/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/12/world-pneumonia-day-2025-2025-11-12-12-12-39.jpg)
World Pneumonia Day 2025: নিউমোনিয়া প্রতিরোধে কোন খাবারগুলো খাওয়া জরুরি?
World Pneumonia Day 2025: প্রতিবছর ১২ নভেম্বর পালন করা হয় বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস (World Pneumonia Day)। এই দিনে বিশ্বজুড়ে মানুষকে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
নিউমোনিয়া এমন এক সংক্রমণ যা এক বা উভয় ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফুসফুসের বায়ুথলি (alveoli) তরল বা পুঁজে ভর্তি হয়ে যায়, ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর এবং ঠান্ডার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই রোগের তীব্রতা হালকা থেকে প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে— নবজাতক এবং ছোট শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তি, দুর্বল ইমিউন সিস্টেম বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা মানুষ, নিউমোনিয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সঠিক খাবার বেছে নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। নীচে এমন কয়েকটি খাবারের কথা বলা হল, যা নিউমোনিয়া থেকে দ্রুত সেরে উঠতে সহায়ক।
এই সব খাবারগুলো হল
১. ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার
কমলালেবু, লেবু, কিউই ও বেরির মতো ফল ভিটামিন সি-এর দুর্দান্ত উৎস। ভিটামিন সি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। তবে গলা ব্যথা থাকলে খুব টক ফল না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে। প্রতিদিন সকালে একগ্লাস গরম লেবু জল বা একমুঠো বেরি আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখবে।
আরও পড়ুন- গাড়িতে উঠলে কারও বমিবমি লাগে, কেউ থাকেন দিব্যি, এই কায়দায় সহজেই মিলবে সমাধান!
২. মধু (Honey)
মধু প্রাচীনকাল থেকেই প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে পরিচিত। নিউমোনিয়ার সময় এটি সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথার অস্বস্তি কমাতে দারুণ কার্যকর। আপনি চাইলে গরম জলে একচামচ মধু ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এটি ফুসফুসে জমে থাকা কফ পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- প্রয়াণবার্ষিকীতে অজানা মনোজ মিত্র! কিংবদন্তি নাট্যকারের অভিনয় রয়েছে বাঙালির হৃদয়জুড়ে!
৩. হলুদ (Turmeric)
হলুদের কারকিউমিন যৌগ প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করে। নিউমোনিয়ায় যে বুকে ব্যথা হয় বা বুক ভারী হয়ে যায়, তা কমাতে হলুদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এককাপ গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে পান করলে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয় এবং ঘুমও ভালো হয়।
আরও পড়ুন- আপনার পেট ব্যথা কি সাধারণ? নাকি পিছনে রয়েছে ৬টি বিপজ্জনক রোগের কোনও একটি?
৪. দই ও প্রোবায়োটিক খাবার
দই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে থাকে প্রোবায়োটিক— অর্থাৎ গুড ব্যাকটেরিয়া, যা হজমে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে। নিউমোনিয়া থেকে সেরে ওঠার সময় দই বা প্রোবায়োটিক ড্রিংক খেলে ফুসফুসের প্রদাহ কমে ও শরীরের রিকভারি দ্রুত হয়।
আরও পড়ুন- ঘন, মজবুত ও ঝলমলে চুলের জন্য ডায়েটে রাখুন এই ৬ খাবার
৫. প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার
নিউমোনিয়ার পর শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং পেশি ক্ষয় হতে শুরু করে। তাই এই সময় খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার। যেমন ডিম, মাছ, মুরগি, সয়াবিন, ডাল, বাদাম ও চিনাবাদাম। প্রোটিন শরীরের টিস্যু পুনর্গঠন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬. শস্য ও কার্বোহাইড্রেট-সমৃদ্ধ খাবার
রোগ চলাকালীন ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা দেখা দেয়, তাই পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া দরকার। বাদামি চাল, ওটস, কুইনোয়া এবং হোল-গ্রেইন রুটি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি জোগায় এবং শরীরের দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে।
৭. সবুজ পাতা ও ক্রুসিফেরাস সবজি
পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি— এই সব সবজিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন থাকে। এগুলো শরীরের টক্সিন দূর করে এবং শ্বাসযন্ত্রকে সংক্রমণ-মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের ডায়েটে এই সবজিগুলি যোগ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও মজবুত হয়।
বিশেষজ্ঞদের টিপস
পর্যাপ্ত জল পান করুন। দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন। ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রাম দুটোই জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা সাপ্লিমেন্ট খাবেন না। নিউমোনিয়া প্রতিরোধের মূলমন্ত্র হল সচেতনতা এবং সুস্থ জীবনযাপন। প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রাকৃতিক খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, ও নিয়মিত ব্যায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করুন। এই বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসে প্রতিজ্ঞা করুন— 'একটি সুস্থ শ্বাস, একটি সুস্থ জীবন।'
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us