Winter Skincare: শীত পড়তেই বাড়ছে ত্বকের সমস্যা, ঘরে থাকা ১ উপাদানেই মিলবে গ্লাস-স্কিন জেল্লা

Winter Skincare: শীতের রুক্ষতা, ফাটা ত্বক আর ডি-হাইড্রেশনে স্কিনের জেল্লা কমে যায়। ঘরে থাকা অ্যালোভেরা বা মধুর মত এক উপাদানেই মাত্র ১০ মিনিটে পান গ্লাস-স্কিন উজ্জ্বলতা।

Winter Skincare: শীতের রুক্ষতা, ফাটা ত্বক আর ডি-হাইড্রেশনে স্কিনের জেল্লা কমে যায়। ঘরে থাকা অ্যালোভেরা বা মধুর মত এক উপাদানেই মাত্র ১০ মিনিটে পান গ্লাস-স্কিন উজ্জ্বলতা।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Winter Skincare: শীতে এই কায়দায় করুন ত্বকের পরিচর্যা।

Winter Skincare: শীতে এই কায়দায় করুন ত্বকের পরিচর্যা।

Winter Skincare: শীত পড়লেই বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ত্বক হারায় তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা। অনেকেই অনুভব করেন মুখে টান ধরার মতো শুষ্কভাব, স্কিনের ওপরে সাদা খসখসে স্তর, ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা গালে রুক্ষতা। এই পরিবর্তনগুলো শুধু বাহ্যিক নয়। ত্বকের ভেতরের হাইড্রেশন স্তরও কমে যায় বলে স্কিন জেল্লা হারিয়ে ফ্যাকাশে দেখায়। বাজারের অনেক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কারণ স্কিনের গভীর স্তরে জল ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়াই আসল সমস্যা।

Advertisment

এই সময় ঘরেই মজুত থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান অসাধারণ কাজ করতে পারে। অ্যালোভেরা জেল, কাঁচা মধু কিংবা পাকা পেঁপের জেল—এই তিনটি উপাদান শুধু ত্বক নরমই করে না, স্কিনকে ভেতর থেকে শক্ত করে গ্লাস-স্কিনের মত স্বচ্ছ উজ্জ্বলতা ফেরায়। এই উপাদানগুলো শতভাগ প্রাকৃতিক হওয়ায় সংবেদনশীল ত্বকেও খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায়। এই কারণে শীতের স্কিনকেয়ার রুটিনে এগুলো ব্যবহার করলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবর্তন দেখা যায়।

গ্লাস-স্কিনের মত স্বচ্ছ উজ্জ্বলতা

অ্যালোভেরা জেলে থাকে পলিস্যাকারাইড, যা স্কিনে ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। শীতে যাদের ত্বকে টান ধরা অনুভূত হয়, তারা অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে খুব দ্রুত আরাম পান। এছাড়া অ্যালোভেরা ত্বকের লালচে ভাব, জ্বালা বা ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক জেল হওয়ায় এটি ত্বকে খুব দ্রুত শোষিত হয় আর গভীর স্তর পর্যন্ত পৌঁছে স্কিনকে শান্ত করে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অ্যালোভেরা লাগিয়ে রাখলে সকালে মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা দেখা যায়।

Advertisment

আরও পড়ুন- প্রতিদিন দেওয়ালে পা তুলে ঘুমোন, পান বিরাট উপকারিতা, ১০ মিনিটেই শরীর-মন হবে তরতাজা

কাঁচা মধু শীতকালে অন্যতম সেরা স্কিন ম্যাজিক। মধুতে আছে হিউমেকট্যান্ট বৈশিষ্ট্য, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে এনে ত্বকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই শুষ্ক আবহাওয়ায় এটি ত্বকের জেল্লা ধরে রাখার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। মধু ত্বকের খসখসে ভাব দূর করে ত্বককে নরম করে এবং স্কিন টেক্সচার সমান রাখে। অনেকে মধু লাগালে স্টিকি ভাব নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তবে ১০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেললে স্কিন একদম সিল্কি ফিনিশ পায়। রোদে পোড়া দাগ বা পিগমেন্টেশন থাকলেও মধু ধীরে ধীরে তা হালকা করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- আজ ১লা ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস, নতুন করে সচেতনতার শপথ গ্রহণের দিন

