/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/16/world-ozone-day-2025-2025-09-16-14-26-13.jpg)
World Ozone Day 2025: বিশ্ব ওজোন দিবস।
World Ozone Day 2025: প্রতি বছর ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় 'বিশ্ব ওজোন দিবস' বা International Day for the Preservation of the Ozone Layer। রাষ্ট্রসংঘ ১৯৯৪ সালে এই দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এর মূল তাৎপর্য হল, ১৯৮৭ সালে গৃহীত মন্ট্রিয়ল প্রোটোকলকে স্মরণ করা। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রতিজ্ঞা করেছিল—ওজোন স্তর ধ্বংসকারী রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
ওজোন স্তর
ওজোন স্তর পৃথিবীর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রায় ১০–৩০ কিমি উচ্চতায় অবস্থিত। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B ও UV-C) শোষণ করে নেয়। যদি এই স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে— ত্বকের ক্যানসার এবং চোখের ছানির মত রোগ বাড়বে। কৃষি উৎপাদন ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। খাদ্যশৃঙ্খলা ও পরিবেশ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হবে। জলবায়ুর পরিবর্তন আরও তীব্র হবে। এ কারণে ওজোন স্তরকে পৃথিবীর 'প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন' বলা হয়।
আরও পড়ুন- বাঙালি, অবাঙালি বিশ্বকর্মার চেহারা একদম আলাদা, কারণটা কী?
এবং
আরও পড়ুন- কলকাতার সঙ্গে জড়িয়ে তাঁর নাম, চিকিৎসায় নোবেল! শেষটা ভালো কাটেনি রসের
১৯১৩ সালে বিজ্ঞানী চার্লস ফ্যাব্রি ও হেনরি বুইসঁ প্রথম ওজোন স্তরের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। পরে ১৯৮০-এর দশকে অ্যান্টার্কটিকার আকাশে 'ওজোন গহ্বর' ধরা পড়ে। এতে বিশ্ববাসী আতঙ্ক ছড়ায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মন্ট্রিয়ল প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রোটোকলের মূল লক্ষ্য ছিল ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFCs)-এর মত ওজোন ক্ষয়কারী পদার্থের ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করা। বর্তমানে বিশ্বের ১৯৭টি দেশ এই চুক্তিতে সই করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে আগামী কয়েক দশকে ওজোন স্তর আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।
আরও পড়ুন- প্রায় ৯০ শতাংশ ভক্ত বিশ্বকর্মার জন্মবৃত্তান্ত জানেন না, জানুন সেই রহস্য
২০২৫ সালে এই দিবস পালনের মূল স্লোগান হল- 'জীবনের জন্য ওজোন' (Ozone for Life)। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ওজোন স্তর শুধুমাত্র বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কেন এই দিবস গুরুত্বপূর্ণ? কারণ, এই দিবস পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির গুরুত্বকে তুলে ধরে। তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
আরও পড়ুন- বিশ্বকর্মার সঙ্গে পুজো পেতেন এই কলকাতায়, তাঁর ছেলেরা ছিলেন রামায়ণেও!
বিশ্ব ওজন দিবস, ২০২৫ (World Ozone Day 2025) কেবল একটি দিন নয়—এটি পৃথিবীকে রক্ষার এক আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতীক। শিক্ষার্থী, গবেষক, নীতি-নির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই যদি সচেতন হয় এবং পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ওজোন স্তর রক্ষা করা সম্ভব হবে। তাই শুধু ১৬ সেপ্টেম্বর নয়, বছরের প্রতিটি দিনই হোক 'পরিবেশ রক্ষার দিন'।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us