/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/03/winter-destinations-2025-12-03-15-50-44.jpg)
Winter Destinations: শীতের গন্তব্য।
Winter Destinations: শীত মানেই ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে এক স্বর্গীয় রূপ। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঢেকে যায় তুষারের সাদা চাদরে। ক্রিসমাস ও বছরের শেষের ছুটি এগিয়ে এলেই মানুষজন শীতকালীন ভ্রমণস্থল খুঁজতে শুরু করেন। ভারত ভৌগোলিক সৌন্দর্যে এত সমৃদ্ধ যে একই মরশুমে আপনি মেঘে ঢাকা পাহাড়, বরফে মোড়া উপত্যকা, ঠান্ডা হাওয়ায় কাঁপতে থাকা বন আর নীরব প্রাকৃতিক দৃশ্য—সবই পেয়ে যাবেন। তাই শীতকাল পরিবারের সঙ্গে কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে একটি স্মরণীয় সফরের জন্য একেবারে উপযুক্ত সময়।
শীত এবং ক্রিসমাসের ভ্রমণস্থল
ভারতের শীতকালীন ভ্রমণস্থল বলতে প্রথমেই মনে আসে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং-এর নাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই অঞ্চলটিতে ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয় ভারী তুষারপাত। শীতকালে তাওয়াং-এর পথ নীরব থাকে, চারদিকজুড়ে থাকে সাদা তুলোর মত তুষার। পাহাড় পেরিয়ে তাওয়াং পৌঁছনোর রাস্তা যেন ছবি আঁকা কোনও পোস্টকার্ডের মত। প্রাচীন তাওয়াং মঠের সামনে দাঁড়িয়ে দূরে মেঘের সঙ্গে পর্বতের খেলাও এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। শীতে জমে যাওয়া হ্রদ, বরফে ঢাকা প্রার্থনার পতাকা আর ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে ভেসে থাকা মন্ত্রোচ্চারণ—সব মিলিয়ে তাওয়াং এক প্রকৃত শীতের রাজ্য।
আরও পড়ুন- ছেলে বা মেয়ের তুখোড় বুদ্ধি চান? এগুলো করান, হাতেনাতে ফল পাবেন
হিমাচল প্রদেশের কল্পা শীতের আরেক রূপকথার জায়গা। কিন্নর জেলার এই শান্ত গ্রামটি বরফে ঢাকা সৌন্দর্যের এক স্বপ্নের মতো। ডিসেম্বর এলেই কিন্নর কৈলাস পর্বতশ্রেণি সাদা আবরণে ঢেকে যায়। পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা আপেলবাগান, তুষারে মোড়া পাইনের জঙ্গল আর কাঠের ঘর—সব মিলিয়ে কল্পা যেন কোনও পরীর দেশের মত লাগে। জনপ্রিয় হিল স্টেশনের ভিড় থেকে দূরে, নিস্তব্ধ পরিবেশের জন্য কল্পা প্রতিবছর শীতপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দ। এখানে কাটানো একটি শান্ত সন্ধ্যা মনকে প্রকৃত শান্তি উপহার দেয়।
আরও পড়ুন- পরিচয় সংকটে জেনারেশন জেড! কীভাবে পারবে বাঁচতে?
উত্তর সিকিমের লাচুং এবং ইয়ুমথাং উপত্যকাও শীতের এক অসাধারণ গন্তব্য। ‘পূর্বের ফুলের উপত্যকা’ নামে পরিচিত ইয়ুমথাং শীতকালে সম্পূর্ণ নতুন রূপ নেয়। বরফ জমে যায় ঝরনা, তুষারে ঢেকে যায় উপত্যকার সবুজ আর রোডোডেনড্রনের বন। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো অঞ্চল এক সাদা জগতে রূপান্তরিত হয়। জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি প্রায় সারা বছরই বরফ পাওয়া যায়, তাই যাঁরা শীতকালীন অভিযানে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এটি এক আদর্শ জায়গা।
আরও পড়ুন- পায়ের তলায় পেঁয়াজ রেখে ঘুমোলে ভাবতেও পারবেন না এত উপকার! কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
উত্তরাখণ্ডের ধনোলটি শীতের আরেক শান্ত, সৌন্দর্যমণ্ডিত গন্তব্য। মুসৌরি থেকে মাত্র এক ঘণ্টার পথ হলেও পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধনোলটি বরফে ঢাকা থাকে। দেবদারু আর রোডোডেনড্রনের জঙ্গলের মাঝে ছোট ছোট কাঠের কটেজ, ঠান্ডা হাওয়া আর নীরবতা মনকে অন্য জগতে নিয়ে যায়। শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে যাঁরা পরিবার নিয়ে আরাম করতে চান, তাঁদের জন্য ধনোলটি একেবারে উপযুক্ত। ইকো পার্ক, ছোট পাহাড়ি হাঁটা পথ আর সাদা বনপথ—শীতের ধনোলটিকে এক বিশেষ অনুভূতিতে ভরিয়ে তোলে।
আরও পড়ুন- অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে বিরাট বিপদ! চরম সতর্কবাণী চিকিৎসকের
অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে স্পিতি ভ্যালির শীতকাল বিশেষ আকর্ষণীয়। শীতকালীন অভিযানের জন্য স্পিতির নাম সবার আগে আসে। ভারতের মধ্যভূমি নামে পরিচিত এই অঞ্চল পুরো শীতজুড়ে বরফে ঢেকে থাকে। কাজা, কিব্বর, লাংজা—প্রতিটি গ্রামই সাদা হয়ে যায় বরফে। তাপমাত্রা যখন মাইনাস কুড়ি ডিগ্রিতে নেমে যায়, তখন স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন দেখা এক বিরল অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। জমে যাওয়া জলপ্রপাত, সাদা পাথুরে পাহাড় আর নিস্তব্ধতা স্পিতিকে করে তোলে এক অন্যরকম শীতের রাজ্য।
অরুণাচল প্রদেশের আরেক লুকানো রত্ন মেচুকা শীতকালে অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। ভারত-চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ছোট্ট শহরটি শীত পড়লেই বদলে যায় সাদা, নীল আর ধূসর রঙে। বরফে ঢাকা ধানক্ষেত, কাঠের ঘর, কুয়াশায় মোড়া পাহাড় আর নীল সিয়োম নদী—সব মিলিয়ে মেচুকা যেন কোনও পুরনো গল্পের বইয়ের পাতা।
এভাবে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য শীতকালীন ভ্রমণস্থল আপনার ক্রিসমাস ও নতুন বছরকে করে তুলতে পারে একদম স্মরণীয়। প্রকৃতির নীরবতা, অ্যাডভেঞ্চারের রোমাঞ্চ, বরফে মোড়া পথ আর যাত্রার নতুন অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ভারত শীতে আপনাকে নিশ্চিতভাবেই বিশেষ কিছু উপহার দেবে। তাই এই শীতে নিজের মত করে একটি প্রিয় গন্তব্য বেছে নিন এবং সাদা রূপকথার মায়াজগতে কিছু সময় কাটিয়ে আসুন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us