scorecardresearch

COVID-19: ভাইরাস ও মানুষ

একশ টাকার মাস্ক বিকোচ্ছে ছয়শ টাকায়, যদিও এখনই সকলে অত মাস্কের প্রয়োজন নেই। ভয়টাকে কাজে লাগিয়ে কালোবাজারি তুঙ্গে, যেমন হয়েছে দুর্ভিক্ষের সময় চাল নিয়ে।

COVID-19: ভাইরাস ও মানুষ
অলংকরণ- অভিজিত বিশ্বাস

সম্প্রতি COVID-19 (Corona virus disease 2019) একটি আন্তর্জাতিক ত্রাস হয়ে উঠেছে। আদতে SARS-CoV-2 (severe acute respiratory syndrome corona virus 2) নামক একটি নতুন ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে শ্বাসনালী ও ফুসফুসে। বেশ কয়েক বছর আগে SARS নামক যে মহামারী হয়েছিল, তার জন্যেও একধরণের করোনা ভাইরাসই ছিল দায়ী। সেই ভাইরাসটির সঙ্গে এই ভাইরাসের বেশ কিছু মিল আছে বলে একে করোনা ভাইরাসের বিশেষ উপভাগ SARS-CoV বলা হচ্ছে, আবার কিছু জিনগত অমিলও আছে বলে ২ সংখ্যাটি জুড়ে SARS-CoV-2 নাম দেওয়া হয়েছে। International Committee of Taxonomy of Viruses এই নামকরণের দায়িত্বে আছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চীনের হুবেই প্রদেশে উহহান (Wuhan) শহরে প্রথম যখন হঠাৎ বেশ কিছু মানুষের নিউমোনিয়া হল, তখন প্রাথমিকভাবে একে “অজানা জ্বর” বলা হয়েছিল। এ থেকে বাঙালিরা ভেবে নেবেন না যে আসলে ডেঙ্গি হচ্ছিল। চীনে রোগের খবর ধামাচাপা না দিয়ে বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাহায্য চাওয়া হয়েছিল, যেকোনো সত্যিকারের অজানা রোগের ক্ষেত্রে সরকারি স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের যা কর্তব্য। সেদেশের স্বাস্থ্যকর্তারা সচেতনভাবে খেয়াল করেছিলেন যে প্রথম ধাপে আক্রান্ত সাতাশ জনের সকলেই একটি নির্দিষ্ট সি-ফুড বাজারের সঙ্গে যুক্ত। এই ছোট বিষয়গুলো খেয়াল করলে রোগের উৎস ও চরিত্র বুঝতে সুবিধা হয়।

প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন, ইতিহাস বিস্মৃত এই নারী দিবসের উদযাপনই কি আমরা চেয়েছিলাম?

সেই থেকে এই নয়া করোনা ভাইরাস (SARS-CoV-2) পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়েছে। তার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়েছে COVID-19 বিষয়ক আতঙ্ক। উৎসব বা উল্লাসের মতো আতঙ্কও একধরণের উত্তেজক (stimulant), যা আমাদের বাঁচতে সাহায্য করে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক পরিসরে। উৎসব ও আতঙ্কের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে সমাজ ঝিমিয়ে পড়ে। বস্তুত ওরকম সুদীর্ঘ অনুত্তেজিত শান্তিতে আমাদের শরীরও ঝিমিয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ে যেতে শুরু করে। মানুষ তাই এই দুয়ের যেকোনোটা পেলেই লুফে নেয়। আপাতত মানুষের বিশ্ব একটি বাস্তব শত্রু পেয়েছে, তাই কাল্পনিক জুজুর পিছনে নিরন্তর ধাওয়া করার রাজনীতিকে দিন কতকের জন্য  ছুটি দিয়ে সত্যিকারের একটা সমস্যাকেও হুজুগে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। চীন, ইরান, থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ইতালি, আমেরিকার মতো দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ভ্রমণ এবং ব্যবসায় বড় মন্দার সৃষ্টি হয়েছে। সেনসেক্স দ্রুত নামছে সিঁড়ি বেয়ে। হেলথ ইকোনমিক্সের উল্টো পিঠ প্রকট হচ্ছে, যা বেশ কালচে।

