/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/women-health-after-50-2026-01-24-21-58-29.jpg)
Women Health After 50: ৫০-এর পর স্বাস্থ্য সম্পর্কে শঙ্কিত থাকেন মহিলারা।
Women Health After 50: অর্ধশতবর্ষে পা দেওয়ার সঙ্গে অনেক মহিলার মনেই একটা ভয় কাজ করে—এবার বুঝি শরীর আর আগের মত থাকবে না। অথচ চিকিৎসকদের মতে, ৫০-এর পরের সময়টাই হতে পারে জীবনের সবচেয়ে সচেতন, সুস্থ এবং ভারসাম্যপূর্ণ অধ্যায়। এই বয়সে শরীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে ঠিকই, কিন্তু সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব।
মেনোপজের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিপাকক্রিয়া, হাড়ের ঘনত্ব, পেশির শক্তি এবং হৃদ্যন্ত্রের ওপর। অনেকের ক্ষেত্রে পেটের মেদ বাড়ে, হাড় দুর্বল হয়, ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। তবে এগুলিকে বয়সজনিত অনিবার্য সমস্যা ভাবার কোনও কারণ নেই।
আরও পড়ুন- এবছর ৭৭ না ৭৮তম প্রজাতন্ত্র দিবস?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় দৈনন্দিন ছোট অভ্যাসই সবচেয়ে বড় ওষুধের কাজ করে। কী খাবেন, কতটা হাঁটবেন, কতটা ঘুমোবেন—এই সিদ্ধান্তগুলিই নির্ধারণ করে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য। ৫০-এর পর নিয়মিত শরীরচর্চা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলির একটি। ভারী ব্যায়াম নয়, নিয়মিত হাঁটা, হালকা যোগাসন, স্ট্রেচিং বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম পেশি ক্ষয় রোধ করে এবং হাড় মজবুত রাখে। এতে অস্টিওপোরোসিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
আরও পড়ুন- উচ্চশিক্ষায় সফল হন, পরিশ্রম বিফলে যায় না! এই ৫ রাশি দেবী সরস্বতীর বিশেষ কৃপাপ্রাপ্ত
খাদ্যাভ্যাসেও এই বয়সে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত শাকসবজি, ফল, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমালে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। খাবার যেন শুধু পেট ভরানোর জন্য না হয়ে শরীরকে পুষ্ট করার মাধ্যম হয়, সেদিকে নজর রাখা দরকার।
আরও পড়ুন- শীতলষষ্ঠী পালন তো করছেন, এই নিয়মগুলো জানেন তো?
জল পান করার অভ্যাস অনেকেই বয়স বাড়ার সঙ্গে কমিয়ে দেন। অথচ এই বয়সে শরীরের জলশূন্যতা দ্রুত হয়। পর্যাপ্ত জল হজমে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং ত্বক ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুস্থ রাখে। ঘুমের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে, স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখে। ঘুমের অভাব হলে হরমোনের ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হয়।
আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোর পরদিন কেন খাওয়া হয় গোটা সিদ্ধ? জানুন বিস্তারিত
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা ৫০-এর পর সুস্থ থাকার আরেকটি বড় চাবিকাঠি। ধ্যান, প্রার্থনা, শ্বাসের ব্যায়াম বা নিজের পছন্দের কাজে সময় দিলে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে, যা ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই বয়সে সামাজিক যোগাযোগও ভীষণ জরুরি। পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন কিছু শেখা বা সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা একাকীত্ব দূর করে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সক্রিয় মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ থাকেন।
সবচেয়ে বড় কথা, ৫০-এর পর জীবন থেমে যায় না। বরং এই সময়টাই নিজের যত্ন নেওয়ার সেরা সুযোগ। সচেতন সিদ্ধান্ত, ইতিবাচক মনোভাব এবং প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসই পারে এই অধ্যায়কে শক্তি, স্বচ্ছতা ও সুস্থতায় ভরিয়ে তুলতে।
সতর্কতা
এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নতুন কোনও অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us