Winter Health Tips: শীতকালে ভুল করে এই ৫ খাবার খাবেন না, খেলে ভুগতে হবে অসুস্থতায়!

Winter Health Tips: শীতে আমরা আকছারই খাই, এমন কয়েকটি খাবার এড়াতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেনে নিন শীতকালে কোন খাবারগুলি ক্ষতিকর।

Winter Health Tips: শীতে আমরা আকছারই খাই, এমন কয়েকটি খাবার এড়াতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেনে নিন শীতকালে কোন খাবারগুলি ক্ষতিকর।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Winter Health Tips: শীত খাবার বেছে খান।

Winter Health Tips: শীত খাবার বেছে খান।

Winter Health Tips: শীতকাল বছরের এমন একটি সময়, যখন ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও বদলে যায়। সকাল-সন্ধ্যায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যায়, বাতাসে থাকে ঘন কুয়াশা এবং সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যাসিডিটি, পেটের গণ্ডগোলের মতো মরশুমি অসুখ দ্রুত আক্রমণ করে। তাই শীতকালে কোন খাবার খাওয়া উচিত এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু খাবার আমরা প্রতিদিন খেয়ে ফেলি, যেগুলি শীতকালে শরীরকে আরও দুর্বল করে দেয়।

Advertisment

আয়ুর্বেদ এবং খাদ্যবিজ্ঞানের মতে, শীতের দুই মাসকে শরীরের অভিযোজন-পর্ব বলে ধরা হয়। এই সময়ে শরীর ঠান্ডা পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে বেশি শক্তি ব্যবহার করে। ফলে হজমশক্তিও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই খাবারের ধরন যদি সঠিক না হয়, তবে তাৎক্ষণিক সমস্যা সৃষ্টি করে—যেমন বুকজ্বালা, বদহজম, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, সংক্রমণ বা ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হওয়া।

শীতে এই খাবারগুলো ক্ষতিকর

প্রথমেই আসে পেঁয়াজ। এটি সাধারণত অনেক খাবারে ব্যবহৃত হলেও সনাতন শাস্ত্রে পেঁয়াজকে তামসিক বলা হয়। তার পাশাপাশি এর অ্যাসিডিক প্রকৃতি শীতকালে একেবারেই উপযোগী নয়। শীতের সকালে খালি পেটে বা রাতে পেঁয়াজযুক্ত খাবার বেশি খেলেই গ্যাস, অম্বল বা তীব্র অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যাঁদের অ্যাসিডিটি বা হজমশক্তি দুর্বল, তাঁদের জন্য এই সময় পেঁয়াজ বেশ ক্ষতিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন- বারবার রঙের ঝামেলা নেই, এই ঘরোয়া উপাদানে চুল করুন জঙ্গলের মত ঘন, কালো

এরপর আসে জিরা। আশ্চর্যের বিষয়, আমরা সাধারণত মনে করি জিরা হজমে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় এটি পেটের সমস্যাকে উলটে বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যাঁদের অর্শ বা অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা আছে, তাঁদের জিরা খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। জিরা শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, ফলে রক্তপাতের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। শীতকালে এই সমস্যা আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন- কোমরের মেদ গলাতে দুর্দান্ত কাজের, এই কায়দায় হলুদে বিরাট উপকার

মসুর ডালের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। সনাতন ধর্মীয় গ্রন্থ এবং আয়ুর্বেদে মসুর ডালকে তামসিক খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে। শীতকালে এটি নিয়মিত খেলে অনেকেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। এর পাশাপাশি মসুর ডাল শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা শীতকালে হৃদ্‌যন্ত্রের রোগীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। তাই শীতকালের ঠান্ডা আবহাওয়ায় মসুর ডালের পরিবর্তে মুগ বা মটর ডাল খাওয়াই উত্তম।

আরও পড়ুন- হলুদের ১০টি অসাধারণ গুণ, কীভাবে শরীর ও মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয় কুরকুমিন?

শীতের তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল রসুন। রসুনের উষ্ণতা শরীরকে গরম রাখলেও এর অতিরিক্ত গরম প্রকৃতি শীতকালে ক্ষতিকর হতে পারে। শীতকালে পরিবেশে আর্দ্রতা বাড়ে, যার ফলে ছত্রাক সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। অতিরিক্ত রসুন খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ উষ্ণতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ছত্রাক সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। তাই রসুনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন- ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কীভাবে নিরাপদে ওজন কমাতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই উপবাস করবেন?

সবশেষে আসে বাসি খাবার। শীতকালে অনেক সময় আমরা রাতের খাবার রেখে সকালে খেয়ে নিই বা দুপুরের খাবার রাত পর্যন্ত রেখে দিই। কিন্তু পরিবর্তিত তাপমাত্রা এবং ঘন কুয়াশার কারণে খাবারে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। ফলে বাসি খাবার শরীরে গিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে—যেমন পেট খারাপ, বমি বমি ভাব, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া বা শরীর দুর্বল হয়ে পড়া। তাই শীতকালীন মাসগুলোতে সম্ভব হলে প্রতিবার নতুন রান্না করা খাবার খাওয়াই উত্তম।

এছাড়াও শীতকালে জল কম খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়, যা হজমের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ওপরে উল্লেখিত খাবারগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তীব্র হয়। তাই খাদ্যতালিকায় মরশুমি ফল, উষ্ণ পানীয়, হালকা খাবার এবং সহজপাচ্য ডাল-সবজি রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

শীতকাল স্বাস্থ্য সচেতনতার সময়। অসুস্থতা এড়াতে খাবারের সঠিক নির্বাচনই সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। তাই শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া উপভোগ করার পাশাপাশি ওপরের খাবারগুলি এড়িয়ে চললে আপনি এবং আপনার পরিবার সুস্থ থাকতে পারবেন সহজেই। সামান্য সচেতনতাই পারে শীতের সময়টিতে আপনাকে আরও আরামদায়ক এবং রোগমুক্ত রাখতে।

winter Health Tips