Home Remedy: শীত পড়তেই ঘরে ঘরে গলা ব্যথা! এই উপকরণই করে তুলবে সুস্থ

Home Remedy: শীতে গলা ব্যথা, ফোলাভাব বা জ্বালা প্রতিটি ঘরেরই সমস্যা। ঘরেই মিলবে সমাধান। সহজ ঘরোয়া উপকরণেই কীভাবে দ্রুত সমাধান পাবেন, বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

Home Remedy: শীতে গলা ব্যথা, ফোলাভাব বা জ্বালা প্রতিটি ঘরেরই সমস্যা। ঘরেই মিলবে সমাধান। সহজ ঘরোয়া উপকরণেই কীভাবে দ্রুত সমাধান পাবেন, বিস্তারিত জেনে নিন এখানে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Sore throat remedy: শীতে ঘরোয়া কায়দায় সারান গলা ব্যথা।

Sore throat remedy: শীতে ঘরোয়া কায়দায় সারান গলা ব্যথা।

Home Remedy: শীতকাল এলে অনেকেই প্রথমে যে সমস্যার মুখোমুখি হন, তা হল গলা ব্যথা। ঠান্ডা ও শুকনো বাতাস, সর্দি–কাশির ভাইরাস, দূষণ এবং অ্যালার্জি—সব মিলিয়ে গলা দ্রুত সংক্রমিত হয় এবং ব্যথা, খুসখুস, জ্বালা বা ফোলাভাব দেখা দেয়। গলা ব্যথা হলে গিলতে কষ্ট হয়, কথা বলতে সমস্যা হয় এবং সারাদিন অস্বস্তি লেগেই থাকে। এই সময় অনেকেই ওষুধ খেতে চান না বা প্রাকৃতিক সমাধান খোঁজেন। আমাদের ভারতীয় রান্নাঘরে এমন কিছু পুরোনো ঘরোয়া উপায় আছে যেগুলি অত্যন্ত কাজের এবং নিরাপদ পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। এই উপায়গুলো গলার প্রদাহ কমায়, শ্লেষ্মা পাতলা করে, ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং দ্রুত আরাম দেয়।

Advertisment

গলার ব্যথা উপশম করতে সবচেয়ে সহজ এবং কাজের উপায় হল উষ্ণ লবণ জল দিয়ে গার্গল করা। লবণে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক উপাদান গলার টিস্যুতে জমে থাকা জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। একগ্লাস ঈষৎ উষ্ণ গরম জলে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চারবার গার্গল করলে প্রদাহ কমে, জ্বালা কমে এবং গলা পরিষ্কার হয়। এই পদ্ধতি বিশেষভাবে উপকারী যখন গলা শুকিয়ে যায় বা সর্দির কারণে শ্লেষ্মা জমে থাকে।

আরও পড়ুন- এটা দিয়ে শুরু করুন দিন, ত্বকে ফিরবে তরুণ্য, স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা

আরেকটি অত্যন্ত শক্তিশালী ঘরোয়া প্রতিকার হল মধু এবং আদার মিশ্রণ। খাঁটি মধু গলায় একটি প্রাকৃতিক কোটিং তৈরি করে যা ব্যথা কমায়, জ্বালা দূর করে এবং শ্লেষ্মার ঘনত্ব কমায়। অন্যদিকে আদার রসে থাকা জিঞ্জেরল প্রদাহের বিরুদ্ধে দ্রুত কাজ করে এবং ইনফেকশন কমানোর ক্ষমতা রাখে। এক চা চামচ মধু ও আদার মিশ্রণ ধীরে ধীরে মুখে গলিয়ে খেলে গলা ব্যথা দ্রুত কমে এবং গলার ভিতরে আরাম লাগে। যাঁরা ঘনঘন সর্দি–কাশিতে ভোগেন তাঁরা এই মিশ্রণ প্রতিদিন খেতে পারেন।

আরও পড়ুন- অতিরিক্ত ঝিমুনিতে কাজে, লেখাপড়ায় বিরাট অসুবিধা? এই কায়দায় সহজে দূর করুন ক্লান্তি!

গলা ব্যথা ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া প্রতিরোধে হলুদের দুধ এক অসাধারণ উপায়। রাতের বেলা ঘুমাতে যাওয়ার আগে উষ্ণ দুধে এক চিমটি হলুদ এবং সামান্য কালো মরিচ মিশিয়ে পান করলে দেহ ভিতর থেকে উষ্ণ হয় এবং সংক্রমণ দ্রুত সেরে যায়। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন একটি শক্তিশালী প্রদাহ–নিবারক উপাদান যা গলার ইনফ্লেমেশন কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অনেকেরই শীতে গলা শুকিয়ে যায়, সেই ক্ষেত্রেও হলুদের দুধ দ্রুত আরাম দেয়।

আরও পড়ুন- বয়স ৪০, ক্লান্ত লাগে? নিন এই জিনিস নিজেই বুঝবেন, বদলে গেছে হালচাল!

তুলসী এবং ধনে বীজের বাষ্প শ্বাস নেওয়া, শীতে গলা ব্যথার অন্যতম কার্যকর ঘরোয়া থেরাপি। তুলসী পাতা গলার প্রদাহ ও কাশি কমাতে সাহায্য করে এবং ধনে বীজ শ্লেষ্মা পাতলা করে। গরম জলে তুলসী ও ধনে ফুটিয়ে মাথা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে বাষ্প নিলে গলা পরিষ্কার হয়, নাকের বন্ধভাব কমে যায় এবং কথা বলার সময় ব্যথা কম অনুভূত হয়। এই বাষ্প বিশেষভাবে উপকারী যখন গলায় শ্লেষ্মা জমে থাকে বা সাইনাসের সমস্যা বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন- রোগা হতে চান? ফলো করুন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারির এই রুটিন, দিনে মাত্র ৩ বার

শীতকালে জল কম পান করার অভ্যাসও গলা ব্যথার বড় কারণ। তাই গলা ব্যথা প্রতিরোধে প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে গরম জল বা উষ্ণ পানীয় পান করা দরকার। গরম জল ব্যথা কমায় এবং গলা আর্দ্র রাখে, যা ভাইরাল ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়ক। স্যুপ, হার্বাল চা বা লেবু মিশ্রিত গরম জল শীতকালে গলা পরিষ্কার রাখতে বিশেষভাবে উপকারী।

দূষণ এবং ঠান্ডা হাওয়ার সমস্যা

দূষণ এবং ঠান্ডা হাওয়া থেকে গলা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হলে স্কার্ফ বা মাস্ক ব্যবহার করলে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি গলায় লাগে না, ফলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা কমে। বাড়ির ভেতর আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে গলা শুকনো থাকে না, তাই ব্যথাও কম হয়। সবশেষে মনে রাখা দরকার, এই সব ঘরোয়া উপায় সাধারণ গলা ব্যথায় অত্যন্ত কার্যকর হলেও যদি ব্যথা ও জ্বর তিন দিনের বেশি থাকে বা গিলতে খুব অসুবিধা হয়, অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

home remedy