করোনা ভাইরাসের ভয়ে এটা-সেটা কোরোনা জাতীয় তালিকাযুক্ত অতি প্রয়োজনীয় লেখা ইতোমধ্যে সংবাদপত্রে এবং সোশাল মিডিয়ায় বহুলভাবে প্রচারিত হয়েছে। ফেসবুক হোয়াটস্যাপে কিছু অদ্ভুত অপপ্রচার অবশ্যই হয়েছে, যার ফলে মুরগীর মাংসের দাম নেমেছে একশ টাকার নীচে আর খাসির দাম পৌঁছে গেছে আটশ’য়। পাশাপাশি সঠিক এবং জরুরি প্রচারও অনেক হয়েছে এবং হচ্ছে। কাউকে ফোন করলেও কলার টিউনের বদলে শোনা যাচ্ছে কাশির আওয়াজ ও সাবধান-বাণী। বিভিন্নভাবে এই কথাগুলো বারবার শোনা আর শিখে ফেলা দরকার। বারবার সাবান আর জল দিয়ে অন্তত কুড়ি সেকেন্ড করে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢাকার জন্য হাতের তালুর বদলে অন্যকিছু ব্যবহার করা (কারণ তালু ও আঙুল সংক্রামিত হলে তা থেকে ছোঁয়াছুঁয়ির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায় সবচেয়ে সহজে), সর্দি-কাশি হলে বাচ্চাকে স্কুলে না পাঠানো, সেরকম রোগে আক্রান্ত রোগীদের থেকে কিছুটা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিশ্বাস ও কাশির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো আটকাতে এন-৯৫ মুখোশ (যা রোগীকে পরিয়ে রাখাই সবচেয়ে ভালো), নিজের বা অন্যের ক্ষেত্রে COVID-19 এর সন্দেহ হলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের জানানো, সন্দেহভাজন সংক্রামিত ব্যক্তিদের উপযুক্ত পরিকাঠামোয় আলাদাভাবে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা… এই সবই মহামারী প্রতিরোধে সাহায্য করবে। সাবধানতা সাহায্য করলেও আতঙ্ক বিশেষ সাহায্য করবে না।

পুরভোটেই মিলবে বিধানসভার আভাস

এসব কথা আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু শুধুমাত্র সেই উদ্দেশ্যে এই লেখা নয়। নতুন করোনাভাইরাসের উদ্ভব ও প্রসারের ইতিবৃত্ত লিপিবদ্ধ করার জন্যও নয়, কারণ সেই বিষয়েও ঢের ভালো লেখা আছে। এই ধরণের রোগগুলো থেকে আমরা আরও কিছু কথা শিখি বা শিখতে পারি। সেই কথাগুলোও বলা প্রয়োজন। এখনই বলার সময়, কারণ পরে কেউ শুনবে না।

১) এই দুনিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্ব পায় বাণিজ্য ও অর্থনীতি। রাজনীতির গম্ভীর কথা, গণতন্ত্র, ধর্ম ইত্যাদি বিবিধমণ্ডলীতে কল্কে পেলেও স্বাস্থ্য বিষয়ক কথাবার্তা হালে পানি পায় না। এই সংক্রামক ব্যাধিটি দেখালো যে স্বাস্থ্যের সমস্যা অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে পারে। এটা খেয়াল করা হোক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে অবহেলা করা বন্ধ হোক।

