/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/28/alcohol-craving-reduce-2025-11-28-12-04-04.jpg)
Alcohol Craving Reduce: মদ্যপানের ইচ্ছা কমাতে পারে ৫ পানীয়।
Alcohol Craving Reduce: শীতের শুরু মানেই চারপাশে উৎসবের আমেজ। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শহরজুড়ে পার্টি, আড্ডা এবং নানারকম আয়োজন চলতেই থাকে। এমন সময়ে মদ্যপানের প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকেরই। ঠান্ডার রাতে গা গরম রাখার নামে অনেকেই মদের আশ্রয় নেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মদ শরীরে সাময়িক উষ্ণতার অনুভূতি দিলেও আসলে তা রক্তনালির স্বাভাবিক সঙ্কোচন–প্রসারণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত মদ্যপানের ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়া, ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবিটিসের আশঙ্কা বাড়া এবং ইস্কিমিক হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শীতকালে গরম থাকার জন্য বা মুড ফ্রেশ করতে মদের বিকল্প খোঁজা খুবই জরুরি।
ধারণা আর বাস্তব
অনেকেই মনে করেন, পরিমিত মাত্রায় মদ শরীরে তেমন ক্ষতি করে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মদ খুব দ্রুত অভ্যাসে পরিণত হয় এবং অনেকের পক্ষেই সেই 'পরিমিত' সীমা ধরে রাখা সম্ভব হয় না। শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীর উষ্ণ রাখতে বা পার্টির মেজাজে থাকার জন্য মদের বদলে এমন কিছু উষ্ণ এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় রয়েছে, যা শরীরকে গরম রাখবে, মুডও ভালো রাখবে এবং মদ্যপানের ইচ্ছা কমাতেও সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন- দুর্দান্ত রেসিপি, ঘরেই বানিয়ে ফেলুন মন কেড়ে নেওয়া গাজরের পায়েস
এই পাঁচটি পানীয় শুধু সুস্বাদুই নয়, শীতকালের জন্য অত্যন্ত উপকারিও। নিয়মিত এগুলি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক থাকে, ঠান্ডাজনিত অসুখের ঝুঁকি কমে এবং শরীর ভিতর থেকে শক্তি পায়। বিশেষ করে যাঁরা শীতকালে মদ্যপানের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাঁদের জন্য এই পানীয়গুলি বিকল্প হিসেবে চমৎকার।
আরও পড়ুন- দৃষ্টিহীন বাঙালি কিশোর কেসি দে কীভাবে হলেন দেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরসাধক?
কাঠবাদামের দুধ শীতকালের জন্য অন্যতম উপাদেয় উষ্ণ পানীয়। সারা রাত ভিজিয়ে রাখা বাদাম বেটে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে কম আঁচে ফুটিয়ে নিন। এর মধ্যে দারচিনি, এলাচের গুঁড়ো, সামান্য কেশর ও বাদামের কুচি যোগ করলে তা আরও সুস্বাদু হয়। কাঠবাদাম শরীরে ভালো ফ্যাট, প্রোটিন ও ভিটামিন যোগায়, যা শীতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। দিনভর মেটাবলিজম ঠিক রাখতেও এই পানীয় কার্যকর।
আরও পড়ুন- হাওড়ার ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি’, ৩০০ বছরের জাগ্রত মন্দির বড় ভরসা ভক্তদের!
অশ্বগন্ধার চা হচ্ছে মুড শান্ত করা এবং স্ট্রেস কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কাজের একটি উষ্ণ পানীয়। শীতকালে মানসিক ক্লান্তি, অবসাদ বা স্ট্রেস বাড়ে অনেকেরই। তখন অশ্বগন্ধার গরম চা মনকে শান্ত করে এবং স্নায়ুকে শিথিল করে। ফুটন্ত জলে অশ্বগন্ধার গুঁড়ো ঢেকে রেখে তৈরি করা এই পানীয়তে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, শরীরের প্রদাহ কমে এবং ঘুমও ভালো হয়। শীতের রাতে মদ্যপানের ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতেও এটি বেশ কাজের।
আরও পড়ুন- ওয়্যাক্সিং-শেভিং বন্ধ করুন, এই ঘরোয়া পাউডারেই মুখের লোম দূর হবে সহজে
কাশ্মীরি কাওয়া শীতের উত্তাপে শরীর সতেজ রাখতে অনন্য। দারচিনি, এলাচ, কেশর, গ্রিন টি, গোলাপের পাপড়ি এবং কাঠবাদামের কুচি—এই উপাদানগুলির মিশ্রণে তৈরি কাওয়া শরীরকে দ্রুত গরম করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে যারা ঠান্ডা–কাশি বা সাইনাসের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী পানীয়। কাওয়ার সুবাস আর স্বাদ শীতের সন্ধ্যাকে মনোরম করে তোলে, ফলে মদ্যপানের ইচ্ছাও কমে যায় স্বাভাবিকভাবেই।
হলুদ–দারচিনির চা শীতের অসুখ প্রতিরোধে অন্যতম সেরা পানীয়। এতে থাকা হলুদের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ শরীরকে ঠান্ডাজনিত অসুখ থেকে সুরক্ষা দেয়। গোলমরিচের ঝাঁঝ শরীরকে ভিতর থেকে উষ্ণ করে তোলে এবং দারচিনির গন্ধ মুড ফ্রেশ করে। লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় এটা খেলে শীতকালের ভাইরাল সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
উষ্ণ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার পুরো শীতে শরীর চাঙ্গা রাখার ব্যাপারে দারুণ একটি পানীয়। দারচিনি–লবঙ্গ–মেশানো ফুটন্ত জলে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে খেলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং সর্দি–কাশি দূরে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং মদ্যপানের তীব্র ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। যাঁরা ধীরে ধীরে মদের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান, তাঁরা নিয়মিত এই উষ্ণ পানীয় খেলে উপকার পাবেন।
এই পাঁচটি সুস্বাদু উষ্ণ পানীয় সহজেই ঘরে তৈরি করা যায়, এবং এগুলি নিয়মিত পান করলে শীতের সময় শরীর উষ্ণ থাকবে, মন ভালো থাকবে এবং মদ্যপানের ইচ্ছা কমবে। শীতের রাত আর উৎসবের মরশুমকে এখন এই উষ্ণ পানীয়গুলির সঙ্গে আরও স্বাস্থ্যকর করে তুলুন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us