Winter Migraine Relief: শীতকালে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন কেন বাড়ে? জানুন কারণ এবং আয়ুর্বেদিক প্রতিকার

Winter Migraine Relief: শীতকালে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা কেন বেড়ে যায়? আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শীতকালীন মাথাব্যথার কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার জেনে নিন।

Winter Migraine Relief: শীতকালে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা কেন বেড়ে যায়? আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শীতকালীন মাথাব্যথার কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার জেনে নিন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Winter Migraine Relief: শীতকালীন মাথাব্যথার কারণ জানুন।

Winter Migraine Relief: শীতকালীন মাথাব্যথার কারণ জানুন।

Winter Migraine Relief: শীতকাল মানেই শুধু ঠান্ডা নয়, অনেকের জন্য এটি মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার সময়। শীত যত বাড়তে থাকে, ততই মাথার ভারী ভাব, কপালের চাপ, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা হঠাৎ তীব্র মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য শীতকাল কার্যত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। শীতকালে মাইগ্রেনের সমস্যা (Winter Migraine Relief) নিয়ে আলোচনা তাই এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি।

Advertisment

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, শীতকালে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে মাথার রক্তনালিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। এই সংকোচনের ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা সরাসরি মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে ঠান্ডা বাতাস কপাল, কান ও ঘাড়ে লাগলে স্নায়ুগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অনেকেই এই ব্যথাকে ঝিনঝিনে, ধকধকে বা মাথার ভেতরে ভারী চাপ হিসেবে অনুভব করেন।

আরও পড়ুন- নতুন বছরে অগ্রাধিকার দিন মানসিক স্বাস্থ্যকে, নিজেকে গড়ে তুলতে এইসব অভ্যাস বদলান

আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে, শীতকাল বাত দোষকে অত্যধিক সক্রিয় করে তোলে। বাত দোষের মূল গুণ শুষ্কতা এবং শীতলতা। এই দোষের ভারসাম্য নষ্ট হলে স্নায়ু, মস্তিষ্ক এবং রক্তসঞ্চালনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলেই শীতকালে মাথাব্যথা এবং অর্ধভেদক অর্থাৎ মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যায়। আয়ুর্বেদে তাই শীতকালে শরীরকে উষ্ণ ও আর্দ্র রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- দেখতে স্বাস্থ্যকর, এই ৬ খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে!

শীতকালে মাথাব্যথা বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হল কম জল পান করা। ঠান্ডার সময় তৃষ্ণা কম অনুভূত হয় বলে অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম জল পান করেন। এর ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। রক্ত ঘন হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছতে সমস্যা হয়। এই অবস্থায় মাইগ্রেনের ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। শীতকালে মাথাব্যথার কারণগুলোর (Winter Headache Causes) মধ্যে ডিহাইড্রেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

আরও পড়ুন- ব্রেনের সক্ষমতা বাড়াতে চান? প্রতিদিন সাহায্য করবে ম্যাগনেসিয়াম

সূর্যালোকের অভাবও শীতকালীন মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের জন্য দায়ী। শীতকালে দিনের আলো কম থাকে, ফলে শরীরে ভিটামিন ডি (Vitamin D)-এর ঘাটতি দেখা যায়। ভিটামিন ডি মস্তিষ্কের সেরোটোনিন হরমোনের সঙ্গে যুক্ত, যা ব্যথা ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেরোটোনিন কমে গেলে মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়ে। আয়ুর্বেদে একে পিত্ত দোষের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন- শীতকালে সুজি বা বেসন ছাড়াই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর খেজুরের হালুয়া

শীতকালে ভারী লেপ বা কম্বল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে ঘুমানোর অভ্যাসও মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। এতে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে চাপ পড়ে এবং সার্ভাইকাল সমস্যা তৈরি হয়। এই চাপ ধীরে মাথার দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যথার সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে মাথাব্যথা শুরু হয়, যা সারাদিন ধরে চলতে পারে।

সাধারণ মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেনের মধ্যে পার্থক্য বোঝাও জরুরি। সাধারণ মাথাব্যথা সাধারণত পুরো মাথাজুড়ে হালকা বা মাঝারি ব্যথা সৃষ্টি করে এবং বিশ্রাম নিলে তা কমে যায়। কিন্তু মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা হয়, যার সঙ্গে বমি ভাব, আলো ও শব্দে অস্বস্তি আর চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ যুক্ত থাকে। আয়ুর্বেদে এই অবস্থাকে অর্ধভেদক বলা হয়।

শীতকালে মাইগ্রেনের সমস্যা (Winter Migraine Relief) কমানোর জন্য আয়ুর্বেদে কিছু অত্যন্ত কার্যকর ও প্রাকৃতিক প্রতিকার রয়েছে। হালকা গরম তিলের তেল বা সরিষার তেল দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে নিয়মিত মালিশ করলে স্নায়ু শান্ত হয়, রক্তসঞ্চালনও ভালো থাকে। আদা ও তুলসী দিয়ে তৈরি উষ্ণ পানীয় শরীরের ভেতর থেকে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নাস্য কর্ম অর্থাৎ নাকে অল্প পরিমাণে তিলের তেল বা ঘি দেওয়া শীতকালীন মাইগ্রেনের জন্য বিশেষ উপকারী বলে মনে করা হয়।

হালকা গরম জলের ভাপ

হালকা গরম জলের ভাপ নিলেও মাথার জড়তা এবং সাইনাসজনিত চাপ অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি হজমশক্তি ভালো রাখা এক্ষেত্রে জরুরি। কারণ আয়ুর্বেদ মতে দুর্বল হজমশক্তি, পিত্তদোষ বাড়িয়ে মাথাব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। এই কারণে শীতকালে হালকা ও উষ্ণ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন এড়াতে শরীরের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত জল পান করা, মাথা ও কান ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা করা, নিয়মিত রোদে বসা এবং আয়ুর্বেদিক অভ্যাস মেনে চললে শীতকাল অনেকটাই আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

winter Migraine relief