২) COVID-19 মহামারী শুরু হবার পর বিশ্ব জুড়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। ভারতে এখনো রোগটি বড় আকার ধারণ করেনি। তার আগেই সরকারের তরফে বিপুল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রমাণ হল যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো সমস্যাকে গুরুত্ব দিলে সরকারের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব, সরকার সেই কাজে সক্ষম। এভাবে স্বাস্থ্যের প্রধান সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিলে সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো সম্ভব। অথচ ডায়েরিয়ার মতো যেসব সাধারণ, চিকিৎসাযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য অসুখে প্রতিদিন বহু শিশুর মৃত্যু হচ্ছে (যার সংখ্যা করোনাভাইরাসে সম্ভাব্য মৃত্যুর চেয়ে ঢের বেশি), সেসব রোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সব ঢিলেঢালা। এর একটাই কারণ হতে পারে। সেই রোগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না তেমনভাবে। কেন এমন বিমাতৃসুলভ আচরণ সেসব রোগের প্রতি, তারা জনস্বাস্থ্যের বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও? একটা সম্ভাব্য কারণ এই যে ডায়েরিয়ায় প্রতি বছর মারা যায় যে তিন লক্ষ শিশু, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের। আন্তর্জাতিক উড়ানে সংক্রামিত হবার ভয় যে বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের, তাঁদের বাড়ির বাচ্চারা মামুলি রোটা ভাইরাসের আক্রমণে ডায়েরিয়া ডিহাইড্রেশনে মারা যাবে না সহজে। তাই করোনা ভাইরাস যত গুরুত্বপূর্ণ, ডায়েরিয়া বা রোটাভাইরাস এখনো ততটা নয়। অথচ জনস্বাস্থ্য এবং জাতির ভবিষ্যৎ অনেক বেশি করে বিপন্ন হয় ওই বহুদিনের চেনা মামুলি রোগেই। এটুকু খেয়াল রাখলে সহজেই বোঝা যায় জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রেক্ষিতে ক্যান্সারের নতুন ওষুধের চেয়ে “ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট” (ORS) অনেক বড় আবিষ্কার।

৩) শুধু সরকারের মনোভাব নিয়ে সমালোচনা করে লাভ নেই, জনগণের মনোভাবও একইরকম। করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটার আগেই বাজারের সব এন-৯৫ মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি হয়ে গেল। এই সচেতনতা আর প্রতিরোধী মনোভাব বেশ ভালো, কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই সচেতনতার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। ভারতেই বছরে দেড় লক্ষাধিক মানুষ মারা যান সড়ক দুর্ঘটনায়। তা সত্ত্বেও ট্রাফিক আইন মানা বা সামান্য সিট বেল্ট, হেলমেট ব্যবহার করায় কিছুতেই রাজি করানো যায় না এদেশের মানুষকে। হেলমেট ও সিট-বেল্ট থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেন না। অনেকেই ভাবেন এসব উপচার শুধু ট্রাফিক পুলিশকে ধোঁকা দেবার জন্যই কার্যকর। পুলিশ নেই দেখলেই টুক করে সিট-বেল্ট খুলে ফেলা আর বাইকের হ্যাণ্ডেলে হেলেমেট ঝুলিয়ে নিয়ে খালি মাথায় অভিযানে বেরোনো এখনও দস্তুর৷ এসব ক্ষেত্রে সচেতনতার প্রসার ঘটানো যাচ্ছে না দীর্ঘদিনের চেষ্টাতেও। কেন? আমাদের প্রচারে কোনো ফাঁক থেকে যাচ্ছে? নাকি হঠাৎ হুজুগে স্বাস্থ্য সচেতন হতে আমরা যতটা রাজি, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে তত আগ্রহী নই? হুজুগই কি আমাদের একমাত্র চালিকাশক্তি? দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি দেখলে তেমনই মনে হয়।

অশ্লীলতার দায় বড় দায়, বিশেষত এ রাজ্যে

৪) স্বাস্থ্য বাণিজ্য সম্বন্ধে আগেও আমরা লিখেছি। সুযোগ পেলে স্বাস্থ্য-সমস্যা কীভাবে বাণিজ্যের উপকরণ হয়ে ওঠে, তার একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া গেল। একশ টাকার মাস্ক বিকোচ্ছে ছয়শ টাকায়, যদিও এখনই সকলে অত মাস্কের প্রয়োজন নেই। ভয়টাকে কাজে লাগিয়ে কালোবাজারি তুঙ্গে, যেমন হয়েছে দুর্ভিক্ষের সময় চাল নিয়ে। হ্যাণ্ড স্যানিটাইজারের বোতল বিকোচ্ছে হাজার টাকায়। অথচ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যাণ্ড স্যানিটাইজারের চেয়ে সাধারণ সাবান মেখে ভালো করে কুড়ি সেকেন্ডের বেশি সময় ধরে হাত ধোয়া বেশি কার্যকর। বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত আলোচনার সময়ে ভবিষ্যতে এই উদাহরণ মনে রাখা কর্তব্য।

