Water Drinking in Winter: শীতকালে দিনে কতটা জল পান করা উচিত? জানুন, বিশেষজ্ঞরা কী বলেন

Water Drinking in Winter: শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও দিনে কতটা জল পান করা উচিত জানেন কি? কম জল পানের ফলে হজমের সমস্যা, ত্বক শুকনো হওয়া এবং শরীর ক্লান্ত থাকার কারণ সহজ বাংলায় জানুন।

Water Drinking in Winter: শীতে তৃষ্ণা কম পেলেও দিনে কতটা জল পান করা উচিত জানেন কি? কম জল পানের ফলে হজমের সমস্যা, ত্বক শুকনো হওয়া এবং শরীর ক্লান্ত থাকার কারণ সহজ বাংলায় জানুন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Water Drinking in Winter: শীতকালে কতটা জল পান করবেন?

Water Drinking in Winter: শীতকালে কতটা জল পান করবেন?

Winter Water Intake: আমাদের শরীরে জলের প্রয়োজন শীতকালে কমে যায়, এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই আছে। কিন্তু, এটি ভুল ধারণা। আসলে ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমাদের ঘাম কম হয়। সেই জন্য তৃষ্ণার বোধটা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। আর, তাই আমরা অজান্তেই কম জল পান করি। বাস্তবে শীতে শরীরের ভেতরকার কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত জলপান অত্যন্ত দরকার।

Advertisment

কেন জলের প্রয়োজন?

মানুষের শরীরের অধিকাংশ অংশই জল দিয়ে তৈরি। হজম প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে রক্ত সঞ্চালন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া, সবেতেই জল অপরিহার্য। শীতে জল কম খেলে এই  স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো ধীরে চলে। আর, তার ফলে শরীরে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। 

আরও পড়ুন- শীতে পেয়ারা খেলে শরীর পায় রোগ প্রতিরোধ শক্তি থেকে ত্বকের সুরক্ষা, জানেন কীভাবে?

এর মধ্যে শীতকালে যে সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়, তা হল হজমের সমস্যা। যথেষ্ট জল না পেলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না। এর ফলে গ্যাস, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্যর মত সমস্যা বাড়ে। অনেতেই শীতে ভারী এবং তেল-মশলাযুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খান। কিন্তু, জল কম পান করার ফলে সেই খাবার হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়। 

আরও পড়ুন- একবার ব্যবহার করা তেল ফের গরম করে রান্না? নিজের কতটা ক্ষতি করেছেন দেখুন!

আমাদের শরীরে ত্বকের ওপরেও জলের অভাবের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। শীতকালে বাতাস শুষ্ক হওয়ায় ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। তার ওপর জল কম পান করলে ত্বক আরও শুকনো, খসখসে আর প্রাণহীন দেখাতে শুরু করে। অনেকের ঠোঁট ফেটে যায়। চামড়া উঠে যায়। চুল রুক্ষ হয়ে ওঠে। যার মূল কারণ শরীরে জলের ঘাটতি। 

আরও পড়ুন- শীতকালে পেটের সমস্যা বাড়ে কেন? অজান্তেই এই ভুলগুলো করছেন না তো?

শুধু তাই নয়, শীতকালে জল কম খেলেও শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত জল না মেলায় রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক হয় না। ফলে শরীরের কোষগুলো তার প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না। এর ফলেই অল্প পরিশ্রমে আমাদের ক্লান্তি লাগে। মাথা ভার হয়ে যায়। মনোযোগ কমে যায়। 

আরও পড়ুন- বিশ্বগুরু কলকাতা! বাইরের দুনিয়াকে হেড ম্যাসাজ, শ্যাম্পুর সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন এই শহরের নাগরিক

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত দুই থেকে আড়াই লিটার মত জল পানের প্রয়োজন। শরীরের ওজন, কাজের ধরণ আর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণ কিছুটা কম অথবা বেশি হলেও হতে পারে। তবে তৃষ্ণা না পেলেও আমাদের কিন্তু নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

অনেকেই শীতে ঠান্ডা জল পানে অনীহা বোধ করেন। এক্ষেত্রে ঈষৎ উষ্ণ গরম জল পান করা যেতে পারে। এমন গরম জল হজমশক্তিকে উন্নত করে এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম জল পান করলে শরীর বিষমুক্ত হয়। আর, সারাদিন সুস্থ থাকা সম্ভব হয়।

জলের পাশাপাশি শীতকালে জলযুক্ত ফল আর সবজি খাওয়াও আমাদের শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। কমলা, আপেল, পেয়ারা, শসা, টমেটোর মতো খাবার আমাদের শরীরকে জল সরবরাহ করে। তবে শুধুমাত্র খাবারের ওপর নির্ভর না করে আলাদা করে জল পানের অভ্যাস রাখা দরকার।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালে তৃষ্ণা কম পেলেও জল পানের গুরুত্ব কিন্তু কোনওভাবেই কমে না। বরং এই সময় সচেতনভাবে জল পান না করলে শরীরে নানা সমস্যা বাড়তে পারে। তাই সুস্থ থাকতে, ত্বক সুন্দর রাখতে এবং হজমশক্তি ঠিক রাখতে শীতকালেও নিয়ম করে পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি।

winter water