পাকা পেঁপের জেল বা ম্যাশ করা পেঁপে শীতের স্কিন রিভাইভালের আরেক চমৎকার উপায়। পেঁপেতে থাকে এনজাইম—পাপেইন, যা ত্বকের মৃত কোষ তুলে স্কিনকে ভেতর থেকে স্মুথ করে। শীতে মৃত কোষ জমে স্কিন ডার্ক ও নিস্তেজ দেখায়। সপ্তাহে দুবার পেঁপের মাস্ক লাগালে স্কিনের ন্যাচারাল গ্লো উঠে আসে। পেঁপে স্কিনকে ভেতর থেকে পুষ্টি দেয় এবং শুষ্কতা কমিয়ে ময়েশ্চার লেভেল ব্যালান্স করে।

আরও পড়ুন- ভারতের এই ৬টি অদ্ভুত বেগুনি পাখি, যাদের একবার দেখলে চোখ ফেরানো যায় না!

এই তিনটি উপাদানের যে কোনও একটি ব্যবহার করলেই শীতকালে অল্প সময়ে কাচের মত ত্বকের উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো ফলের জন্য এগুলো পরিষ্কার, শুকনো মুখে ব্যবহার করতে হবে। ত্বকে আগে ময়লা বা তেল থাকলে উপাদানগুলো ঠিকমতো শোষিত হয় না, ফলে উজ্জ্বলতা আসতেও দেরি হয়। তাই প্রথমে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ত্বককে তৈরি করে নিতে হবে। এরপর পাতলা স্তরে অ্যালোভেরা বা মধু বা পেঁপে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক দ্রুত নরম হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন- সূর্য সেনের বিপ্লবী সেনাদলের প্রধান, স্বাধীন ভারতেও জেলে ছিলেন ৮ বছর

শীতে পর্যাপ্ত জলপান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে যতই ময়েশ্চারাইজার লাগানো হোক, যদি ভেতরে জলের ঘাটতি থাকে, স্কিন কখনোই স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে পারে না। শীতকালীন খাবার—যেমন কমলা, ডাবের জল, শসা, গাজর—এগুলোর মধ্যে থাকা জল ও ভিটামিন ত্বকের আর্দ্রতায় বড় ভূমিকা রাখে। এগুলো প্রতিদিনের খাবারে রাখলে ত্বক আরও দ্রুত উজ্জ্বল হয়।

শীতের বাতাসে লুকিয়ে থাকা ধুলোবালি ত্বক বন্ধ করে দেয়। তাই দিনে অন্তত একবার ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার রাখলে অ্যালোভেরা বা মধুর মত উপাদানগুলো আরও কার্যকরীভাবে কাজ করতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে লাইট স্কিনকেয়ার রুটিন রাখলে পরদিন সকালে ত্বক অনেকটাই সতেজ লাগে। শীতে রোদও ত্বককে ড্যামেজ করতে পারে, তাই দিনের বেলায় ঘরে-বাইরে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন।

সঠিক জিনিস বেছে নিলে, রুটিন মানলে এবং ত্বকের প্রতি নিয়মিত যত্ন বজায় রাখলে শীতকালেও গ্লাস-স্কিন উজ্জ্বলতা ধরে রাখা খুবই সহজ হবে। ঘরে থাকা সহজ উপাদানগুলোই এক্ষেত্রে হতে পারে আপনার শীতের স্কিনকেয়ারের সবচেয়ে নিরাপদ ও কাজের জিনিস।

winter skincare