পাশাপাশি মনে করিয়ে দিই, এই প্রেক্ষিতে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক খারাপ করার প্রচেষ্টা সম্বন্ধেও আমরা আলোচনা করেছিলাম। চিকিৎসকদেরই তো মূল ভিলেন সাজানো হয় স্বাস্থ্য পরিষেবার সমস্যা ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য। অথচ করোনাভাইরাসের ছত্রছায়ায় সবকিছুর দাম বেড়ে গেলেও বাড়েনি সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় চিকিৎসকের ফি। বরং নিখরচায় সেবা দেবার উদ্যোগ হয়েছে। চীন-ইতালি-ইরানে যখন সবাই পালাচ্ছেন সংক্রামিত মানুষদের ফেলে, তখন একমাত্র চিকিৎসকেরাই ছুটে যাচ্ছেন তাঁদের কাছে। এই সেবা দিতে গিয়ে মারাও যাচ্ছেন বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। দেশরক্ষার স্বার্থে, দেশের মানুষদের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন তাঁরা। ইতোপূর্বে অন্য মারণরোগের চিকিৎসায় ভারতেও প্রাণ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ভবিষ্যতেও দেবেন। তবু কখনোই মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার সৈনিক হিসেবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনীয়ভাবে আলোচিত হবে না, কারণ ‘অপর’ মানুষকেই আমরা শত্রু মনে করি, রোগ-জীবাণুদের নয়। অন্য দেশ বা ধর্মের মানুষকে মারতে পারাতেই আমাদের একমাত্র বিজয়। সেই কারণেই আমাদের জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হয় না কিছুতেই।

৫) আমাদের সামাজিক আচার ও মূল্যবোধকে আমরা ধ্রুব বলে ধরে নিতে অভ্যস্ত, যদিও তা যুগের আর্থসামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে বদলাতে থাকে। এই মহামারীগুলো কেমনভাবে আমাদের সামাজিকতার গোড়া ধরে ঝাঁকিয়ে দিয়ে যায়, তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই৷ এইচ-আই-ভি এইডস এসে হঠাৎ করে বিংশ শতকের মুক্ত পৃথিবীর যৌন বিবেকে সুড়সুড়ি দিয়েছিল। তাতে একগামিতা আদর্শ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত না হলেও যৌন ব্যাধির বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছিল, বেড়েছিল কণ্ডোমের ব্যবহার, যা জন্ম নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করেছে। এসব বিষয়ে কথাবার্তার ধরণ বদলেছিল এবং সরকার বাধ্য হয়েছিল যৌন কর্মীদের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে।

কলেরা বা বসন্ত মহামারীর যুগে মানুষ যেভাবে মানুষকে ফেলে পালাত, তা সাহিত্যে পড়ে আমরা ছিছি করতাম। তখনকার সমাজের অসহায়তা বা আতঙ্ক আমরা ঠিকমতো বুঝিনি। বোঝার সুযোগ দিল SARS-CoV-2 করোনাভাইরাস। অনেক বেশি উন্নত ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও আমরা পরস্পরের ছোঁয়াচ এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছি, নিজে বাঁচতে চাই বলে। জার্মান মন্ত্রী হর্স্ট সিহোফার গ্রহণ করলেন না স্বয়ং চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের বাড়িয়ে দেওয়া হাত। ক্যামেরার সামনে ঘটে গেল হ্যাণ্ডশেকের মৃত্যু। মার্কেজ হয়ত লিখতে পারতেন “গ্রিটিংস ইন দ্য টাইমস অব করোনা।” এসব দেখে “আমাদের হাতজোড় করে নমস্কারই সবচেয়ে ভালো” বলে হিন্দুত্ববাদী উল্লাসে মেতে উঠে লাভ নেই, বরং বোঝার চেষ্টা করা হোক যে আমাদের সামাজিকতা আর আচার-আচরণের উপর স্বাস্থ্যের বড় প্রভাব আছে। সামগ্রিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের নানা বিষয়ের উপর স্বাস্থ্য ও শারীরবিজ্ঞানের প্রভাব কম নয়। ভবিষ্যতে সেসব কথা আলোচনা করার ইচ্ছা রইল।

(কৌশিক দত্ত আমরি হাসপাতালের চিকিৎসক, মতামত ব্যক্তিগত)

এই কলামের গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলি পড়তে ক্লিক করুন এই লিংকে

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Opinion news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Coronavirus covid 19 human and virus