/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-1-2026-02-01-22-16-38.jpg)
Forest Bathing (Shinrin-Yoku): প্রকৃতির প্রতি টান, বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-2-2026-02-01-22-16-59.jpg)
ফরেস্ট বাথিং
Forest Bathing (Shinrin-Yoku): ফরেস্ট বাথিং বা বনস্নান বলতে শুধু জঙ্গলে হাঁটাহাঁটি করাকে বোঝায় না। এটি প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার এক ধরনের সচেতন অভ্যাস, যেখানে মানুষ ধীরে চলতে শেখে এবং নিজের সমস্ত ইন্দ্রিয়কে ব্যবহার করে চারপাশের পরিবেশ অনুভব করে। গাছের পাতা দিয়ে ছাঁকা আলো, মাটির গন্ধ, পাখির ডাক, বাতাসের স্পর্শ—এই সবকিছু মিলিয়ে মন ও শরীরকে এক ধরনের শান্ত অবস্থায় নিয়ে যায়। আধুনিক জীবনের দ্রুতগতি, মানসিক চাপ আর কৃত্রিম পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ার এই অভ্যাস আজ সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-3-2026-02-01-22-16-59.jpg)
বনস্নানের ধারণার উৎপত্তি
বনস্নানের ধারণার উৎপত্তি জাপানে। সেখানে আশির দশকে এটিকে মানসিক সুস্থতার একটি উপায় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হত। জাপানি সমাজে বিশ্বাস করা হত, বনভূমির পরিবেশ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং দীর্ঘদিনের মানসিক ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে এই ভাবনাটি শুধু জাপানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বহু আগে থেকেই মানুষ প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটিয়ে মানসিক শক্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-4-2026-02-01-22-16-59.jpg)
বনস্নানের মূল কথা
বনস্নানের মূল কথা হল ধীরে চলা। এখানে কোনও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছনোর তাড়া নেই, নেই পাহাড় জয়ের লক্ষ্য বা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার চাপ। বরং প্রতিটি মুহূর্তে নিজের উপস্থিতিকে অনুভব করাই আসল উদ্দেশ্য। হাঁটার সময় গাছের বাকলের খসখসে ভাব, পাতার নড়াচড়া, ঝরনার শব্দ কিংবা দূরের কোনও অচেনা পাখির ডাক—সবকিছু মন দিয়ে শোনা ও দেখা এই বনস্নানের অঙ্গ। এতে মন বর্তমান মুহূর্তে স্থির হয় এবং অযথা দুশ্চিন্তা কমে আসে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-5-2026-02-01-22-16-59.jpg)
মানসিক চাপ কমাতে
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বনস্নান মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, ঘুমের মান উন্নত করে এবং মনকে আরও স্থির এবং ইতিবাচক করে তোলে। শহরের কংক্রিটে ঘেরা জীবনে যেখানে মানুষ সারাক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকে, সেখানে প্রকৃতির সবুজ রং চোখ ও মস্তিষ্ককে স্বাভাবিক বিশ্রাম দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, অবসাদ কিংবা মানসিক ক্লান্তি কাটাতে বনস্নান সহায়ক ভূমিকা নেয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-6-2026-02-01-22-16-59.jpg)
সচেতন ভ্রমণের অংশ
আজকের দিনে বনস্নান কেবল একটি ব্যক্তিগত অভ্যাস নয়, বরং সচেতন ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বিশ্বের নানা প্রান্তের বনাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও সংরক্ষিত উদ্যানগুলোতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিজ্ঞতা বিনিময় চলছে। কোথাও স্থানীয় সংস্কৃতি, গান কিংবা গল্পের সঙ্গে বনস্নানকে মিলিয়ে দেওয়া হয়, যাতে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ইতিহাস ও বিশ্বাসকেও অনুভব করা যায়। এতে ভ্রমণ শুধু দেখা নয়, অনুভব করার এক গভীর অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-7-2026-02-01-22-16-59.jpg)
প্রয়োজন শুধু সময়
সবচেয়ে ভালো দিক হল, বনস্নানের জন্য খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। দামি সরঞ্জাম বা বিশেষ দক্ষতার দরকার পড়ে না। প্রয়োজন শুধু সময়, ধৈর্য এবং প্রকৃতির প্রতি মন খুলে দেওয়া। শহরের কাছাকাছি কোনও বনাঞ্চল, বড় পার্ক বা গাছপালা ঘেরা জায়গাও এই অভ্যাসের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। নিয়মিত অল্প সময় প্রকৃতির মধ্যে কাটালেই ধীরে ধীরে এর প্রভাব টের পাওয়া যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/forest-bathing-shinrin-yoku-2026-02-01-22-16-59.jpg)
নীরব আশ্রয়
সব মিলিয়ে বলা যায়, বনস্নান আধুনিক জীবনের চাপে ক্লান্ত মানুষের জন্য এক নীরব আশ্রয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ কোনও বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের এক প্রয়োজনীয় অংশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি কিছুটা সময় গাছের ছায়ায়, খোলা আকাশের নীচে নিজের সঙ্গে কাটানো যায়, তবে মন ও শরীর দুটিই ধীরে স্বস্তি ফিরে পায়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us