে শরীর উষ্ণ রাখা—এসবই শীতকালীন রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাই স্বাভাবিক

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাই স্বাভাবিক। খাদ্যাভ্যাসে শুকনো ফল, সঠিক পরিমাণ জল, হালকা ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা নেয়। শীতে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের রোগী, তাঁদের জন্য এই সময় সচেতনতা দ্বিগুণ হওয়া উচিত, কারণ সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সঠিক অভ্যাস এবং পুষ্টিকর খাদ্যের সাহায্যে শীতকালেও সুস্থভাবে কাটানো সম্ভব।

tips blood pressure