/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/world-cancer-day-2026-2026-02-04-22-00-30.jpg)
World Cancer Day 2026: বিশ্ব ক্যান্সার দিবস।
World Cancer Day 2026: বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ২০২৬ আমাদের সামনে আবারও একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরল, তা হচ্ছে—ক্যান্সার এখনও বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর রোগ। প্রতিবছর ৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য একটাই, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। ক্যান্সার শুধু শরীরকেই আঘাত করে না, মানসিক এবং আর্থিক দিক থেকেও একজন মানুষ এবং তার পরিবারকে ভেঙে দেয়। তবে আশার কথা হল, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই এখন অনেকটাই সম্ভব বলেই মনে করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু (WHO)-এর আন্তর্জাতিক ক্যান্সার দিবস (World Cancer Day 2026) সংক্রান্ত সর্বশেষ গবেষণা রিপোর্ট বলছে, সঠিক জীবনধারা মেনে চললে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই তথ্য একদিকে যেমন আশাব্যঞ্জক, তেমনই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় শত্রু কোনও ওষুধ নয়, বরং আমাদের ভুল জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস।
আরও পড়ুন- তুলসী পাতা এভাবে ব্যবহার করুন, ব্রণ দূর করে মুখ হবে স্বাভাবিক উজ্জ্বল
তামাক ও অ্যালকোহল ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে অন্যতম। তামাকের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকারক রাসায়নিক শরীরের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে ক্যান্সার কোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। অ্যালকোহল লিভার, মুখগহ্বর এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। WHO স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তামাক ও অ্যালকোহল ত্যাগ করা ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রথম এবং সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ। এই অভ্যাস ছাড়তে সময় লাগলেও ধীরে পরিবর্তনই জীবন দীর্ঘমেয়াদি করতে পারে।
আরও পড়ুন- বলতে গেলে ঘরোয়া জিনিস, এগুলো পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে দুর্দান্ত কাজ করে, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ!
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা আজকের জীবনের আরেকটি বড় সমস্যা। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ব্যায়ামের অভাব শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা (brisk walking) বা হালকা ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আরও পড়ুন- রাতে দাঁত না মাজলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, জানিয়েছেন চিকিৎসকরা
খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত ময়দা এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, রঙিন ফল ও শাকসবজিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল শরীরকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন শাকসবজি, ফল এবং সম্পূর্ণ শস্য কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে প্রাকৃতিক ও মৌসুমি উপাদান রাখাই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন- আরও পড়ুন- বগলের কালো দাগ আর দুর্গন্ধের সমস্যায় ভুগছেন? মাত্র ৫টি ঘরোয়া জিনিসেই মিলতে পারে দ্রুত সমাধান
ঘুমের অভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরে মেলাটোনিন তৈরি করে, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং নিয়মিত ধ্যান মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ক্যান্সার প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ও জীবন বাঁচাতে পারে। অনেকেই ভয় বা অবহেলার কারণে স্ক্রিনিং করান না, যা মারাত্মক ভুল। ৪০ বছরের পর নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ, ম্যামোগ্রাফি, প্যাপ স্মিয়ার এবং রক্ত পরীক্ষা ক্যান্সার দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ক্যান্সারের চিকিৎসা সফলতার হার ৯০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে।
অনেকের ধারণা ক্যান্সার শুধুই বংশগত রোগ, কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্যান্সার জেনেটিক কারণে হয়। বাকি অংশ আমাদের জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। বিশ্ব ক্যান্সার দিবস আমাদের শেখায়, সচেতন সিদ্ধান্তই পারে ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us