New Update
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2021/08/Coffee-Cover.jpg)
কলকতায় ‘অ্যালবার্ট হল’! সবাই চমকে উঠবেন। অনেকে হয়তো জানেন না লন্ডনের মতন কলকাতাতেও রয়েছে ‘অ্যালবার্ট হল’। যাকে আমরা কফি হাউস নামে চিনি। হ্যাঁ, সবার প্রিয় কলকাতার কফি হাউস। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ
কলকতায় ‘অ্যালবার্ট হল’! সবাই চমকে উঠবেন। অনেকে হয়তো জানেন না, লন্ডনের মতো কলকাতাতেও রয়েছে ‘অ্যালবার্ট হল’। যাকে আমরা কফি হাউস নামে চিনি। হ্যাঁ, সবার প্রিয় কলকাতার কফি হাউস। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ এর ইট-কাঠ-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। নস্ট্যালজিয়া থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম সব কিছুরই সাক্ষী এই হল। রানি ভিক্টোরিয়ার স্বামী অ্যালবার্ট, প্রিন্স কনসর্টের নামেই এই বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ কলেজ স্ট্রিটের এই বাড়িটি সব বাঙালির কাছে এক নামে চেনা। কলেজ পাড়ার ‘কফি হাউস’ বাঙালির কাছে এক ও অদ্বিতীয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সবার স্মৃতি আগলে রেখেছে কলকাতার ঐতিহাসিক বাড়িটি। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ সময়টা ১৮৪৮ সাল, কলকাতায় তখন ব্রিটিশ জমানা। বিলেত থেকে আসা সাহেবরা সব জায়গাকে তখন লন্ডন ভাবার চেষ্টা করছে। সেই মতো হেনরি পিডিংটন কলকাতাকে লন্ডন বানানোর উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করলেন কফির প্রচলন। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ এর পাশাপাশি আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের মধ্যে মাদকাশক্তি কমানো। আজকের প্রেসিডেন্সি তখন হিন্দু কলেজ। এই কলেজের নামের সুবাদেই এই এলাকা হয়ে গেল কলেজ স্ট্রিট। এরপর তৈরি হল মেডিক্যাল কলেজ। মাধববাবুর বাজারের জায়গায় নির্মিত হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ ওই অঞ্চলে ছাত্রদের বসবাস বাড়ল। আনাগোনা শুরু হল বিদ্যায় ৎসাহীদের। তবে প্রথমেই কফি হাউস কিন্তু গড়ে উঠল না। তার বদলে কফি হাউসের জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ছিল অ্যালবার্ট হল। ব্রাহ্ম নেতা কেশবচন্দ্র সেনের ঠাকুর্দা রামকমল সেন ছিলেন এই বাড়ির মালিক। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ ১৮৭৬ সালে এখানেই অ্যালবার্ট হল করলেন। রামকমল তখন ছিলেন হিন্দু কলেজের ম্যানেজার। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ক্যাপ্টেন ডি এল রিচার্ডসন। রামকমলের এই অ্যালবার্ট হল অধ্যক্ষ সাহেবের এতটাই পছন্দ হয়েছিল তিনি বিশাল বাগানবাড়ি ছেড়ে এসেছিলেন এখানে। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ যদিও এই বাড়ি খ্যাতি অর্জন করেছিল সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের সময়ে। সাহেবিয়ানা আদব কায়দায় প্রতিষ্ঠিত এই ভবন হয়ে উঠল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রস্থল। সময়টা তখন ১৮৭৬ সাল, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী, দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের উদ্যোগে 'ভারত সভা' বা 'Indian Association' প্রতিষ্ঠিত হয়। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ ইতালির মহানেতা ম্যাৎসিনির ইয়ং ইতালির আদর্শে সমগ্র ভারতবাসীকে সংঘবদ্ধ করার লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় 'ভারত সভা'। এই সভায় বেশিরভাগ সদস্যই ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বে ভারত সভাই ছিল ভারতের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ ১৮৮৩ সালে কলকাতার কফি হাউস তৎকালীন অ্যালবার্ট হলে হয়েছিল 'ভারত সভা'-র জাতীয় সম্মেলন। এই ঘর তখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সভায় ঠিক হল- দেশজুড়ে ব্রিটিশ বিরোধী জনমত গড়ে তোলা, সর্বভারতীয় রাজনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ করে তোলা, হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ঐক্য অক্ষুন্ন রাখা, রাজনৈতিক আন্দোলনগুলিতে জনগণকে অংশ গ্রহণ করানো ও এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটানোর প্রচেষ্টা করা। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ বালার এই কফি হাউস থেকেই বাইরে লখনউ, মীরাট, লাহোর, আমেদাবাদ, মাদ্রাজ প্রভৃতি স্থানে ভারত সভার শাখা গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্যে বিপ্লবী এবং বুদ্ধিজীবীদের ঠিকানা হয়ে উঠলো হলটি। একাধিক রাজনৈতিক সভা করেছেন সুভাষচন্দ্র। রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে এখানেই ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছিলেন নেতাজি। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ এরপর মাঝখানে কেটে গিয়েছে অনেকগুলো বছর। ১৯১২ সালে অ্যালবার্ট হলের মালিকানা বদল হল। চোরবাগানের জমিদার অভিরাম মল্লিকের পরিবার কেনে এই বাড়িটি। তার দু’টি তলা ভাড়া নিয়ে শুরু হয়েছিল কফি হাউস। কলকাতার ছোট বড় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে কাটতে লাগল। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কলকাতার আকাশে চক্কর খেতে লাগল বোমারু যুদ্ধবিমান। কফি হাউস হয়ে গেল ব্রিটিশদের সেনা ছাউনি। ব্রিটিশরা এখানেই খুলেছিল এয়ার রেড প্রিকশন সেন্টার। যুদ্ধ শেষ হল, ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হল। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ অনেক ঘাত প্রতিঘাত সয়ে কালের নিয়মে চলতে থাকল কফি হাউস। ব্রিটিশ সময়কার অ্যালবার্ট হল নাম বদলে দেশ বিদেশে সবার কাছে বেশি পরিচিতি পেল কফি হাউস নামে। কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে অনেকে হয়তো জানেন না, এই ঘরের আনাচে কানাচেতে লুকিয়ে রয়েছে স্বাধীনতার সময়ের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায়। এক্সপ্রেস ফটো-শশী ঘোষ