Winter Weight Gain Prevention: জানুন শীতকালে ওজন বৃদ্ধি রোধ করার উপায়, স্থূলতা এড়াতে এই বিষয়গুলি মনে রাখবেন!

Winter Weight Gain Prevention: টিপস অনুযায়ী শীতকালে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা এড়াতে কী খাবেন, কীভাবে ব্যায়াম করবেন ও কোন অভ্যাস বদলানো জরুরি, জানুন সহজ বাংলায়।

Winter Weight Gain Prevention: টিপস অনুযায়ী শীতকালে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা এড়াতে কী খাবেন, কীভাবে ব্যায়াম করবেন ও কোন অভ্যাস বদলানো জরুরি, জানুন সহজ বাংলায়।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Winter Weight Gain Prevention: শীতকালে স্থূলতা এড়ানোর উপায় জানুন।

Winter Weight Gain Prevention: শীতকালে স্থূলতা এড়ানোর উপায় জানুন।

Winter Weight Gain Prevention: শীতকাল এলেই অনেকের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরকে উষ্ণ রাখার জন্য বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় ক্ষুধা বেড়ে যায়। এই সময়ে মানুষ এমন খাবারের দিকে বেশি ঝোঁকে যেগুলো শরীর গরম রাখে কিন্তু একই সঙ্গে ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণও বেশি থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয় উৎসবের মরশুম, ঘরে ঘরে নানা রকম ভাজাভুজি ও মিষ্টি খাবার। সব মিলিয়ে শীতকালে ওজন বৃদ্ধি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

Advertisment

শীতে সচেতনতা জরুরি

শীতে সচেতন না হলে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই ওজন অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। শীতে মানুষ সাধারণত কম নড়াচড়া করেন, সকালে হাঁটা বা ব্যায়াম করতে আলস্য বোধ করেন। ঠান্ডায় বাইরে বেরোতে ইচ্ছা না হওয়ায় শরীরচর্চা কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওজনের ওপর। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে শীতকালেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন- মাত্র ২ চামচ কফি পাউডারে চুল করুন কালো, জানুন চুল পড়া বন্ধ করা ও চুল ঘন করার গোপন উপায়

শীতকালে গরম পানীয় খাওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক। কিন্তু চা, কফি বা গরম চকোলেটের পরিবর্তে স্যুপ ও ভেষজ পানীয় বেছে নেওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। চিনিযুক্ত চা বা স্বাদযুক্ত কফি শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে, যা মেদ বাড়ায়। হালকা সবজি স্যুপ বা আদা, তুলসী, দারুচিনি দিয়ে তৈরি ভেষজ পানীয় শরীর গরম রাখার পাশাপাশি হজমেও সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- বেরোনোর সময় হাঁচি হলে কি বিপদ নিশ্চিত? শুভ কাজ শুরুর আগে হাঁচি কি সত্যিই অশুভ, না কি সবটাই কুসংস্কার?

এই সময়ে প্রোটিন গ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। প্রোটিন শরীরকে দীর্ঘক্ষণ তৃপ্ত রাখে এবং পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ফলে অকারণে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ডিম, ডাল, ছোলা, দই এবং মৌসুমি ফল খাদ্যতালিকায় রাখলে শীতকালে ওজন বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্ত ভাজা খাবারের বদলে এসব খাবার শরীরের জন্য উপকারী।

আরও পড়ুন- শীতকালে হাত ও পায়ের আঙুল ফুলে যায় কেন? ব্যথা বা চুলকানি কমাতে জানুন ঘরোয়া প্রতিকার!

শীতকাল মানেই বাজারে নানা ধরনের সবুজ শাকসবজি এবং টাটকা ফল। এই সময়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও কম চিনিযুক্ত ফল বেশি করে রাখলে শরীরে ফাইবারের জোগান বাড়ে। ফাইবার হজম ভালো রাখে এবং পেট ভরার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো যায়। শীতকালে আলু, কেক, বিস্কুট বা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন- ৫১ বছর বয়সেও ২৫-এর মতো পেশীবহুল শরীর, জানুন বলিউডের গ্রিক গডের ফিটনেস রহস্য

ঠান্ডার অজুহাতে ব্যায়াম বন্ধ করে দিলে ওজন বৃদ্ধি প্রায় নিশ্চিত। বাইরে হাঁটতে না পারলে ঘরের ভেতরেই সহজ ব্যায়াম করা যেতে পারে। নিয়মিত স্কোয়াট, লাঞ্জ, স্ট্রেচিং বা হালকা যোগাভ্যাস শরীর সচল রাখে এবং ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও শরীরচর্চা করলে শীতকালে ফিট থাকা সম্ভব।

শীতকালে পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি হয়, যেখানে অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়ানো কঠিন। তবে পার্টিতে যাওয়ার আগে হালকা কিছু খেয়ে নিলে সেখানে অতিরিক্ত খাওয়া কমে যায়। এতে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিও কমে।

মিষ্টি শীতকালের অন্যতম আকর্ষণ। হালুয়া, লাড্ডু বা নানা ধরনের পিঠে খাওয়া একেবারে বন্ধ করা না গেলেও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অল্প করে খেলে স্বাদও পাওয়া যায় আবার ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। একইভাবে শীতকালে অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চিনিযুক্ত ককটেল বা কার্বনেটেড পানীয়ের সঙ্গে অ্যালকোহল ওজন দ্রুত বাড়ায়, তাই এর পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সুস্বাস্থ্য কেবল ডায়েট নয়, বরং একটি সচেতন জীবনযাত্রার ফল। খাবার, ব্যায়াম ও দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শীতকালেও সুস্থ এবং ফিট থাকা সম্ভব।

winter weight